
কখনো কখনো রূপচর্চার উপকরণগুলো মিলে গেলেও দেশ ও অঞ্চলভেদে রূপচর্চার ধরনে পার্থক্য হয়। যেমন চীন বা জাপানের রূপচর্চার ধরন একই রকম হতে পারে। কিন্তু সেই দেশগুলো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রূপচর্চার ধরন এবং অনেক ক্ষেত্রে উপকরণে ব্যাপক পার্থক্য থাকবে। একই ভাবে বাংলাদেশের রূপচর্চার সঙ্গে আরব অঞ্চলের রূপচর্চার মধ্যে পার্থক্য আছে বিস্তার।
আরব দেশগুলোর অন্দরমহলে উঁকি দিলে অদ্ভুত সুন্দর সুঘ্রাণ পাওয়া যায়— কখনে তা টাটকা খেজুরের, কখনো এলাচি মেশানো চায়ের, আবার কখনো সুগন্ধি উদ-এর। তবে এই সুঘ্রাণ শুধু রসনাবিলাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাজার বছর ধরে আরবের নারীরা তাদের রূপলাবণ্য ধরে রাখতে এই সাধারণ উপাদানগুলোকেই ব্যবহার করে আসছে। আধুনিক প্রসাধনীর ভিড়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন এই সাধারণ উপাদানগুলোই হতে পারে রূপচর্চার খুবই সহজ সমাধান। কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর বদলে ঘরোয়া এই উপাদানগুলো নিয়েই এবারের আয়োজন।
গোলাপজল
আরব নারীদের রূপচর্চার জগতে গোলাপজল এক অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ ক্লান্তি বা ভ্রমণের পর মুখে গোলাপজলের ঝাপটা দিলে ত্বকের লালচে ভাব দূর হয় এবং পিএইচ ভারসাম্য বজায় থাকে।
কালিজিরা
ইসলামিক ও আরব্য সংস্কৃতিতে কালিজিরাকে বলা হয় ‘অলৌকিক প্রতিকার’। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণ ত্বকের গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়। রাতে ঘুমানোর আগে এক ফোঁটা কালিজিরার তেল সিরাম হিসেবে ব্যবহার করলে চেহারায় উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

আরগান অয়েল
মরক্কোর নারীদের উজ্জ্বল ও ঝলমলে চুলের গোপন রহস্য হলো আরগান অয়েল। এটিকে মরক্কোর তরল স্বর্ণ বলা হয়। বর্তমানে বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্টাইলিস্টদের পছন্দের শীর্ষে থাকা এই তেল চুলের রুক্ষতা ও আগা ফাটা রোধ করে এবং ত্বকের শুষ্কতা দূর করে বিশেষ সজীবতা আনে।
মধু
প্রাকৃতিক আর্দ্রতার উৎস মধু হতে পারে আপনার সেরা বিউটি মাস্ক। এতে রয়েছে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ, যা ত্বক সতেজ ও নরম রাখে। রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে সামান্য মধু লাগালে তা লিপগ্লসের চেয়েও ভালো কাজ করে।
উটের দুধ
উটের দুধে থাকা আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড ও ভিটামিন ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। প্রাচীন বেদুইনদের এই রূপচর্চার পদ্ধতি এখন আধুনিক অনেক দামি ফেসমাস্কেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত রোদে পোড়া ত্বকের প্রশান্তিতে দুর্দান্ত কাজ করে।
অলিভ অয়েল
লেভান্তাইন সভ্যতা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অলিভ অয়েলের কদর কমেনি। এটি ত্বক ভেতর থেকে পুষ্ট করে এবং একধরনের উজ্জ্বল ভাব নিয়ে আসে। গোসলের আগে বা রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য দারুণ ময়েশ্চারাইজার।
ক্যামোমাইল চা
এক কাপ ক্যামোমাইল চা যে শুধু মনকেই শান্ত করে, তা নয়। বরং এর প্রাকৃতিক নির্যাস ত্বকের সংবেদনশীলতা কমায়। এতে থাকা অ্যাপিজেনিন ত্বকের জ্বালাপোড়া কমিয়ে ভেতর থেকে একধরনের প্রশান্তি ও সজীবতা ফিরিয়ে আনে।
কফি
আরব দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় পানীয় কফি ত্বকের মৃত কোষ দূর করার সেরা প্রাকৃতিক উপকরণ। এর শক্তিশালী ক্যাফেইন ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ত্বক ভেতর থেকে টান টান ও সজীব করে তোলে। কফির গুঁড়া ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা স্ক্রাব ব্যবহার করলে মুহূর্তেই ফেসিয়াল গ্লো পাওয়া সম্ভব।
টকদই
আপনার ত্বক যদি রোদে পুড়ে গিয়ে থাকে, তবে টকদই আপনার জন্য হতে পারে সেরা সমাধান। এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের কালচে ভাব দূর করে। দইয়ের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক হয় দ্বিগুণ উজ্জ্বল।
মেহেদি
কেমিক্যালযুক্ত রঙের বদলে বরং মেহেদি গুঁড়া চুলের জন্য উপকারী। এটি মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। নারকেল তেল বা কালো চায়ের লিকারের সঙ্গে মেহেদি মিশিয়ে চুলে লাগালে তা প্রাকৃতিকভাবে ঝলমলে হয়।
সূত্র: ভোগ অ্যারাবিয়া ও অন্যান্য

সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১ ঘণ্টা আগে
শসা ফল হলেও সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। রমজান মাসে যখন দীর্ঘ সময় পানাহারে বিরত থাকতে হয়, তখন শসা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। এতে পানির পরিমাণ এবং এর খাস্তা ভাব ফলের চেয়ে বেশি কার্যকরী...
৩ ঘণ্টা আগে
গাজরের রস প্রয়োজনীয় ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশে ভরপুর একটি পানীয়। শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গাজর অনন্য। এক কাপ গাজরের রসে মাত্র ৯৪ ক্যালরি থাকে। রমজান মাসজুড়ে আমরা বিভিন্ন জুস পান করে থাকি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত। সেই স্মুদি কিংবা শরবতের লিস্টে এবার যোগ করতে পারেন গাজর
১৯ ঘণ্টা আগে
ঈদের আনন্দ মানেই প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা, সুস্বাদু খাবার আর নিজেকে একটু বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা। নিখুঁত পোশাকের সঙ্গে যদি মানানসই মেকআপ না থাকে, তবে ঈদের সাজ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তবে উৎসবে ভারী মেকআপ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ থাকা যেমন কষ্টের, তেমনি সময়ের অভাবে অনেকে খুব বেশি সাজতে পারেন না। তাই আজকের আয়োজনে
১ দিন আগে