জেনে নিন, ঘরে আইল্যাশ এক্সটেনশন তোলার সহজ উপায়

চোখ আকর্ষণীয়, বড় ও ড্রামাটিক করে তুলতে কৃত্রিম চোখের পাপড়ি বা আইল্যাশ এক্সটেনশনের জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে আছে। মুহূর্তের মধ্যে চেহারায় এক অনন্য গ্ল্যামার যোগ করতে আইল্যাশ এক্সটেনশনের বিকল্প নেই। বিভিন্ন দৈর্ঘ্য, বাঁক ও ঘনত্বের এসব কৃত্রিম পাপড়ি চোখের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে সুন্দর এই সাজের মেয়াদ শেষে চোখের সুরক্ষা বজায় রেখে এবং নিজের প্রাকৃতিক পাপড়ির কোনো ক্ষতি না করে এক্সটেনশন সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকে সঠিক তথ্য না জেনে বা তাড়াহুড়ো করে টান দিয়ে ল্যাশ এক্সটেনশন তুলতে গিয়ে নিজের আসল পাপড়িই ছিঁড়ে ফেলেন, যা স্থায়ীভাবে পাপড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। অথচ সঠিক কৌশল, সাধারণ উপকরণ এবং ধৈর্য ধরে পারলারে না গিয়ে ঘরে বসেই নিরাপদে কৃত্রিম পাপড়ি খুলে ফেলা সম্ভব।
আইল্যাশ এক্সটেনশন তোলার সহজ ও নিরাপদ উপায়
হট স্টিম বা গরম পানির ভাপ
পাপড়ি আটকে রাখার গ্লু শিথিল করার সহজ ও ব্যথাহীন উপায় হলো গরম পানির ভাপ নেওয়া। একটি বড় পাত্রে গরম পানি নিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ১০-১৫ মিনিট মুখ ভাপের ওপর রাখুন। গরম ভাপ ও আর্দ্রতা আঠার রাসায়নিক বন্ধন ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেবে। তারপরেই আইল্যাশ এক্সটেনশন তুলে ফেলতে হবে।
অয়েল-বেসড ক্লিনজার ও প্রাকৃতিক তেল
মেকআপ রিমুভার কিংবা নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল বা এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেলের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক তেল আঠা গলাতে অসাধারণ কাজ করে। এ জন্য তুলার প্যাডে তেল নিয়ে আলতো করে পাপড়ির গোড়ায় কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন।
পেশাদার গ্লু রিমুভার
সাজগোজের দোকান থেকে ভালো মানের গ্লু রিমুভার কিনে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু চোখের আশপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এটি ব্যবহারের সময় নিজে না করে অন্য কারও সাহায্য নেওয়া নিরাপদ।

ক্ষতিকর চিমটা বা টানাটানি এড়িয়ে চলুন
পাপড়ি তোলার সময় কখনোই চিমটা বা হাত দিয়ে জোর করে টানাটানি করবেন না। এতে আইল্যাশ ফলিকলের স্থায়ী ক্ষতি হয়, চোখের পাতা পাতলা হয়ে যায় এবং অ্যালার্জি বা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ঘরে এক্সটেনশন তোলার নিয়ম
পরিচ্ছন্নতা: শুরুতে ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখের মেকআপ, ধুলোবালি ও আইলাইনারের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করে নিন।
তেল ও ভাপ: তুলায় তেল নিয়ে বন্ধ চোখের পাপড়ির গোড়ায় আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ১০ মিনিট গরম পানির ভাপ নিন। এতে আঠা নরম হয়ে যাবে।
আস্তে আঁচড়ানো: ভাপ নেওয়া শেষ হলে একটি পরিষ্কার মাসকারা ব্রাশ দিয়ে পাপড়িগুলো আলতো করে আঁচড়ে নিন। এতে ঢিলে হয়ে যাওয়া কৃত্রিম পাপড়িগুলো সহজে আলাদা হয়ে যাবে।
প্রতিরোধ না ভাঙলে পুনঃপ্রয়োগ: পাপড়ি উঠে আসতে বাধা দিলে জোর না করে পুনরায় একটু তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং নিজে থেকে খসে পড়তে দিন।

মুখ ধোয়া ও ত্বকের যত্ন: এক্সটেনশন সম্পূর্ণ উঠে এলে হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে আঠা ও তেলের পিচ্ছিল ভাব দূর করুন। সবশেষে চোখের সংবেদনশীল ত্বকে ভালো আই ক্রিম ম্যাসাজ করুন।
কখন বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন
ঘরে এক্সটেনশন তোলার মূল চাবিকাঠি হলো ধৈর্য। একবারে না উঠলে নিয়মিত রাতে প্রাকৃতিক তেল মেখে নিজে থেকে খসে পড়ার সুযোগ দিন। তবে প্রফেশনাল কড়া আঠা ব্যবহৃত হলে কিংবা ঘরে ভাপ ও তেলে কাজ না হলে জোর না করে অভিজ্ঞ ল্যাশ টেকনিশিয়ানের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এ ছাড়া এক্সটেনশন খোলার পর নিজের প্রাকৃতিক পাপড়ি সতেজ ও মজবুত রাখতে প্রতিদিন রাতে ল্যাশ সেরাম ব্যবহার করতে পারেন।
সূত্র: বিউটিফুল আইজ স্টুডিওস










