একটি বেল্টেই বদলে যেতে পারে লুক

ছোট্ট একটি অনুষঙ্গেই সাধারণ পোশাক হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয়, পরিপাটি ও স্টাইলিশ। তেমনই একটি অনুষঙ্গ বেল্ট। একসময় প্যান্ট বা স্কার্ট কোমরে আটকে রাখতেই এর ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও এখন এটি ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিনসের সঙ্গে চামড়ার বেল্ট, ঢিলেঢালা পোশাকের ওপর চওড়া বেল্ট কিংবা গয়নার মতো ঝুলে থাকা চেইন বেল্ট—প্রতিটি ধরনই পোশাকে যোগ করতে পারে ভিন্ন স্টাইল।
চওড়া বেল্টে নতুন ব্যক্তিত্ব
সাধারণ পোশাকে নজর কাড়তে বেছে নিতে পারেন চওড়া বেল্ট। কোমরের বেশ খানিকটা অংশজুড়ে থাকা এ ধরনের বেল্ট পোশাকের গড়নে স্পষ্ট পরিবর্তন আনে। ঢিলেঢালা শার্ট, লম্বা পোশাক, বড় মাপের ব্লেজার বা সাধারণ একরঙা পোশাকের সঙ্গে চওড়া বেল্ট মানানসই। কালো বা বাদামি রঙের চওড়া বেল্ট ক্ল্যাসিক ও মার্জিত। আবার বড় বাকল বা বিশেষ নকশার বেল্ট সাজে যোগ করতে পারে সাহসী ভাব। লম্বা শার্ট বা ঢিলেঢালা পোশাকের ওপর কোমরের কাছে বেল্ট পরলে পোশাকের গড়ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একই পোশাক নানাভাবে পরার সুযোগও তৈরি হয়।

পুঁতি ও ধাতব নকশার বেল্টে সাহসী সাজ
যাঁরা ব্যতিক্রমী সাজ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য পুঁতি বা ছোট ছোট অলংকারে সাজানো বেল্ট হতে পারে আকর্ষণীয় পছন্দ। সাধারণ বেল্টের তুলনায় এ ধরনের বেল্টের নকশা বেশি নজরকাড়া। পোশাকের অন্য অংশে খুব বেশি সাজসজ্জা না থাকলেও বেল্টটি পুরো সাজে আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে। সাধারণ টি-শার্ট ও জিনসের সঙ্গে ধাতব নকশার বেল্ট পরলে পোশাকে যোগ হয় আধুনিকতা। একরঙা টপ বা সাধারণ পোশাকের সঙ্গে পুঁতির বেল্ট ব্যবহার করলে সাজে আসে উৎসবমুখর ভাব।
সরু বেল্টে মার্জিত লুক
ফ্যাশনে সব সময় চোখে পড়ার মতো অনুষঙ্গের প্রয়োজন হয় না। কখনো ছোট ও সাধারণ একটি বেল্টও সাজকে করে তুলতে পারে পরিপাটি। সরু বেল্ট তেমনই একটি ব্যবহারিক অনুষঙ্গ। অফিসের পোশাক, সাধারণ প্যান্ট, স্কার্ট কিংবা শার্টের সঙ্গে এটি সহজে মানিয়ে যায়। কালো, বাদামি ও বেইজ রঙের সরু বেল্ট পোশাকের বহুমুখী সঙ্গী। এগুলো বিভিন্ন রঙের পোশাকের সঙ্গে পরা যায়। ফরমাল প্যান্ট ও শার্টের সঙ্গে সরু বেল্ট পরলে সাজে আসে স্মার্টনেস। সাধারণ জিনসের সঙ্গেও এটি মানিয়ে যায়।

দড়ির বেল্টে স্নিগ্ধ সাজ
বোনা দড়ি বা মোটা সুতা দিয়ে তৈরি বেল্ট সাজে আনতে পারে ভিন্নতা। গরমের দিনের হালকা পোশাক, ঢিলেঢালা জামা বা শার্টের সঙ্গে দড়ির বেল্ট বেশ মানানসই। এ বেল্টের বড় বৈশিষ্ট্য এর সহজ ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় হালকা সুতি পোশাকের সঙ্গে দড়ির বেল্ট ব্যবহার করা যায়।
চেইন বেল্টে গয়নার ঝলক
বেল্ট যখন পোশাকের পাশাপাশি গয়নার কাজ করে, তখন সাজে আসে আলাদা মাত্রা। চেইন বেল্ট তেমনই একটি অনুষঙ্গ। সোনালি, রুপালি বা মিশ্র ধাতব রঙের চেইন দিয়ে তৈরি এ বেল্ট কোমরের কাছে ঝুলিয়ে পরা যায়। কালো টপ, একরঙা পোশাক, জিনস কিংবা সাধারণ স্কার্টের সঙ্গে চেইন বেল্ট ব্যবহার করা যায়। সাদামাটা পোশাকের ওপর সোনালি বা রুপালি চেইন বেল্ট সাজে তৈরি করতে পারে দারুণ স্টাইল।
পশুর চামড়ার নকশার অনুকরণে বেল্ট
চিতাবাঘের ছোপ কিংবা সাপের চামড়ার মতো নকশার বেল্ট সাধারণ পোশাকে যোগ করতে পারে ব্যতিক্রমী সাজ। এ ধরনের বেল্টের নকশা নিজেই আকর্ষণীয় হওয়ায় সাধারণ পোশাকের সঙ্গেও এটি নজর কাড়ে। কালো, সাদা, বাদামি কিংবা অন্য কোনো একরঙা পোশাকের সঙ্গে এমন বেল্ট পরলে সাজে আসে নতুনত্ব।
পোশাকের ওপর বেল্ট পরার কৌশল
বেল্টের ব্যবহার শুধু প্যান্টের কোমরে সীমাবদ্ধ নয়। শার্ট, লম্বা টপ, ঢিলেঢালা পোশাক বা ব্লেজারের ওপরও বেল্ট পরা যায়। এভাবে বেল্ট ব্যবহার করলে পোশাকের গড়ন বদলে যায় এবং একই পোশাক নতুনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। যেমন আলমারিতে থাকা একটি ঢিলেঢালা শার্ট ড্রেস সাধারণভাবে পরার বদলে কোমরের কাছে সরু বা মাঝারি একটি বেল্ট পরা যেতে পারে। এতে পোশাকের ঢিলেঢালা ভাবের সঙ্গে কোমরের গড়নের একটি সুন্দর স্টাইল তৈরি হয়।
সূত্র: ইনস্টাইল








