শারদীয় দুর্গোৎসবে নাড়ুর স্থান একেবারেই অনন্য। নারকেলের চিরাচরিত গুড় বা চিনির নাড়ু, তিলের নাড়ু কিংবা মুড়ির মোয়া তো প্রতিবছর তৈরি হয়। এবার পূজার মিষ্টির ঝুড়িতে ঐতিহ্য আর আধুনিক স্বাদের মেলবন্ধনে যোগ করতে পারেন সম্পূর্ণ চিনি ছাড়া, কোনো রকম চাল-চুলা না জ্বালিয়ে তৈরি করা স্বাস্থ্যকর ও সতেজ নারকেল লেবুর নাড়ু। খেজুরের মিষ্টতা, কাজুবাদাম ও আমন্ডের পুষ্টি আর কাঁচা লেবুর রিফ্রেশিং গন্ধ—সব মিলিয়ে পূজার বিকেলের নাশতায় কিংবা অতিথি আপ্যায়নে এই নাড়ু আনবে একটুকরো ট্রপিক্যাল আমেজ।
উপাদান ও পরিমাণ
মূল নাড়ুর উপাদান
বীজ ছাড়া খেজুর: ১ কাপ (চেপে মাপা)
কাঁচা কাজুবাদাম: ১ কাপ
কাঠবাদামের গুঁড়া: এক কাপের ৪ ভাগের ৩ ভাগ
মিষ্টি ছাড়া কোরানো নারকেল: কোয়ার্টার কাপ
লেবুর খোসাকুচি: ১ টেবিল চামচ
লেবুর রস: ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ
ভ্যানিলা এসেন্স: ৩-৪ চা-চামচ
লবণ: ১ চিমটি
কোটিংয়ের জন্য
মিষ্টি ছাড়া কোরানো নারকেল: প্রায় কোয়ার্টার কাপ
লেবুর খোসাকুচি: ১ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি
কোটিং তৈরি: একটি ছোট প্লেট বা বাটিতে কোটিংয়ের জন্য রাখা কোয়ার্টার কাপ কোরানো নারকেল এবং ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসাকুচি একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে এক পাশে সরিয়ে রাখুন।
নাড়ুর প্রস্তুত প্রণালি: ফুড প্রসেসরে বীজ ছাড়া খেজুরগুলো দিন। ব্লেন্ড করে একেবারে পেস্ট বা গোলাকার মণ্ড তৈরি হওয়া পর্যন্ত ঘুরিয়ে নিন। পেস্টটি প্রসেসর থেকে তুলে আলাদা বাটিতে রাখুন। এবার খালি ফুড প্রসেসরে কাজুবাদাম, আমন্ড ফ্লার এবং কোয়ার্টার কাপ কোরানো নারকেল দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করে মিহি মিহি গুঁড়া বা ‘মিল’ তৈরি করুন। এবার বাদামগুঁড়ার সঙ্গে আগে তৈরি করে রাখা খেজুরের মণ্ডটি ছোট ছোট ৪-৫ টুকরা করে কেটে দিয়ে দিন। সঙ্গে যুক্ত করুন ১ টেবিল চামচ লেবুর খোসাকুচি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট এবং এক চিমটি লবণ। সবকিছু একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন, যতক্ষণ না একটি নরম ও সামান্য আঠালো ডো তৈরি হয়। যদি মিশ্রণটি বেশি শুকনা মনে হয়, তাহলে সামান্য একটু লেবুর রস বা জল মেশাতে পারেন। আর যদি বেশি আঠালো হয়ে যায়, তাহলে প্রয়োজনমতো একটু কোরানো নারকেল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণ থেকে ১ টেবিল চামচ পরিমাণ ডো হাতে নিয়ে গোল নাড়ুর আকারে গড়িয়ে নিন। এবার নাড়ুটি আগে থেকে তৈরি করে রাখা নারকেল-লেবুর খোসার মিশ্রণে গড়িয়ে চারপাশ ভালো করে কোট করে নিন।
সংরক্ষণ ও পরিবেশন
- নাড়ুগুলো বানানোর পরপরই পরিবেশন করতে পারেন, অথবা কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খেলে স্বাদ আরও জমে ওঠে।
- এয়ারটাইট বয়ামে বা কনটেইনারে ভরে ফ্রিজে সাধারণ তাপমাত্রায় ১ সপ্তাহ এবং ডিপ ফ্রিজে বা ফ্রিজে ১ মাস পর্যন্ত অনায়াসে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
সূত্র: মিনিমালিস্ট বেকার










