
ধরুন অফিসে মিটিং চলছে। সেখানে আপনার বসের একটি আইডিয়া বা সহকর্মীর কাজের পরিকল্পনা আপনার একদম পছন্দ হলো না। আপনি এটাও নিশ্চিত যে এই পরিকল্পনা মেনে কাজ করলে প্রজেক্টটি ভালো হবে না। কিন্তু আপনি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না। ভাবছেন, সরাসরি দ্বিমত পোষণ করলে যদি বস খেপে যান? কিংবা সহকর্মী যদি মনে করেন আপনি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছেন? বিশেষ করে কেরিয়ারের শুরুর দিকে বা নতুন লিডারশিপ রোলে গেলে শক্তিশালী বা অভিজ্ঞ মানুষদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা বেশ ভয়ের ব্যাপার। অনেকেই ভয়ে চুপ থাকেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার এই নীরবতা আপনার কেরিয়ারের ক্ষতি করছে। বস বা সহকর্মীরা ভাবতেই পারেন যে আপনার নিজস্ব কোনো স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাভাবনা নেই।
তাঁরা দ্বিমত পোষণ করেন, করপোরেট দুনিয়াতে যাঁরা দ্রুত প্রমোশন পান। তবে তাঁদের বলার ধরনটা আলাদা। তাঁরা কখনোই সরাসরি বলেন না, ‘আপনি ভুল বলছেন’ বা ‘এটা অসম্ভব’। এই ধরনের শব্দগুলো আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করে জেদ তৈরি করে। তাহলে বসের সম্মান বাঁচিয়ে, নিজের সম্পর্ক নষ্ট না করে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আপনার ভিন্নমত তুলে ধরবেন? করপোরেট কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ডিকশনারি থেকে জাস্ট ‘কিন্তু’ শব্দটি বাদ দিতে হবে সবার আগে। এরপর কিছু কৌশলী বাক্যই আপনাকে রক্ষা করতে পারবে।
সরাসরি কাউন্টার অ্যাটাক না করে প্রথমে সামনের মানুষের যুক্তির একটি ভালো দিক খুঁজে বের করুন। এতে অপরপক্ষের মানুষটি ভাববেন যে আপনি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আপনি কোনো বাধা সৃষ্টি করতে আসেননি। তাঁর গার্ড যখন নেমে যাবে, তখন আপনার ভিন্নমতটি প্রকাশ করুন। শুরু করতে পারেন এভাবে যে ‘আপনার পয়েন্টটা চমৎকার। তবে এখানে আমি যে চ্যালেঞ্জটি দেখছি...’। কখনই এভাবে বলবেন না যে ‘এই বাজেটে এই কাজ করা অসম্ভব’।
টপ লেভেলের লিডাররা অনেক সময় একদম মাঠপর্যায়ের ছোটখাটো ডেটা বা কাস্টমার ফিডব্যাক জানার সুযোগ পান না। তাই তাঁদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বলুন যে আপনি তাঁদের চিন্তাভাবনায় নতুন একটি স্তর বা তথ্য যোগ করছেন। কখনই বলবেন না, ‘আপনি ভুল। বিষয়টা এমন নয়।’ প্রথমে বলুন যে তাঁর কোথার সঙ্গে আপনি একমত। তবে এই বিষয়ে আপনি বাড়তি কিছু তথ্য যোগ করতে চান। যা সবাই বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
যখন আমরা চাপে থাকি, তখন মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়, ‘এই আইডিয়ার কোনো মানে হয় না।’ এটি সরাসরি সামনের মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে আঘাত করে। তাই ফোকাসটা ব্যক্তি থেকে সরিয়ে ‘পরিকল্পনা’ বা ‘পদ্ধতি’র ওপর নিয়ে যান। ঝুঁকির কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলুন। সরাসরি ঝামেলা হবে এ ধরনের কথা না তুলে একটু ঘুরিয়ে বলুন। সম্ভাব্য সমস্যাগুলো তুলে ধরে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলতে পারেন।
