Ajker Patrika

প্রতিদিন ১৫ মিনিট ‘বিরক্ত’ থাকলে নতুন আইডিয়া আসবে মাথায়, বলছে গবেষণা

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
প্রতিদিন ১৫ মিনিট ‘বিরক্ত’ থাকলে নতুন আইডিয়া আসবে মাথায়, বলছে গবেষণা
দিনে ১৫ মিনিট বিরক্ত হলে নতুন নতুন আইডিয়া আসতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

বিরক্তি হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বিষয়! না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন এই তথ্য।

আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা একমুহূর্তও বিরক্ত হতে চাই না। বাসের জন্য অপেক্ষা করছি? মোবাইল ফোন বের করি। লিফটের জন্য ১৫ সেকেন্ড দাঁড়াতে হবে? স্ক্রলে ডুবে যাই। একঘেয়েমি, বিরক্তি বা বোরড শব্দগুলো শুনলে আমাদের চোখে অলস বা নেতিবাচক ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে একদম উল্টো কথা। আপনি যদি সৃজনশীল হতে চান কিংবা জীবনের গভীর কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান, তবে আপনার প্রথম কাজ হলো ‘বিরক্ত’ হওয়া। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর্থার সি ব্রুকস এবং গবেষক স্যান্ডি ম্যান বলছেন, ‘এই যে আমরা বিরক্তিকে ভয় পাচ্ছি, এটাই আমাদের জীবনের বড় ক্ষতি করছে।’

বিরক্তি যখন সৃজনশীলতার জ্বালানি

‘একাডেমি অব ম্যানেজমেন্ট ডিসকভারিজ’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা খুব বিরক্তিকর কোনো কাজ করার পর সৃজনশীল কাজে হাত দিয়েছেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি ইউনিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত আইডিয়া বের করতে পেরেছেন। এর কারণ হলো, যখন আমাদের মস্তিষ্ক বাইরের জগৎ থেকে কোনো উদ্দীপনা বা স্টিমুলেশন পায় না, তখন সে বাধ্য হয়ে নিজের ভেতরে উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে। এই ‘ভেতরে যাওয়া’ থেকেই জন্ম নেয় দারুণ সব আইডিয়া।

মস্তিষ্কের বিশ্রামঘর

যখন আমাদের করার কিছু থাকে না, তখন মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ সচল হয়। একে বলা হয় ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক। এটি তখনই কাজ শুরু করে, যখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকি না। এই মোডেই আমরা জীবনের বড় বড় প্রশ্ন, যেমন জীবনের অর্থ কী, আমি কিসে সুখী এসব নিয়ে ভাবার সুযোগ পাই। স্মার্টফোনের স্ক্রল আমাদের এই নেটওয়ার্কটিকে বন্ধ করে দেয়, যার ফলে আমাদের জীবনে অর্থহীনতা বা শূন্যতা বোধ বেড়ে যাচ্ছে।

মোবাইল ফোনের আসক্তি ও ডোপামিন লুপ

আমরা যখনই বিরক্ত বোধ করি, মোবাইল ফোন বের করে ডোপামিন নামক হরমোনের সাময়িক আনন্দ পেতে চাই। অধ্যাপক ব্রুকস বলছেন, ‘এটি একটি মরণফাঁদ। আমরা যত বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছি, আমাদের বিরক্তি সহ্য করার ক্ষমতা তত কমছে। এর ফলে আমরা সাধারণ কাজেও আনন্দ পাচ্ছি না, যা বিষণ্নতা ও উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

বিরক্তি বোধ হলে যা করবেন

একঘেয়েমি বা বিরক্তি বোধ হলেই যে ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে হবে, এমন নয়। বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে এমন কিছু করতে হবে, যাতে কোনো মনোযোগের প্রয়োজন থাকে না।

মোবাইল ফোন ছাড়া হাঁটুন: পরিচিত কোনো রাস্তায় গান বা পডকাস্ট ছাড়াই হাঁটুন। আপনার মনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিন।

জিম বা ড্রাইভিং: জিমে ব্যায়াম করার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় রেডিও বা মোবাইল ফোন বন্ধ রাখুন। শুধু নিজের চিন্তার সঙ্গে সময় কাটান।

ডিজিটাল ফাস্টিং: সন্ধ্যা ৭টার পর মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, খাওয়ার টেবিলে সেটি না রাখা এবং মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে লম্বা বিরতি নেওয়া জরুরি।

প্রাপ্তি কী

আপনি যদি দিনে অন্তত ১৫ মিনিট স্বেচ্ছায় ‘বিরক্ত’ হতে পারেন, তবে দেখবেন—

  • আপনার নতুন সব কাজের আইডিয়া আসছে।
  • আপনি আপনার চাকরি বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম বিরক্ত বোধ করছেন।
  • আপনার মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ছে।
  • জীবনের উদ্দেশ্য এবং খুশি সম্পর্কে আপনি পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছেন।

এরপর যখন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন বা কারও জন্য অপেক্ষা করবেন, তখন পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি বের করবেন না। একটু বিরক্ত হোন, মস্তিষ্ককে অলসভাবে ঘুরে বেড়াতে দিন। কে জানে, হয়তো জীবনের সেরা আইডিয়াটা সেই মুহূর্তেই আপনার মাথায় আসবে!

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত