Ajker Patrika

কেনাকাটাপ্রেমীদের জন্য এশিয়ার ১২ ভ্রমণ গন্তব্য

ফিচার ডেস্ক
কেনাকাটাপ্রেমীদের জন্য এশিয়ার ১২ ভ্রমণ গন্তব্য

কেনাকাটা কিংবা শপিং শুধু প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন ভ্রমণ-সংস্কৃতির অন্যতম বড় আকর্ষণ। ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত বিশ্বসেরা ৫০টি শপিং গন্তব্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার ১২টি বৈচিত্র্যময় শহর। আধুনিকতার ঝলকানি, ঐতিহ্যবাহী বাজার এবং অনন্য সাংস্কৃতিক পণ্যের পসরা নিয়ে তৈরি এই গন্তব্যগুলো যেকোনো শপিংপ্রেমীর ড্রিম লিস্টের শীর্ষে থাকার মতো।

তালিকার সেরা ১০

তালিকার প্রথমেই আছে লন্ডন। বন্ড স্ট্রিট ও সেভিল রোর লাক্সারি আইটেম থেকে শুরু করে ক্যামডেন ও পোর্টোবেলো মার্কেটের ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিশ্রণে সেজে উঠেছে এখানকার শপিং মলগুলো। এরপরেই আছে ইতালির মিলান শহর। ভিয়া মন্তেনাপোলিওনে ও কোয়াড্রিলেতেরো দেল্লা মোদার ডিজাইনার পোশাক, চামড়ার জিনিসপত্র এবং ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় কারুশিল্প পাবেন সেখানে। এরপর আছে নিউইয়র্ক সিটি। সেখানে ফিফথ অ্যাভিনিউর ফ্ল্যাগশিপ শপ থেকে শুরু করে সোহোর বুটিক ও ভিনটেজ শপগুলো শপিংপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। ফ্যাশন, ইলেকট্রনিকস ও জুয়েলারির সেরা বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে সেখানে। চতুর্থ স্থানে আছে চীনের সাংহাই। সেখানে নানজিং রোড ও হুয়াইহাই রোডের চারপাশে আধুনিক শপিং মল ও চীনের ঐতিহ্যবাহী রেশম, চা এবং ফ্যাশনের মিলনমেলা। পঞ্চম স্থানে আছে প্যারিস। সেখানে অ্যাভিনিউ মনটেইন ও রু সেন্ট-অনোরের কৌচার, পারফিউম, অ্যান্টিকস এবং ফরাসি কারুশিল্পের সমাহার। এরপরেই আছে যথাক্রমে টোকিও, জুরিখ, সিডনি, সিউল ও ভিয়েনা।

শপিং গন্তব্যের এশিয়ার সেরা ১২

তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে তিনটি শহর এশিয়া মহাদেশের তিন দেশের। সেগুলো যথাক্রমে চীনের সাংহাই, জাপানের টোকিও এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল। চীনের বেইজিং নানজিং রোড ও হুয়াইহাই রোডের আধুনিক মল, রেশম, উন্নত প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী চায়ের জন্য সমাদৃত হয়ে উঠেছে। জাপানের টোকিওতে আছে গিনজার লাক্সারি বুটিক, হারাজুকুর স্ট্রিট ফ্যাশন এবং আকিহাবারার ইলেকট্রনিকস ও অ্যানিমে সংগ্রহ। তালিকায় নবম স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ময়ংডং ও গ্যাংনামের বিশ্বখ্যাত কে-বিউটি, ফ্যাশন এবং ট্রেন্ডি ইলেকট্রনিকসের জন্য জনপ্রিয়। দুবাই মলের মতো বিশাল লাক্সারি মল, খাঁটি সোনার জুয়েলারি, সুগন্ধি ও ঐতিহ্যবাহী গোল্ড সওকও পর্যটকদের শপিংয়ের দিকে ঠেলে দেয়। আর তাই তালিকায় ১১ নম্বরে আছে দুবাই। এরপরেই আছে সিঙ্গাপুর। সেখানে মানুষের চোখ খোঁজে অরচার্ড রোডের গ্লোবাল ব্র্যান্ড, মারিনা বে এবং স্থানীয় পেরানাকান হস্তশিল্প এবং ইলেকট্রনিকসের জিনিস। এরপর ১৬ নম্বরে আছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি। বেন থান মার্কেটের হাতে তৈরি ল্যাকারওয়্যার, ভিয়েতনামের সিল্ক, কফি ও নিজস্ব ট্রেইলারিং পর্যটকদের মূল আকর্ষণের জায়গা।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আছে ২০তম নম্বরে। বুকিত বিনতাং ও সেন্ট্রাল মার্কেটের বাটিক প্রিন্ট, পিউটার হস্তশিল্প এবং মাল্টি-কালচারাল ফ্যাশন সেখানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। গ্র্যান্ড বাজার ও স্পাইস বাজারের হাতে বোনা গালিচা, সিরামিক, সুগন্ধি মসলা এবং লেদারের জিনিসের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল। এ শহর আছে তালিকার ২১ নম্বরে। আমাদের পাশের দেশ ভারতের মুম্বাই শহর আছে ২৩ নম্বরে। এরপর ৩২ নম্বরে আছে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, ৩৫ নম্বরে ফিলিপাইনের মেট্রো ম্যানিলা আর ৩৯ নম্বরে আছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।

যেভাবে তৈরি হলো এই আন্তর্জাতিক তালিকা

কোন শহরের শপিং মল কত বড় বা বছরে কত টাকার বিক্রি হয়, শুধু তার ওপর নির্ভর করে এই তালিকা তৈরি হয়নি। এখানে ভ্রমণকারীদের সার্বিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে কতটা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা যাচাই করা হয়েছে। মোট ১০০ পয়েন্টের মূল্যায়নে ৯টি ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। কেনাকাটার বৈচিত্র্য, স্থানীয় শপিং সংস্কৃতি, লাক্সারি ও প্রিমিয়াম রিটেইল, সাশ্রয়ী শপিং ও বাজার, আইকনিক শপিং এলাকা, যাতায়াত ও অবকাঠামো, পর্যটকদের আকর্ষণের স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় মান বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কারিগরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ফ্রি মার্কেট এবং ঐতিহ্যবাহী ফুড হলের অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়েছে।

সূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ওয়ার্ল্ড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত