হেমন্ত মানে আসি আসি করেও না আসা শীতের মৌসুম। সারা দিনে রোদের তেজ খানিক চড়া থাকলেও বিকেল হলে শীত অনুভূত হয়। ভোরবেলায় বের হলেও খানিকটা গায়ে কাঁটা দেয়। গ্রামের দিকে বা শহর থেকে খানিকটা দূরে ফাঁকা এলাকায় এই সময়টায় শীতের পোশাক না পরলে ঠান্ডা অনুভূত হয়। আবার পুরোদস্তুর শীতের পোশাক পরলে গরম লাগে। তাই হেমন্তের পোশাক এমন হওয়া উচিত, যা গায়ে রাখলে ঠান্ডাও লাগবে না আবার গরমে ঘেমে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকবে না। তার ওপর পাওয়া যাবে ফ্যাশনেবল লুক।
হেমন্তের পোশাক কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কথা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার ও যাদুর বাক্সের স্বত্বাধিকারী মেহবুব যাদুর সঙ্গে। তিনি জানান, হালকা শীত শীত আবহাওয়ায় খুব ভারী বা হালকা-পাতলা পোশাক–কোনোটাই পরা যায় না। সে ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া যেতে পারে ফুলস্লিভ পোশাক। এসব পোশাক শরীর ঢেকে রাখে বলে ঠান্ডা কম মনে হয়। আর এখন গরমটা বেশ সহনীয়। তাই চাইলে দিনের বেলাও ফুলস্লিভ পোশাক পরা যেতে পারে।

চিরচেনা শীতের চাদর
হালকা শীতের পোশাকে যত ধরনের বৈচিত্র্য আসুক না কেন, শাল বা চাদরের কদর কোনো দিন কমবে না। শালের একঘেয়েমি নকশায় এসেছে নতুনত্ব। পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন প্রিন্ট, আর প্যাচওয়ার্কের চাদর। এ ছাড়া ফুল, লতাপাতা, পাখির এমব্রয়ডারি করা চাদর তো রয়েছেই। রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘হালকা শীতে উষ্ণতা পেতে বেছে নেওয়া যেতে পারে পাতলা গড়নের শাল। তবে এমন শাল বেছে নেওয়া উচিত, যা ব্যাগে বহন করা যায়।’
হরিতকীর সহপ্রতিষ্ঠাতা বলরাম পাল বলেন, ‘হালকা শীতে পরার জন্য ভিসকস রেয়ন ফ্যাব্রিকসের ওপর ডিজিটাল প্রিন্টের নকশা করা অনেক চাদর এসেছে। স্ক্রিন প্রিন্টের পরিবর্তে ডিজিটাল প্রিন্ট ব্যবহারের সুবিধা হচ্ছে, এই প্রিন্টের চাদর হাতে ধোয়া যায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অন্যান্য পোশাকের ওপর জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে হালকা ওজনের এসব চাদর।’
ব্লেজার ও হুডি
পুরুষের জনপ্রিয় একটি শীতপোশাক হচ্ছে ব্লেজার। এখন সুতির কাপড়ে বিভিন্ন স্টাইলের ব্লেজার তৈরি হচ্ছে। সাদামাটা রঙের বদলে এসব ব্লেজারে থাকছে হট পিংক, লাল, সবুজ, লেমনের মতো মনকাড়া রং। ফরমাল কিংবা ক্যাজুয়াল–যেকোনো লুকে ব্লেজারের তুলনা নেই। এই হালকা শীতে ব্লেজার পরা যেতে পারে। তা ছাড়া এখন পুরো বছর পরা যায় এমন ব্লেজারও তৈরি করা হয়। তবে পোশাকটির ক্ষেত্রে অবশ্যই ফিটিংসের দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ, এর ফিটিং ভালো না হলে বেমানান লাগে।
ব্লেজারের বাইরে নিট ফ্যাব্রিকস ও সুতির কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের হুডি পাওয়া যায়। এগুলো ভরা শীতে পরার উপযোগী নয়। তবে হেমন্তকালে ভোর বা সন্ধ্যায় অনেকটাই আরাম দেবে। রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, যাদুর বাক্স, ইজি, ইয়েলো, ক্যাটস আই ও এক্সট্যাসিতে পাওয়া যাবে হালকা শীতের পোশাক। নন-ব্র্যান্ড শীতের পোশাক ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটসহ জেলা শহরগুলোর সুপার মার্কেটেও পাওয়া যায়।

সুতির হাতঢাকা কটি
এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী উপযুক্ত পোশাক হচ্ছে সুতির কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন স্টাইলের কটি। বর্তমানে তরুণদের কাছে ফ্যাশনেবল কটির বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। নানান কাট ও নকশার কটি পাওয়া যায়, যা ফ্যাশনের পাশাপাশি ঠান্ডা থেকেও রক্ষা করে থাকে। শুধু কামিজ, কুর্তি বা টি-শার্টের সঙ্গেই নয়, হালকা শীতে যেকোনো অনুষ্ঠানে নারীরা শাড়ির সঙ্গেও কটি পরতে পারেন।
শীতের পোশাকে নতুনত্ব
হালকা শীতে পরার জন্য আরেকটি জনপ্রিয় পোশাক হচ্ছে সুতির পঞ্চ। পাঁচ কোনার এই পোশাক হালকা শীতের জন্য উপযোগী আর ফ্যাশনেবলও বটে। একসময় পঞ্চ শুধু উল দিয়ে তৈরি করা হতো। তাই এটি খুব বেশি শীত না পড়লে পরা যেত না। তবে এখন মোটা সুতি, খাদি, লিনেন, জর্জেটসহ বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি হয় বলে বারো মাস পরা যায়। এর মধ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য ব্লক, বাটিক, এমব্রয়ডারি কিংবা হাতের কাজ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ডলার, চুমকি, পুঁতি ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা পঞ্চ যেকোনো অনুষ্ঠানেও পরে যাওয়া যায়। এটি সাধারণত লেগিংস কিংবা জিনসের সঙ্গে বেশি পরা হয়।