‘আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাইছি যে আমরা এই বিষয়টিও মাথায় রাখছি কি না...’ এই বাক্যটি ব্লেম গেম বা দোষারোপ করা বন্ধ করে। ‘আপনি তো এটা ভুলে গেছেন’ না বলে ‘আমরা কি এটা মাথায় রাখছি’? বললে মনে হয় আপনি পুরো টিমের স্বার্থে একটি সাধারণ ওমভ্যালু মনে করিয়ে দিচ্ছেন। ‘ডেডলাইন যে পার হয়ে যাচ্ছে, সেটা আপনার খেয়াল নেই।’ এই ধরনের আক্রমণাত্মক কথা বলবেন না। বরং ঘুরিয়ে বলতে পারেন, ‘আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাইছি যে আমরা কাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় মাথায় রাখছি কি না। তা না হলে আমরা মূল ডেডলাইন মিস করতে পারি।’
কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি যখন কাউকে ভবিষ্যতের কোনো পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করবেন, তখন তার মস্তিষ্ক নিজে নিজেই সেই দৃশ্যটি কল্পনা করা শুরু করে। একে বলে ‘কোশ্চেন-বিহেভিয়ার ইফেক্ট’। বসের ওপর কাজের চাপ বাড়লে তাকে সরাসরি ‘না’ না বলে এই প্রশ্নটি করুন। ‘আমি আর নতুন কোনো প্রজেক্টের কাজ নিতে পারব না।’ এই ধরনের কথা বলবেন না। বলতে পারেন, ‘নতুন প্রজেক্টটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি নিয়ে এগোতে গেলে আমাদের বর্তমান টপ প্রায়োরিটি বা প্রধান কাজগুলো থেকে কোনটিকে সাময়িকভাবে পেছনে রাখতে হবে, সে বিষয়ে আপনার গাইডেন্স দরকার।’
ভিন্নমতের সময় ‘তুমি/আপনি ভুল করছেন’ না বলে সব সময় নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে কথা বলুন। যেমন ‘আমার মনে হয় ডেটাতে কিছুটা অমিল আছে’ কিংবা ‘আমি এই বিষয়টিকে একটু অন্য অ্যাঙ্গেল থেকে দেখছি’। কর্মক্ষেত্রে গঠনমূলক দ্বিমত পোষণ করা কোনো অপরাধ নয়। বরং এটি আপনার আত্মবিশ্বাস ও লিডারশিপ কোয়ালিটি প্রকাশ করে। শুধু বলার ধরনে একটু কৌশলী ও ইতিবাচক হোন, দেখবেন বসের রাগ নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে আপনার সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে।
সূত্র: সিএনবিসি, মিডিয়াম

মা-বাবা পৃথিবীর এমন দুজন মানুষ, যাঁরা সন্তানের কাছে প্রথম আশ্রয় ও বিশ্বাসের জায়গা। পরিবারে অন্য় যত অভিভাবকই থাকুক না কেন, কেউই মা-বাবার ভূমিকায় রূপ দিতে পারেন না, এ কথা সত্য়। সন্তানের মানসিক বিকাশে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
৪ ঘণ্টা আগে
একটি সসপ্যানে, দুধ, চিনি এবং কর্নস্টার্চ যোগ করে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। নিরন্তর নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়। চুলার আঁচ বন্ধ করে ভ্যানিলা নির্যাস যোগ করুন। এরপর মিশ্রণটি নাড়তে নাড়তে ঘন করুন। এটি কয়েকটি ছোট বাটি বা গ্লাসে ঢেলে প্রায় ১০ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন।
৬ ঘণ্টা আগে
রাতে হঠাৎ যদি বাড়িতে অতিথি আসেন, তাহলে রাত্রিভোজের আয়োজন তো করতেই হয়। এই গরমে গরু বা খাসির মাংস খেয়ে খুব একটা আরাম পাওয়া সম্ভব নয়। তাই হালকা কিছুই রান্না করুন। আপনাদের জন্য ডিমের পোলাওয়ের রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
২০ ঘণ্টা আগে
বিশ্বকাপে মাঠের ফুটবল আগের মতোই থাকছে—সেটি গোল, ড্রিবলিং, ট্যাকটিকস আর মাঠের রোমাঞ্চের চিরচেনা সেই খেলা। তবে ম্যাচের ভেতরের প্রতিটি সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত বিতর্কহীন করতে এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দিতে এ বছরের ফুটবল বিশ্বকাপের আসর হতে যাচ্ছে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি মেলা...
১ দিন আগে