হরিণমারা দেখে, হাঁটুভাঙ্গা পেরিয়ে অজস্রধারা যাওয়ার পথেরও যে একটা গল্প তৈরি হতে পারে, সেটা জানা ছিল না।
আগের দিন রাতে রওনা দিয়ে পরদিন খুব ভোরে পৌঁছেছিলাম মিরসরাই। ফজরের নামাজের পরই ছোট কমলদহ হয়ে চলে যাই একেবারে রেললাইন পার হয়ে বাউয়াছড়া উদ্যান। অতঃপর গাড়ি রেখে হাঁটা। কিছু দূর হাঁটতেই সবুজ ঘন অরণ্য। আগের রাতে বৃষ্টি ঝরায় বন্ধুর পথ বেশ পিচ্ছিল। তবু যেতে হবে প্রাণের স্পন্দন শুরু হওয়া ঝরনার কাছে। আর ঝরনা দেখতে যাওয়া মানে রোমাঞ্চের সন্ধান পাওয়া। এ পথেও তার কমতি হলো না। বাউয়াছড়ার উঁচু-নিচু পাহাড়ে হাইকিং-ট্রেকিং চলল ঘণ্টাখানেক। এরপর দৃষ্টিনন্দন ঝিরির শীতল পানি মাড়িয়ে প্রথমেই দেখা পাওয়া গেল হরিণমারা ঝরনার।
অপূর্ব এর সৌন্দর্য। সবুজ অরণ্যের মাঝে কলকল শব্দ তুলে অবিরাম ধারায় বয়ে যাচ্ছে হরিণমারা ঝরনার জল। পানির প্রচণ্ড চাপে এর সামনে বেশ বড়সড় বেসিন তৈরি হয়েছে। সেই বেসিনে হিম হিম ঠান্ডা স্বচ্ছ টলটলে পানি। তাতে ডুব দেওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে নেমে যাই পানিতে। ডুবসাঁতার আর জলকেলি চলল কিছুক্ষণ। আনন্দে বিভোর হয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে চলে গেলাম একেবারে ঝরনার নিচে, যেন তার জল পড়ে সরাসরি আমাদের শরীরে। বহুক্ষণ ভিজে এবার ছুটলাম হাঁটুভাঙ্গার পথে।
সীতাকুণ্ড রেঞ্জের ঝরনার নামগুলো বেশ অদ্ভুত। অল্প সময় হেঁটেই দেখা পাই হাঁটুভাঙ্গা ঝরনার। প্রথম দেখাতেই বুঝে গেলাম, এখানে একটু বেখেয়াল হলে নিশ্চিত যে কারও হাঁটু ভাঙবে। তাই বেশ সতর্কতার সঙ্গে এর কাছাকাছি গেলাম।
বেশ উঁচু থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। হাঁটুভাঙ্গার পানিতে শরীর ভেজানোর চেষ্টা করি। জায়গাটা বেশ পিচ্ছিল। ওপরের দিকে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু রেপ্লিং রশি ভুলে গাড়িতে রেখে যাওয়ায় সেটা আর হলো না। মন কিছুটা খারাপ হলেও এগিয়ে গেলাম আমবাড়িয়া ঝরনার দিকে। কেউ কেউ একে জিম ঝরনা নামেও ডাকে। ঝিরিপথ মাড়িয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ঝরনার কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। যাওয়ার পথে নাম না জানা বুনো ফুল আর কাঁচা-পাকা ডুমুরের ঘ্রাণ ভ্রমণ আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে থাকল। আমবাড়িয়া ঝরনায় পৌঁছেই বেশ পুলকিত হলাম। পুরো ঝরনার গায়ে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে ধাপে ধাপে পাথুরে মাটি কেটে। পানিও বেশ। এর দেহে হেলান দিয়ে কান পেতে শুনতে থাকলাম জল পতনের শব্দ। সেই অপার্থিব শিহরণের অনুভূতি ঝরনার কোলে মাথা রেখে শুনলেই বোঝা যায়।
শত আনন্দের মাঝেও পেটে টান পড়লে তা উপেক্ষা করার জো নেই। তাই আবারও ফিরলাম হরিণমারার প্রান্তরে। খড়কুটো জুগিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হলো আগুন। সেই আগুনে রান্না হলো মজাদার নুডলস। খেয়েদেয়ে ছুটলাম অজস্রধারার দিকে। এবার কিছুটা পথ ট্রেকিং করে, বোটে করে ফিরছি। বাউয়াছড়া লেকের দুই পাড়ে সবুজ বন। আর নিঝুম চারপাশ। মাথার ওপর ঝকঝকে নীল আসমান। গাছ থেকে পানিতে জংলি গোটা পড়ার টুপটাপ শব্দ। পাতা ঝরার আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। কানে ভেসে আসছে নাম না জানা নানা পাখির সুরেলা ডাক। টলটলে পানিতে সাঁতার কাটছে রংধনুর মতো সুন্দরী সুতানলি সাপ। এসব দৃশ্য দেখতে দেখতেই বোট ভেড়ে ঘাটে। এরপর কিছু দূর হেঁটে গাড়িতে চড়ে সীতাকুণ্ড।
