Ajker Patrika

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: চাপে ব্যাহত হতে পারে আকাশপথে ভ্রমণ

ফিচার ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: চাপে ব্যাহত হতে পারে আকাশপথে ভ্রমণ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলছে যুদ্ধের উত্তেজনা। দিন দিন এর পারদ বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা এখন আর শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায়ও; বিশেষ করে বিমান চলাচল, যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত বাস্তবে রূপ নিলে এ বছর মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াতকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। এতে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকার সংযোগকারী বহু রুটের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভৌগোলিক কারণে মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশনের একটি কেন্দ্রবিন্দু। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা পূর্ব আফ্রিকায় যেতে অধিকাংশ ফ্লাইট এই অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহার করে। দুবাই, দোহা কিংবা আবুধাবি—এই শহরগুলো বিশ্বের ট্রানজিট হাব হিসেবে নিজেদের দাঁড় করিয়েছে। এ কারণে ইরান, ইরাক বা আশপাশের আকাশসীমায় সামান্য অস্থিরতাও বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট সূচিতে প্রভাব ফেলে।

ভ্রমণে কোন দেশ কতটা ঝুঁকিতে

সংঘাত বাড়লে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবে ইসরায়েল। দেশটি দীর্ঘদিন থেকে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। নতুন করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আকাশসীমা বন্ধ হওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং ভ্রমণ কার্যত স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি সে দেশেই।

ইরাকও সরাসরি ঝুঁকির তালিকায়। ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করার কারণে সংঘাত যদি শুরু হয়, তাহলে ইরাকের আকাশসীমা দ্রুত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হবে।

লেবানন ও সিরিয়া আগে থেকে অস্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এই দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জর্ডান সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র না হলেও এ ধরনের যুদ্ধের প্রভাব এড়িয়ে যেতে পারবে না। সীমান্তঘেঁষা অবস্থান হওয়ার কারণে আকাশপথে দেরি, নিরাপত্তা জটিলতা এবং ট্রানজিট ভোগান্তি বেড়ে যেতে পারে দেশটিতে।

মিসর তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাত হলে দেশটিতে ফ্লাইট সংযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে, বিশেষ করে ইউরোপ-এশিয়া রুটে।

উপসাগরীয় দেশগুলো, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব যুদ্ধের বাইরে থাকলেও আকাশপথে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হবে এসব দেশেরই। ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা বন্ধ হলে ট্রানজিট ফ্লাইটের দেরি এবং বাতিলের ঘটনা বাড়বে।

কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

পর্যটনশিল্পে বড় ধাক্কার শঙ্কা

সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে গেলে প্রথমে এর বড় ধাক্কা লাগে পর্যটনশিল্পে। ইসরায়েলে পর্যটকের সংখ্যা এরই মধ্যে বেশ কমে গেছে। উত্তেজনা বাড়লে দুবাই, আবুধাবি, দোহার মতো শহরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বড় এয়ারলাইনস ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারে। এতে শুধু পর্যটক নন, ব্যবসায়িক যাত্রীরাও সমস্যায় পড়বেন।

জরুরি অভিজ্ঞতা

এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু ফ্লাইট বাতিল নয়, অনেক সময় বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আগের সংঘাতগুলোতে দেখা গেছে, ইসরায়েল অথবা তার আশপাশের এলাকা থেকে যাত্রীদের মিসর কিংবা জর্ডানের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। এ বছর পরিস্থিতি খারাপ হলে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষকে চার্টার্ড বা বিশেষ ফ্লাইট চালু করতে হতে পারে। সে জন্য সময় লাগতে পারে বেশি। সবাই একসঙ্গে বের হতে না-ও পারেন—এই বাস্তবতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি সংঘাতে রূপ নেয়নি। কিন্তু ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক ভ্রমণব্যবস্থা নাড়িয়ে দেয়। এ বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে পুরো বিশ্বের আকাশপথে।

ভ্রমণকারীদের জন্য এখন জরুরি বিষয় হলো—পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত। যুদ্ধের আশঙ্কা যখন আকাশপথকেই অনিশ্চিত করে তোলে, তখন ভ্রমণ মানে শুধু নিরাপদে গন্তব্য পৌঁছানোই নয়, বরং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও।

সূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক নিয়ে যা বলল সেনাবাহিনী

কোরিয়ান ড্রামা না বাবার দুই কোটির ঋণ, তিন বোনের মৃত্যুর নেপথ্যে কী

পাইপলাইন প্রতিস্থাপন: ২১ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানো ও হত্যা মামলা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

আগুন দিয়েছে মামুন, কাঠ দিয়েছে জুয়েল: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এসআই মালেক

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত