Ajker Patrika

রুপালি পর্দায় নিউইয়র্ক, নেপথ্যে যুক্তরাজ্য: স্পাইডার-ম্যানের নতুন অভিযানের পেছনের গল্প

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৭
রুপালি পর্দায় নিউইয়র্ক, নেপথ্যে যুক্তরাজ্য: স্পাইডার-ম্যানের নতুন অভিযানের পেছনের গল্প
ইংল্যান্ডের প্রাচীন সাহিত্যিক টমাস হার্ডির স্মৃতিবিজড়িত ডোরচেস্টার শহরের ১৯ শতকের পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি কারাগারে চিত্রায়িত হয়েছে সিনেমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

গত ৩১ জুলাই বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে মার্ভেল ভক্তদের বহুল প্রতিক্ষিত সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর সেই জাদুকরি স্মৃতিলোপের পর এবার পিটার পার্কারের জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তনের হাওয়া। প্রিয়তমা এমজে-কে হারানোর বেদনা, আন্ট মের শূন্যতা আর নিউইয়র্কের অলিগলিতে নতুন সব বিপদের মুখোমুখি হওয়া—সব মিলিয়ে এক ম্যাচিউর ও রোমাঞ্চকর পিটারের গল্প নিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছে এই নতুন কিস্তি। সিনেমায় পিটারের চরিত্রে থাকা টম হল্যান্ডকে নিউইয়র্কের চেনা রাস্তায় বা নিজের প্রিয় পাড়ার দোকানে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পুরো সিনেমার শুটিংয়ের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে করাই হয়নি। পাইনউড স্টুডিওতে আস্ত তিনটি সিটি ব্লক বানিয়ে এবং বাকি শুটিং যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও বৈচিত্র্যময় সব বাস্তব জায়গায় সেরে নেওয়া হয়েছে।

গ্লাসগো: ম্যানহাটনের বুকে দুর্ধর্ষ অ্যাকশন

নিউইয়র্কের জায়গায় এবার ক্যামেরার সামনে রাজত্ব করেছে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত শহর গ্লাসগো। শহরের হাটচেসন স্ট্রিট, সেন্ট ভিনসেন্ট স্ট্রিট ও বোথওয়েল স্ট্রিটে শুট করা হয়েছে সিনেমার একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ির ধাওয়া করার দৃশ্য। সেখানে স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে দেখা মেলে ফ্রাঙ্ক ক্যাসেল বা ‘দ্য পানিশার’-এর (জন বার্নথাল)।

ডোরচেস্টার প্রিজন, ডরসেট

ইংল্যান্ডের প্রাচীন সাহিত্যিক টমাস হার্ডির স্মৃতিবিজড়িত ডোরচেস্টার শহরের ১৯ শতকের পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি কারাগারে চিত্রায়িত হয়েছে সিনেমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য। ভয়ংকর ‘হ্যান্ড’ গ্যাংয়ের সঙ্গে স্পাইডার-ম্যানের মুখোমুখি লড়াইয়ের উত্তেজনাকর দৃশ্যটি ধারণ করা হয় এখানেই।

সেনেট হাউস ও ব্যাটারসি পার্ক, লন্ডন

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ১৯ তলা প্রশাসনিক ভবন ‘সেনেট হাউস’। জায়গাটিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিশাল রূপ দিয়ে বানানো হয়েছে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ড্যামেজ কন্ট্রোল এইচকিউ’। এখানেই স্পাইডার-ম্যানের দেখা হয় বিল মেটজগার অর্থাৎ ট্রামেল টিলম্যানের সঙ্গে। টম হল্যান্ড ও জেন্ডায়ার মধ্যকার আবেগঘন দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল টেমস নদীর তীরের বিখ্যাত ‘ব্যাটারসি পার্ক’-এর পিয়ার ট্রি ক্যাফে-সংলগ্ন এলাকায়।

পিয়ার রোড টার্কস বোটইয়ার্ড, কেন্ট

নৌঘাঁটির পুরোনো আবহ তৈরি করতে চ্যাথামের ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল নেভি ডকইয়ার্ড’-এর একটি বোটইয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে ফ্রাঙ্ক ক্যাসেলের (দ্য পানিশার) গোপন আস্তানা ছিল নিউইয়র্কের এক ডকইয়ার্ডের পুরোনো নৌকায়, যা মূলত শুট করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী জায়গায়।

নিউইয়র্কের জায়গায় এবার ক্যামেরার সামনে রাজত্ব করেছে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত শহর গ্লাসগো। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের জায়গায় এবার ক্যামেরার সামনে রাজত্ব করেছে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত শহর গ্লাসগো। ছবি: সংগৃহীত

ব্রুকউড সিমেট্রি, সারে

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় সমাধিস্থল এই ব্রুকউড সিমেট্রি। ইতিহাসে জায়গাটি ‘লন্ডন নেক্রোপলিস’ নামেও পরিচিত। আন্ট মের কবরের পাশে ব্যথিত পিটার পার্কারের অশ্রুসজল দৃশ্যগুলোর শুটিং হয়েছিল সারের এই নির্জন কিন্তু বিখ্যাত কবরস্থানে।

অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান

ড্যামেজ কন্ট্রোলের সাঁজোয়া গাড়ি থামানোর রোমাঞ্চকর সিকোয়েন্সে দেখা গেছে ৭০-এর দশকের বাসিংস্টোকের পুরোনো ভবন ফেনাম হাউস।

সিনেমার শুটিংয়ের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে করাই হয়নি। পাইনউড স্টুডিওতে আস্ত তিনটি সিটি ব্লক বানিয়ে এবং বাকি শুটিং যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও বৈচিত্র্যময় সব বাস্তব জায়গায় ধারণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সিনেমার শুটিংয়ের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে করাই হয়নি। পাইনউড স্টুডিওতে আস্ত তিনটি সিটি ব্লক বানিয়ে এবং বাকি শুটিং যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও বৈচিত্র্যময় সব বাস্তব জায়গায় ধারণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম লন্ডনের সবুজে ঘেরা পার্ক রাভেন্সকোর্ট পার্ক। এখানে শুট করা হয়েছে ড্যামেজ কন্ট্রোল টিমের সঙ্গে একটি বিশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ের দৃশ্য।

পাইনউড স্টুডিওর জাদুকরি সেট ডিজাইন, আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস আর যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর চমৎকার ব্যবহারে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে বিগ অ্যাপলখ্যাত নিউইয়র্ক শহরকে।

সূত্র: টাইম আউট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত