এপারে খাগড়াছড়ির তবলছড়ি, ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।
সারা রাত বাস জার্নি করে সকালে ডাকবাংলোতে নামতেই আমাদের স্বাগত জানালেন স্থানীয় ভ্রমণবান্ধব যুবক শাহজাহান। আলাপচারিতা শেষে আমরা তাঁর বাড়ি যামিনীপাড়া গ্রামের পথে হাঁটতে শুরু করি। সকালের সোনামাখা রোদে পাহাড়ি গ্রামীণ পথ, গাছের পাতার ফাঁক গলে ঠিকরে পড়া সূর্যের কিরণ, অচেনা পাখির কলতান—সব মিলিয়ে অসাধারণ এক পরিবেশ।
আধা ঘণ্টার কম সময় হেঁটে পরিপাটি এক মাটির ঘরের সামনে গিয়ে হাজির হই। যেখানেই যাই না কেন, আজকের রাতটা এখানেই কাটবে। তাই সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগগুলো ঘরের ভেতর গুছিয়ে রাখতে রাখতেই অন্দরমহল থেকে নানান পদের তেলের পিঠা আসতে লাগল। অপ্রত্যাশিতভাবে চোখের সামনে আসা পছন্দের পিঠাগুলো লাজলজ্জার মাথা খেয়ে সবাই একযোগে সাবাড় করে ফেলি। এরপর পর্দার অন্তরালে থাকা শাহজাহানের মা-বোন-পত্নীকে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দিয়ে বড় খুমের পথে বেরিয়ে পড়ি।
চৈতালি রোদে ইটের সলিংয়ের ওপর দিয়ে ঘণ্টাখানেক হাঁটলেই টিপরাপল্লির বড় পাড়া। স্থানীয় পাহাড়িদের জুমখেতের তরমুজ খেয়ে সেগুনবনে ঢুকে পড়ি। বিশাল অরণ্য! এখান থেকে শুরু মূল হাইকিং-ট্রেকিং। কমবেশি প্রত্যেকের হাতে, কাঁধে ও মাথায় হাঁড়ি-পাতিল আর বাজারসদাই।
হাঁটার সময় ঝরাপাতার মর্মর শব্দ। পাতার স্তূপ জমে কোথাও কোথাও দু-তিন ফুট উঁচু হয়ে গেছে। সেগুনপাতা মাড়িয়ে যেতে যেতে পা পড়ল ঝিরির জলে। তারই মাঝ বরাবর ছোট-বড় পাথরের সারি। নয়নাভিরাম ঝিরিপথ। দুপাশে উঁচু পাহাড়। সেই পাহাড়ে পাতাহীন দিগন্তছোঁয়া শত সহস্র সেগুনগাছ। চোখে-মুখে ঝিরির শীতল পানির ঝাপটা দিতে ক্লান্তি উবে যায়। ক্লান্তি মিলিয়ে যেতেই চোখে পড়ে সামনে খাড়া পাহাড়! সঙ্গে প্রশিক্ষিত কোনো গাইড নেই। তবে কষ্টসহিষ্ণু ভ্রমণবন্ধু রতন, রফিক, তুহিন, কচি, বিদ্যুৎ, শাহীন ও সৌরভ আছে। তাই ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই।
খেজুর আর বিস্কুট খাওয়ার বিরতি পাওয়া গেল খুব অল্প সময়। তারপরই শুরু হলো ট্রেকিং। ঘণ্টা দুয়েক হাইকিং শেষে দেখা মেলে বড় খুম ঝরনার। এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি! চৈত্রের প্রচণ্ড খরার মাঝেও বড় খুম ঝরনার পানি বইছে রিমঝিম শব্দ তুলে। এই পানি পড়ে ঝরনার সামনে তৈরি হয়েছে বিশালাকার বেসিন। সে কারণেই ত্রিপুরার অধিবাসীরা একে বড় খুম বলে। খুম শব্দের অর্থ গর্ত। ঝরনার চারপাশের প্রকৃতি দারুণ। ভরা বর্ষায় নিশ্চিত বড় খুম ঝরনার গর্জন হবে চমৎকার। কিছুটা সময় সেখানে ফটোশুট চলে। সকাল গড়িয়ে দুপুর, এবার যাই এবার গলাচিপা খুম।
গলাচিপার দিকে কিছুটা পথ এগোতেই সবার পেটে পড়ল টান। জুতসই একটা জায়গা দেখে শুরু হলো রান্নার মহাযজ্ঞ। কেউ বনে গেল লাকড়ি কুড়াতে। কেউ গেল ঝিরিতে বিশুদ্ধ পানির খোঁজে। কেউবা পাহাড় খুঁড়ে বানাল চুলা। অল্প সময় পরই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলল চুলায়। অল্প সময়ের মধ্যে ভাত-তরকারি রান্না শেষ। মুরগির সালুনে কি ঘ্রাণ! জঙ্গল থেকে কেটে আনা কলাপাতায় খাওয়া হলো ভাত। খাওয়া শেষে এক কাপ লাল চা পান করে আবারও ছুটে চলা গলাচিপা খুমের পথে।

এবারের পথ একেবারে নির্বাক সিনেমার মতো। কোথাও কেউ নেই। এতক্ষণ তা-ও দু-একজন পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এপাশটায় তা-ও নেই। নীরব-নিস্তব্ধ প্রকৃতিরও একটা নিজস্ব শব্দ আছে। তবে এদিকটার ঝিরির পানিও বেশ স্বচ্ছ আর টলটলে। পথ চলতে চলতে সূর্যটা কিঞ্চিৎ পশ্চিমে হেলে পড়েছে। তাই আরেকটু গতি বাড়িয়ে অবশেষে গলাচিপা খুমের প্রান্তে উপস্থিত হলাম আমরা। জীবনের এ সময় পর্যন্ত বহু খুম দেখেছি। কিন্তু গলাচিপার আকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকটা ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের মতো। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আকৃতিও ভয়ানক!
মায়ায় পড়ে এর বুকে ঝাঁপ দেওয়া যাবে না। বিপদ আছে। তাই গলাচিপার ওপর দিকে যেতে থাকলাম। কিন্তু পার হতে হবে বেশ বিপজ্জনক কণ্টকাকীর্ণ পথ—সামান্য ভুল হলেই সোজা খুমের গহ্বরে। আদতে পাহাড় ভ্রমণে এ রকম বিপৎসংকুল পরিবেশ-পরিস্থিতির মুখোমুখি না হলে মনের মাঝে একটা উত্তেজনাপূর্ণ ভাব আসে না। এ রকম পরিস্থিতিই পাহাড়প্রেমীদের রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্ম দেয়। পায়ের চাপে পাতা সরলেই দেখা যায় তলা ফাঁকা। সরু পথ। ধরার মতো শক্ত শিকড় নেই। কয়েক ইঞ্চি এদিক-ওদিক পা পড়লেই গলাচিপার পেটে!
‘প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’—এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে পেরিয়ে গেলাম সরু পথ—কোনো বিপদ ছাড়াই। বিজয়ের একটা হাসি দিয়ে, বুকভরা নিশ্বাস নিয়ে দেখি চারপাশের অবারিত প্রকৃতি। পুরোপুরি আদিমতা ভর করে আছে। প্রকৃতিই সাক্ষ্য দিচ্ছে, এখনো সাধারণ পর্যটকদের আগমন ঘটেনি গলাচিপা খুমের প্রান্তরে। ঝিরির শীতল পানিতে জলকেলিতে মেতে উঠি। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামে আগে। তাই চটজলদি ফিরতি পথ ধরি।
যাতায়াত
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ডাকবাংলো পর্যন্ত যেতে হবে বাসে। সেখান থেকে বড় পাড়া টিপরাপল্লি।
খাবারদাবার
সঙ্গে শুকনা খাবার ও পানি রাখবেন।
যা করতে হবে
স্থানীয় অভিজ্ঞ কাউকে পথপ্রদর্শক হিসেবে সঙ্গে নিতে হবে। তাঁর পারিশ্রমিক আগেই ঠিক করে রাখুন। রাতের বেলা যামিনীপাড়ায় কারও বাড়িতে কিংবা নিজেদের তাঁবুতে থাকতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে বৃষ্টিতে ভেজার ছোট ছোট ভিডিও। সেসব ভিডিওতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে রোমান্টিক গান কিংবা কবিতা। এই রোমান্টিক ভাবটা যে শুধু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, এমন নয়। ব্যক্তিমনে এর বিস্তার অনেক বেশি। ভেবেছেন কি, বৃষ্টি কেন মনে রোমান্টিক অনুভূতি তৈরি করে...
৫ ঘণ্টা আগে
আকাশে মেঘ করেছে দেখে খিচুড়ি খেতে চান না, এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। রাতের ভোজে যাঁরা খিচুড়ি খাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি দেখে রেঁধে ফেলুন মেঘলা দিনে ছাকবাটা খিচুড়ি...
৭ ঘণ্টা আগে
আবহাওয়া খারাপ থাকলে সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ করা অনেক সময় রোমাঞ্চকর মনে হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণের সময় ঝড়বৃষ্টিতে আটকে গেলে নিরাপত্তার জন্য জেনে নিতে হবে বিভিন্ন সতর্কসংকেত। এগুলো জানলে নিজেরাই বুঝতে পারবেন, কখন কী করতে হবে নিরাপত্তার জন্য।
১৩ ঘণ্টা আগে
আধুনিক শহরের আভিজাত্য কেবল উন্নত যাতায়াতের ব্যবস্থা বা উন্নত সংস্কৃতিতে থাকে না। বিষয়টি নিহিত থাকে তার প্রকৃতি ও সবুজের সহজলভ্যতার ওপর। সম্প্রতি টাইম আউট ম্যাগাজিন তাদের বার্ষিক জরিপে এ বছরের সেরা সবুজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকার শীর্ষ স্থান দখল করেছে যুক্তরাজ্যের শান্ত শহর বাথ।
১৪ ঘণ্টা আগে