ছোট দরগার হাট হয়ে কলাবাড়িয়ায় গাড়ি পার্ক করেই আবার হাঁটা। চলতি পথে মানুষ আর মানুষ। লেকের ধারে যেতেই সিঁড়ির গোড়ায় চোখে পড়ে ময়লার ভাগাড়। সিরিয়াল ধরে বোটে চড়তে হলো। অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য সহস্রধারা-২। অনেক মানুষের কোলাহল ওয়াটার ড্যামের নির্জনতা গিলে ফেলেছে। তবে এর সৌন্দর্য অসাধারণ। প্রথম দেখাতেই যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। বোট থেকে নেমেই অনেক উঁচু থেকে ঝরে পড়া সহস্রধারা-২ ঝরনাটি দেখে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের টার্গেট পাহাড়ের ওপরে থাকা অজস্রধারা। সময় কম, তাই গাইডকে এগোতে বলি। গাইড আর এগোয় না। শেষে আবিষ্কার করা গেল সে নিজেও অজস্রধারার পথে নতুন। কী আর করা। এদিকে বেলা তিনটা ছুঁই ছুঁই। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামে আগে। স্থানীয় দু-একজন জানাল, ট্রেকিং করে অজস্রধারা পৌঁছাতে সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। তাই আর দুঃসাহস না করে সহস্রধারা-২ থেকে ভ্রমণের ইতি টানতে হলো।
যাতায়াত
ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা বাসে যেতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাই বাজার। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছোট কমলদহ হয়ে বাউয়াছড়া উদ্যান। এক দিনের ট্রিপে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। এ পথে গেলে শুকনো খাবার এবং অবশ্যই স্থানীয় গাইড নিতে হবে।

আমাদের ফোনের গ্যালারিটা খুললেই চোখে পড়ে রাশি রাশি ছবির মেলা। কোথাও ঘুরতে গেলে পাহাড়, সমুদ্র, সূর্যাস্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তগুলো আমরা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখি। উদ্দেশ্য একটাই—সময় চলে গেলেও মুহূর্তটা যেন হারিয়ে না যায়। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, গ্যালারিতে জমে থাকা এই হাজারটা ছবির মধ্যে ঠিক...
৫ ঘণ্টা আগে
পুরুষ মানেই যে অগোছালো আর খামখেয়ালি—এ ব্যাপারটা বোধ হয় এখন আর সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ২০২৬-এ এসে পুরুষেরা অনেক বেশি রূপ ও ফ্যাশন সচেতন হয়েছেন। অফিসে, শপিং মলে বা যাওয়া-আসার পথে আশপাশে তাকালেই টের পাবেন, চলতি সময়ের পুরুষেরা নিজেদের ত্বক ও চুল নিয়ে কতটা ভাবেন।
১০ ঘণ্টা আগে
অনেক সময় সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে। এমনকি সারা দিন ক্লান্তিতে কাটে। এ ধরনের অলস সময় অনেকের যায়। সব সময় ক্লান্ত বা অবসন্ন বোধ করার পেছনে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা নানা শারীরিক কারণ জড়িত থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তির পেছনে থাকা প্রধান কারণগুলো জানা থাকলে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি মেলা সহজ হয়ে যায়।
১২ ঘণ্টা আগে
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটাই স্ক্রিননির্ভর। বাজার করার তালিকা বানানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নোট—সবকিছুতেই আমাদের আঙুল চলে কি-বোর্ডের ওপর। তবে সম্প্রতি মনস্তত্ত্ব ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে টাইপ করার চেয়ে হাত দিয়ে লেখার মধ্যে মস্তিষ্কের এক দারুণ ক্ষমতা
১৪ ঘণ্টা আগে