Ajker Patrika

‘ডিআইজি’ পরিচয়ে বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ২০
‘ডিআইজি’ পরিচয়ে বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজেকে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগসহ অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা টুটুল চক্রবর্তীকে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ দুই দিনের ছুটি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল টুটুল চক্রবর্তীর। তবে ছুটি শুরুর আগের দিন ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

ওই দিন নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন টুটুল চক্রবর্তী। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন টুটুল চক্রবর্তী। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড অসদাচরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব অভিযোগে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীসহ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল অভিযোগ তদন্তে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে গত ১৬ জুন দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে ওই নোটিশেরও জবাব দেননি তিনি।

পরে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়।

এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী টুটুল চক্রবর্তীকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত