Ajker Patrika

ছুটির দিনে বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ছুটির দিনে বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?
নিয়মিত সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় ছুটির দিনে অনেক বেশি সময় ঘুমানো শরীরের জৈবিক ঘড়ির ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ঘুমের ঘাটতি এই আধুনিক জীবনে মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেকে ব্যস্ত কর্মদিবসের ঘুমের ঘাটতি ছুটির দিনে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সপ্তাহজুড়ে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর ছুটির সকালে দেরি করে ওঠা বেশ আরামদায়ক। মনে হয়, শরীর বুঝি এত দিনের ক্লান্তি পূরণ করে নিচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় ছুটির দিনে অনেক বেশি সময় ঘুমানো শরীরের জন্য সব সময় উপকারী না-ও হতে পারে; বরং ঘুমের এই অনিয়ম শরীরের জৈবিক ঘড়ির ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়।

মানুষের শরীরে রয়েছে একটি নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। ২৪ ঘণ্টার এই ছন্দ ঘুম ও জাগরণ, হরমোন নিঃসরণ এবং বিপাকক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখে। কর্মদিবসে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠে ছুটির দিনে হঠাৎ অনেক দেরি করে উঠলে এই নিয়মে পরিবর্তন আসে। ফলে অনেকটা ভ্রমণের সময়ের পরিবর্তনের মতো শরীরের ঘড়ির সঙ্গে প্রতিদিনের সময়ের একটা অমিল তৈরি হয়। এই অবস্থাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ।

ছুটির দিনে বেশি ঘুমালে কী হয়

ছুটির দিনে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরের রাতে সহজে ঘুম আসতে বাধা দেয়। বিশেষ করে শুক্রবার রাতে ঘুমাতে দেরি হলে পরের দিন অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে সময়মতো ওঠা কঠিন হয়ে যায়। ফলে নতুন সপ্তাহের শুরুতে ক্লান্তি দেখা দেয়। অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে অনেকের ঘুম ভাঙার পরও কিছু সময় ভারী লাগতে পারে। একে বলা হয় স্লিপ ইনর্শিয়া। এতে মনোযোগ ধরে রাখা, কাজে মন বসানো কিংবা স্বাভাবিক উদ্যমে দিন শুরু করা কঠিন হয়ে যায়।

নিয়মিত ছুটির দিনে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরের রাতে সহজে ঘুম আসতে বাধা দেয় এবং এ জন্য শরীরে ক্লান্তিসহ স্লিপ ইনর্শিয়া, মেজাজের ওঠানামা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস
নিয়মিত ছুটির দিনে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরের রাতে সহজে ঘুম আসতে বাধা দেয় এবং এ জন্য শরীরে ক্লান্তিসহ স্লিপ ইনর্শিয়া, মেজাজের ওঠানামা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

শুধু শারীরিক ক্লান্তিই নয়, অনিয়মিত ঘুমের সঙ্গে মেজাজের ওঠানামা, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার সম্পর্কও দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ঘুমের সময়সূচি অনিয়মিত থাকলে শরীরের হরমোন ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ওজন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেশি ঘুমিয়েও কেন ক্লান্তি লাগে

সপ্তাহের কর্মদিবসে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ঘুমের ঘাটতি তৈরি হয়। ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমালে সাময়িকভাবে স্বস্তি মিলতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের ঘুমের সময়সূচিতে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বারবার বদলে যায়। অর্থাৎ, একদিকে সপ্তাহজুড়ে কম ঘুম, অন্যদিকে ছুটির দিনে বেশি ঘুম—এই চক্র দীর্ঘ মেয়াদের ঘুমের মান অনিয়মিত করে তোলে। ফলে বেশি ঘুমিয়েও ক্লান্তি লাগে।

কীভাবে ঠিক রাখবেন ঘুমের সময়সূচি

ঘুমের ছন্দ ঠিক রাখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত সময়সূচি মেনে চলা। এ জন্য প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। ছুটির দিনেও কর্মদিবসের তুলনায় ঘুম থেকে ওঠার সময় খুব বেশি পিছিয়ে না দেওয়াই ভালো। সন্ধ্যার পর খুব বেশি চা-কফি পান এড়িয়ে চলা, ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখা এবং ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের পর্দার দিকে না তাকানো ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে। অ্যালকোহলও ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে সপ্তাহজুড়ে ঘুমের ঘাটতি থেকে গেলে শুধু ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে সেটি নিয়মিত পূরণ করার চেষ্টা না করে বরং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ছুটির সকালে একটু বেশি ঘুমানো মাঝে মাঝে স্বাভাবিক। কিন্তু কর্মদিবস ও ছুটির দিনের ঘুমের সময়ের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে তা শরীরের নিজস্ব ছন্দকে বিঘ্নিত করতে পারে। তাই ছুটির দিনের ঘুম যেন আরামের পাশাপাশি পরের দিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রারও সহায়ক হয়, সেদিকে নজর রাখা ভালো।

সূত্র: নেটমেড ডট কম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত