
লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ বা দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। চাকরি বা পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমের জীবন অনিচ্ছা সত্ত্বেও কখনো কখনো বেছে নেয়। যদিও এখানে সম্পর্ক ক্রমেই সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে, তবু এ ধরনের সম্পর্কে সহজে সবাই জড়াতে চায় না। পেশাগত বা পড়াশোনার তাগিদে মানুষ স্থানান্তরিত হচ্ছে আর সেই অভাব মেটাতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কগুলোকে রক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু শারীরিক নৈকট্যের অভাবে সম্পর্কের গুণগত মান উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি এ ধরনের সম্পর্কে কিছু অসুবিধাও রয়েছে; যেগুলো সম্পর্ককে অনেকটা নিরাপত্তাহীন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ করে ফেলে।
দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
১. ঈর্ষা: যেহেতু পরস্পর চোখের আড়াল, তাই সঙ্গী অন্যজনের সঙ্গে কীভাবে সময় ব্যয় করছেন, সেটা নিয়ে আরেকজনের সঙ্গীর আনুগত্য প্রসঙ্গে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। নিজেকে বুঝতে হবে যে ঈর্ষা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি, যার উৎস নিরাপত্তাহীনতা। ঈর্ষা বোধ করা এবং প্রকাশ করা ক্ষেত্রবিশেষে স্বাভাবিক। কাজেই পরস্পর পরস্পরের প্রতি সৎ থাকা কীভাবে ব্যক্ত করবেন, সে নিয়ে নিজেদের মধ্যে স্পষ্ট আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

২. নিরাপত্তাহীনতা: প্রায়ই একটা উদ্ধৃতি ব্যবহৃত হয়, ‘চোখের আড়াল তো মনের আড়াল!’ ঠিক এভাবেই দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। যিনি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন, তিনি মনে করেন যে তিনি অবহেলিত হচ্ছেন। তাই উভয়েই যদি একসঙ্গে পরিকল্পনাগুলো করেন, তবে এই নিরাপত্তাহীনতা অনেকটা কমে আসবে। যৌথ সিদ্ধান্ত যুগলকে চাহিদার স্বচ্ছতা দেয়। এর ফলে এই দাম্পত্য সম্পর্কের কিছু মৌলিক নিয়মও কার্যকর করা যেতে পারে। এই মৌলিক নিয়মগুলো হচ্ছে—কতটা স্বচ্ছতা প্রত্যাশিত, কখন এবং কতটা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, দায়িত্বগুলো কীভাবে ভাগ করে নেওয়া হবে অথবা দায়িত্বগুলো কীভাবে বরাদ্দ করা হবে, এই সম্পর্কের থেকে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কী কী এবং উদ্বেগগুলো কী; সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে।
৩. পরিবর্তনের জন্য উন্মুক্ত হওয়া: পারস্পরিক দূরত্ব মাঝেমধ্যে দুজনকে বইয়ের একই পাতায় রাখে না। এর মানে কিন্তু সচেতনভাবে যে কিছু গোপন করা হচ্ছে তা নয়। কারণ, দুজন দুই জায়গায় থাকলে খুঁটিনাটি তথ্য একজন যদি আরেকজনকে না বলে, তবে তা জানতে পারা মুশকিল। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সময়ে যদি দুজন দুই জায়গায় থাকে, তবে উভয়ের জীবনধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা পালাক্রমে ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদায় ভিন্নতা ধারণ করতে পারে। ফলে এই পরিবর্তন দুজনের মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
৪. যোগাযোগের চ্যালেঞ্জ: প্রতিদিন ফোনে বা ভিডিও কলে কথাবার্তা ক্রমেই অনুভূতিহীন হয়ে পড়তে পারে। কারণ, মুখোমুখি কথাবার্তার মধ্যে যে খুনসুটি, মাধুর্য, আবেগ থাকে; সেটা ই-মেইল ভিডিও চ্যাটে একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ‘রিলেশনাল সেভারিং’ নামে একটি শব্দ ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রেমিক যুগল একত্রে কাটানো ইতিবাচক সময়গুলোতে ফোকাস করেন এবং এটি কীভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে তাঁদের প্রভাবিত করে তা পর্যবেক্ষণ করেন। এর ফলে তাঁরা যৌথভাবে তাঁদের কিছু আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার স্মৃতি তৈরি করেন। ফলে রিলেশনাল সেভারিং দ্বারা ইতিবাচক স্মৃতি পুনর্জীবিত করতে এবং সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা যায়।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয়
এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব স্বতন্ত্র ত্রুটিগুলো কী কী, সেটা সচেতনভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। ত্রুটিযুক্ত মানুষের ভেতরে যে সৎ গুণাবলি রয়েছে, সেগুলোর সদ্ব্যবহার যদি করা যায়, তাতে সুন্দর হয় এই প্রেমের সম্পর্কটি। অন্যের দোষ খুঁজতে তাঁর দিকে আঙুল না তুলে নিজের চোখে আয়না ধরা প্রয়োজন, এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে আমার কী অবদান? তাহলেই আস্তি আস্তে জট খুলবে।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

ব্রিটানিকার মতো কিছু সূত্রে জানা যায়, প্রাচীন রোমান উৎসব লুপারকালিয়াকে কিছু গবেষক ভ্যালেন্টাইনস ডের মূল বলে মনে করেন। খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে, ফেব্রুয়ারি মাস ছিল প্রাচীন রোমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সেখানকার মানুষ উদ্যাপন করত লুপারকালিয়া নামের এক উর্বরতা উৎসব। তবে এটি একই...
৩ ঘণ্টা আগে
আজ ফাল্গুনের ১ তারিখ। মানে বসন্তের প্রথম দিন। এই দিন বাসন্তী রঙের পোশাক পরে তো ঘুরে বেড়াবেনই, নিশ্চয় খাবার টেবিলেও থাকবে রকমারি আয়োজন। আজকের রাতের ভোজে সাধারণ পোলাও না রেঁধে রান্না করতে পারেন বাসন্তী পোলাও। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১০ ঘণ্টা আগে
ভালোবাসার অনুভূতি সবার হৃদয়ে এক হলেও তা প্রকাশের ধরন আলাদা। কেউ হয়তো দিনভর ভালোবাসার কথা শুনতে পছন্দ করেন, আবার কেউ চান, সঙ্গী তাঁর কাজে একটু সাহায্য করুক। ঠিক এখানেই জন্ম নেয় ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা ভালোবাসার ভাষা। ১৯৯২ সালে ড. গ্যারি চ্যাপম্যান প্রথম এই ধারণা সামনে আনেন।
১১ ঘণ্টা আগে
ফাগুনের মোহনায় আজ যখন দখিনা বাতাস বইছে, যখন চারদিকে কৃষ্ণচূড়া আর শিমুলের লাল আভা, তখন হয়তো শহরের অলিগলিতে জোড়ায় জোড়ায় কপোত-কপোতীর ভিড় দেখে আপনার মন কিছুটা ভারাক্রান্ত। মনে হতে পারে, এই রঙিন উৎসব বুঝি শুধু তাঁদেরই জন্য, যাঁদের হাত ধরার মতো কেউ আছে।
১৩ ঘণ্টা আগে