Ajker Patrika

ভাইরাল ‘ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল’ কীভাবে করা হয়? জেনে নিন এর উপকারিতা

নাহিন আশরাফ 
ভাইরাল ‘ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল’ কীভাবে করা হয়? জেনে নিন এর উপকারিতা
ত্বকের উজ্জ্বলতা, ব্রণের দাগ, ত্বকের অসমান রং এবং বয়সের ছাপ কমানোর জন্য ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল খুব ভালো কাজ করে বলে জানা যায়। ছবি: পেক্সেলস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ত্বকের যত্ন নিয়ে নতুন নতুন পদ্ধতি প্রায়ই আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ‘ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল’ নামটি বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, ত্বকের এই যত্নে ব্যবহার করা হয় রক্ত। ত্বকের যত্ন বলার চেয়ে একে চিকিৎসাপদ্ধতি বলাই বেশি মানানসই। বিশেষ করে ত্বকের উজ্জ্বলতা, ব্রণের দাগ, ত্বকের অসমান রং এবং বয়সের ছাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো কাজ করে বলে জানা যায়। ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল আসলে কী? কীভাবে করা হয়? এর উপকারিতাই-বা কতটা? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে চিকিৎসাটি কাদের উপযোগী তা বোঝা সহজ হবে।

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল কী

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়ালে দুটি পদ্ধতির সমন্বয় করা হয় মাইক্রোনিডলিং এবং প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি। মাইক্রোনিডলিংয়ের মাধ্যমে ত্বকে খুব সূক্ষ্ম ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করা হয়। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং নতুন কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, পিআরপি তৈরি করা হয় রোগীর নিজের রক্ত থেকে। রক্তের একটি অংশ আলাদা করে তাতে থাকা প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা ব্যবহার করা হয়। এই প্লাজমায় বিভিন্ন বৃদ্ধিকারী উপাদান থাকে, যা ত্বকের মেরামত ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। এই দুই পদ্ধতির সমন্বয় থেকে জনপ্রিয় হয়েছে ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল নামটি।

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল ব্রণের দাগ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ছবি: পেক্সেলস
ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল ব্রণের দাগ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

যে কারণে এর নাম ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল

নামটির পেছনে মূল কারণ হলো, এই চিকিৎসায় রোগীর নিজের রক্ত থেকে তৈরি পিআরপি ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চিকিৎসার কিছু ছবিতে মুখে রক্তের মতো লাল উপাদান দেখা যায়। সেখান থেকেই ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল নামটি মানুষের মধ্যে আরও জনপ্রিয় হয়েছে। তবে এটি কোনো রক্তের ফেশিয়াল নয়। এখানে নিজের রক্ত থেকে নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

যেভাবে করা হয় এই ফেশিয়াল

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল সাধারণত কয়েকটি ধাপে করা হয়। প্রথমে রোগীর হাত থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়। এরপর বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে রক্তের বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা হয়। সেখান থেকে প্লাটিলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। এরপর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়। অস্বস্তি কমানোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অবশ করার ক্রিম ব্যবহার করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে মাইক্রোনিডলিং করা হয়। বিশেষ একটি যন্ত্রের সাহায্যে ত্বকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র তৈরি করা হয়। এই ক্ষুদ্র ক্ষত ত্বকের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। এরপর ত্বকে পিআরপি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি ত্বকের ওপর প্রয়োগ করা হয়, আবার চিকিৎসকের পদ্ধতি অনুযায়ী ত্বকের নির্দিষ্ট স্তরে ব্যবহার করা হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশে করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়ালের উপকারিতা

ত্বকের গঠন মসৃণ করতে সাহায্য করতে পারে

মাইক্রোনিডলিং ত্বকের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে। ফলে নিয়মিত ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে ত্বকের গঠন কিছুটা মসৃণ ও সমান দেখাতে পারে। বিশেষ করে ত্বক রুক্ষ বা অসমান হলে অনেকে এ ধরনের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করেন।

ব্রণের দাগ কমাতে সহায়তা করতে পারে

ব্রণের পর মুখে যে গর্ত বা দাগ থেকে যায়, সেগুলোর ক্ষেত্রে মাইক্রোনিডলিং ব্যবহৃত হয়। ত্বকে নতুন কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়া বাড়ানোর মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে কিছু ধরনের ব্রণের দাগের চেহারা উন্নত হতে পারে। তবে কতটা পরিবর্তন হবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

সূক্ষ্ম রেখা ও বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এর ফলে ত্বকে সূক্ষ্ম রেখা ও ভাঁজ দেখা দিতে পারে। মাইক্রোনিডলিং ও পিআরপি ত্বকের কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে পারে বলে এই চিকিৎসা সূক্ষ্ম রেখা ও ত্বকের সামগ্রিক গঠনের উন্নতিতে ব্যবহার করা হয়।

ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ দেখাতে পারে

অনেকে ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল করেন ত্বক আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখানোর আশায়। ত্বকের মৃত কোষ ও পুরোনো ত্বকের পরিবর্তে নতুন ত্বক তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসার ফলে ত্বকের সামগ্রিক চেহারায় উন্নতি দেখা যেতে পারে। তবে এটিকে ত্বক ফরসা করার নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে

ত্বকের দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য কোলাজেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন তৈরির হার কমে যায়। মাইক্রোনিডলিং ত্বকের মেরামত প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে এবং পিআরপিতে থাকা বিভিন্ন বৃদ্ধিকারী উপাদানও এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ত্বক কিছুটা দৃঢ় ও স্বাস্থ্যকর দেখাতে পারে।

ফেশিয়াল নেওয়ার পর ত্বকে যা হতে পারে

ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়ালের পরপরই আয়নায় নিজের মুখ দেখে অনেকের কিছুটা অবাক লাগতে পারে। কারণ চিকিৎসার পর ত্বক লাল, শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। হালকা রোদে পোড়া ত্বকের মতো অনুভূতিও হতে পারে। সাধারণত এই ধরনের সাময়িক প্রতিক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে কমে আসে। তবে প্রত্যেকের ত্বক ও প্রতিক্রিয়া এক নয়। তাই চিকিৎসার পর ত্বকের যত্নের বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতা

চিকিৎসার পর কিছু সময় মুখে অযথা হাত দেওয়া, ঘষাঘষি বা স্ক্রাব করা এড়িয়ে চলতে হয়। তীব্র রোদ থেকেও ত্বক সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছুদিন সাঁতার, অতিরিক্ত ঘাম হয়—এমন কাজ এবং ত্বকে শক্তিশালী প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার পর নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন প্রসাধনী বা ত্বকের চিকিৎসা শুরু না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: স্কিন পিউরিটিস ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত