Ajker Patrika

জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত হলো মেরিলিন মনরোর দুর্লভ ছবির বই, কী রয়েছে তাতে

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৫: ০০
জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত হলো মেরিলিন মনরোর দুর্লভ ছবির বই, কী রয়েছে তাতে
বইটির পাতায় পাতায় রয়েছে বিখ্যাত সব আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় বন্দী হওয়া মনরোর বিভিন্ন রূপ। ছবি: ভোগ

হলিউডের এক চিরন্তন আইকন, মডেল ও গায়িকা মেরিলিন মনরো। তাঁর হাসিতে যেন পুরো বিশ্ব থমকে দাঁড়ায়। তিনি বেঁচে থাকলে ১ জুন পা রাখতেন শততম বছরে। মনরোর জন্মের এক শ বছর পরও তিনি এক মায়াবী ও অমীমাংসিত রহস্য হয়ে রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা কিংবা নানান আলোচনা থাকলেও মনে হয় যেন আমরা কেবল তাঁর উপরিভাগটাই দেখতে পেয়েছি। মনরোর জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘মেরিলিন মনরো ১০০: দ্য অফিশিয়াল সেন্টেনারি বুক’। মেরিলিন মনরো এস্টেট ও এটিসি আর্ট বুকসের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই বইয়ে তাঁর জীবনের প্রায় ২৭৫টি দুর্লভ ছবি জায়গা পেয়েছে। এই বই কালজয়ী এ তারকার ভেতরের অন্য এক মানুষকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে।

শতবর্ষ পরেও মেরিলিন মনরো এত জনপ্রিয় কারণ, তিনি ছিলেন এক আপসহীন মুক্ত আত্মা। ছবি: ভোগ
শতবর্ষ পরেও মেরিলিন মনরো এত জনপ্রিয় কারণ, তিনি ছিলেন এক আপসহীন মুক্ত আত্মা। ছবি: ভোগ

লেন্সের ওপারে ছিলেন এক অন্য মনরো

এই বিশেষ বইটিতে নরমা জিন (মেরিলিনের আসল নাম) থেকে শুরু করে সান্তা মনিকার সৈকতে তাঁর জীবনের শেষ ফটোশুটের নানা মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এতে শুধু তাঁর গ্ল্যামার নয়, বরং ক্যামেরার সঙ্গে তাঁর যে মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক সম্পর্ক ছিল, তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বইটির পাতায় পাতায় রয়েছে বিখ্যাত সব আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় বন্দী হওয়া মনরোর বিভিন্ন রূপ। অ্যাম্বাসেডর হোটেলে সেসিল বিটনের ক্যামেরায় ধরা পড়া মনরোর এক ‘অদম্য প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি’ রূপ, রিচার্ড অ্যাভেডনের ক্যামেরায় বিখ্যাত ও আবেগঘন ‘স্যাড মেরিলিন’ (বিষণ্ন মেরিলিন) পোর্ট্রেট, কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউড হোমে অ্যালান গ্র্যান্টের তোলা শেষ সাক্ষাৎকার ও ফটোশুটের ছবি—যেগুলো তাঁর মৃত্যুর ঠিক এক দিন আগে ‘লাইফ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল।

অ্যাম্বাসেডর হোটেলে সেসিল বিটনের ক্যামেরায় ধরা পড়া মনরোর এক ‘অদম্য প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি’ রূপ। ছবি: ভোগ
অ্যাম্বাসেডর হোটেলে সেসিল বিটনের ক্যামেরায় ধরা পড়া মনরোর এক ‘অদম্য প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি’ রূপ। ছবি: ভোগ

স্যাম শর সঙ্গে এক দশকের বন্ধুত্ব

বইটিতে মনরোর পেশাদার জীবনের পাশাপাশি আলোকচিত্রীদের সঙ্গে তাঁর গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্পও উঠে এসেছে। বিশেষ করে আলোকচিত্রী স্যাম শর সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের বন্ধুত্বের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত ‘বাতাসে উড়ন্ত স্কার্ট’-এর আইকনিক ছবিটির পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই স্যাম শ।

স্যাম শর নাতনি মেলিসা স্টিভেন্সের স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। স্যাম নিউইয়র্কের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁর কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তখন মেরিলিন তরুণী এবং অভিনয়ের কাজ খুঁজছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি কোনো তেলের খরচ ছাড়াই স্যামকে নিজের গাড়িতে করে শুটিং সেটে পৌঁছে দিতেন। স্যাম শ পরবর্তী সময়ে মনরোর এই নির্লোভ ও স্বাধীনচেতা স্বভাব সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘ভালো গল্প আর দুর্দান্ত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা ছাড়া সে অন্য কোনো অর্থের লোভে কখনোই লড়াই করেনি।’

১৯৫৪ সালে মনরো যখন নিউইয়র্কে চলে আসেন, তখন স্যামই তাঁকে শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই সময় লং আইল্যান্ডের অ্যামাগানসেট সৈকতে তাঁদের একটি দারুণ ফটোশুট হয়। সেখানে স্যাম যখন মনরোকে ‘মেডুসা’ বা ‘আফ্রোদিতি’র মতো শব্দ দিয়ে কিউ দিতেন, মনরো তাৎক্ষণিক তাঁর অভিব্যক্তিতে কখনো চঞ্চল, কখনো বিষণ্ন, কখনো একা বা গভীর চিন্তামগ্ন রূপে ফুটিয়ে তুলতেন।

লুকিয়ে রাখা এক আর্কাইভ

১৯৬২ সালে মনরোর অকালমৃত্যুর পর স্যাম শ তাঁর বন্ধুর ছবি নিয়ে কোনো বাণিজ্যিক ফায়দা নিতে বা মিডিয়ার উন্মাদনায় জড়াতে চাননি। গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি মনরোর ছবিগুলো বাক্সবন্দী করে রেখেছিলেন। ১৯৯৯ সালে স্যামের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার আবিষ্কার করে এক বিশাল গোপন আর্কাইভ। সেখানে মনরোর অসংখ্য না দেখা ছবি এবং তাঁদের নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠি খুঁজে পাওয়া যায়।

‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত ‘বাতাসে উড়ন্ত স্কার্ট’-এর আইকনিক ছবিটির পরিকল্পনাকারী ছিলেন আলোকচিত্রই স্যাম শ। এই ছবিটিও তাঁরই তোলা। ছবি: ভোগ
‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ চলচ্চিত্রের সেই বিখ্যাত ‘বাতাসে উড়ন্ত স্কার্ট’-এর আইকনিক ছবিটির পরিকল্পনাকারী ছিলেন আলোকচিত্রই স্যাম শ। এই ছবিটিও তাঁরই তোলা। ছবি: ভোগ

শতবর্ষ পরেও মেরিলিন মনরো কেন এত জনপ্রিয়? কারণ, তিনি ছিলেন এক আপসহীন মুক্ত আত্মা। মেলিসা স্টিভেন্সের ভাষায়, ‘তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু তিনি এমন এক সময়ে বাস করতেন, যা তাঁকে মুক্ত হতে দেয়নি। সমাজ স্বীকৃতি না দিলেও তিনি নিজেই নিজেকে মূল্যায়ন করেছিলেন এবং সব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আনন্দ ও রসবোধ খুঁজে নিয়েছিলেন।’

সূত্র: ভোগ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত