Ajker Patrika

৫জি প্রযুক্তি: উচ্চগতির ইন্টারনেটে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কতটা

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২১
৫জি প্রযুক্তি: উচ্চগতির ইন্টারনেটে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কতটা
স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ৫জি নিয়ে বড় শঙ্কা হলো, সাইবার সিকিউরিটি। ৫জি-তে আগের চেয়ে অনেক বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয়। ছবি: পেক্সেলস

ফাইভ জি নেটওয়ার্ক বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চগতির এই ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ করে। কিন্তু সহজ জীবন পাওয়া কি এতই সহজ? কারণ অদৃশ্য এই বেতার তরঙ্গ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।

৫জি বনাম আগের প্রযুক্তি

৫জি প্রযুক্তি ৪জি বা ৩জির মতোই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে। তবে এর মূল পার্থক্য হলো ফ্রিকোয়েন্সি। ৫জি অনেক উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। ফলে ইন্টারনেটের গতি বাড়ে কয়েক গুণ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. হেঙ্ক ডি ফেটারের মতে, এটি আগের চেয়ে দ্রুততর হলেও কাজ করার ধরন মূলত একই।

রেডিয়েশন বা বিকিরণের ধরন

স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে হলে রেডিয়েশনের দুটি ধরন জানা জরুরি।

আয়নাইজিং: যেমন এক্স-রে বা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এগুলো সরাসরি ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

নন-আয়নাইজিং: আমাদের স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা মাইক্রোওয়েভ ওভেন থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় তা এই শ্রেণির। ৫জিও এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। এনওয়াইইউ রেডিওলজির প্রফেসর ক্রিস্টোফার কলিন্সের মতে, বিকিরণ তখনই ক্ষতিকর বা ‘আয়নাইজিং’ হয় যখন এর ফ্রিকোয়েন্সি ৩০ লাখ গিগাহার্টজের ওপরে যায়। সেখানে ৫জি সর্বোচ্চ ৫২.৬ গিগাহার্টজ পর্যন্ত কাজ করে, যা বিপৎসীমার চেয়ে অনেক অনেক দূরে।

৫জি প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ছবি: পেক্সেলস
৫জি প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ছবি: পেক্সেলস

৫জি কি ক্যানসার সৃষ্টি করে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এফডিএর মতো বড় সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত ৫জি-কে নিরাপদ বলে মনে করে। তাদের যুক্তি হলো, ৫জি-র তরঙ্গ উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির হওয়ায় এটি শরীরের গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। এটি বড়জোর ত্বকের উপরিভাগে সামান্য তাপ উৎপন্ন করতে পারে, যা রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ত্বকের তাপ বাড়ার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফোন গরম হওয়ার কারণ হিসেবে তারা ওয়্যারলেস সিগন্যাল নয়; বরং ফোনের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশকে দায়ী করেন।

ভিন্নমত ও সতর্কবার্তা

সব বিজ্ঞানী ৫জি-র নিরাপত্তায় শতভাগ আশ্বস্ত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ৫জি একটি নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি। ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে ১৮০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী ৫জি বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন। সারা বিশ্বের প্রায় ৩,৫০০-এর বেশি চিকিৎসক ও গবেষক ৫জি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশনের সঙ্গে উর্বরতা হ্রাস এবং স্নায়বিক সমস্যার যোগসূত্র থাকতে পারে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি বি. মিলার ৫ জির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এর বিস্তার থামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি

স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ৫জি নিয়ে বড় শঙ্কা হলো, সাইবার সিকিউরিটি। ৫জি-তে আগের চেয়ে অনেক বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয়, ফলে হ্যাকিং বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো কঠোর গাইডলাইন তৈরি করছে।

৫জি প্রযুক্তি আমাদের প্রগতির পথ খুলে দিয়েছে; কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। সময় এবং আরও গভীর গবেষণাই বলে দেবে, এই উচ্চগতির প্রযুক্তি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা বন্ধুসুলভ। আপাতত বড় সংস্থাগুলো একে নিরাপদ বললেও, সচেতন থাকা এবং দীর্ঘক্ষণ ফোনের রেডিয়েশন থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: গ্রেডিং করে ধাপে ধাপে হবে এমপিওভুক্তি

ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব

আজকের রাশিফল: প্রাক্তনের বিয়েতে গিফট বা ‘মিস ইউ’ মেসেজ পাঠাবেন না, দরজায় বিপদ

দেয়ালের ভাষা নিউজফিডে, পোস্টার থেকে পেজে

বেশি দামে কিনে কমে বিক্রি করে, দেউলিয়া হতে বসেছে পিডিবি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত