Ajker Patrika

কুল থাকুন এয়ারকুলারে

অনন্য়া দাস, ঢাকা
কুল থাকুন এয়ারকুলারে

গরম দূর করতে এয়ারকুলার হতে পারে একটি দুর্দান্ত অ্যাপলায়েন্স। আজকাল এয়ার কন্ডিশনারের বিকল্প হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। কম দাম, সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, কম বিদ্যুৎ খরচ ইত্যাদি সুবিধার জন্য অনেকেই এখন এয়ারকুলার ব্যবহার করছেন।

সহজে বহনযোগ্য
এয়ারকুলারের বড় গুণ এটি সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় খুব সহজে বহন করা যায়। এটি যেহেতু এসির মতো দেয়ালের সঙ্গে স্থায়ীভাবে লাগানো থাকে না, তাই পছন্দসই জায়গায় এয়ারকুলার বসানো যায় সহজে।

বাতাসের গুণগত মান
এয়ারকুলার বাইরে থেকে তাজা বাতাস টেনে এনে সেই বাতাসকে শীতল করে। পাশাপাশি এর জন্য ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় না। এ জন্য এয়ারকুলারের বাতাসের মান তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো থাকে। 

দাম 
একটি মোটামুটি মানের এয়ার কন্ডিশনার কিনতে হলেও বেশ ভালোই খরচ করতে হবে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ছয় হাজার টাকা ব্যয়ে একটি এয়ারকুলার কেনা সম্ভব। তাই বলা যায়, দামের দিক থেকে এয়ারকুলার বেশ সাশ্রয়ী। 

পরিবেশবান্ধব 
এয়ারকুলার পরিবেশবান্ধব। কারণ এগুলো পানিকে রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। এর থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না। 

ইনস্টলেশন 
এয়ারকুলারের কোনো ইনস্টলেশনের প্রয়োজন নেই। এটি অন্য অনেক অ্যাপ্লায়েন্সের মতো বাড়িতে এনেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুৎ খরচ কম এয়ারকুলারে বিদ্যুৎ খরচ হবে অনেক কম। সাধারণ এসির চেয়ে এয়ারকুলার ব্যবহারে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। সুতরাং মাস শেষে প্রকাণ্ড একটা বিদ্যুৎ বিল বইতে হবে না আপনাকে।

কোনটি আপনার দরকার
বাজারে চার ধরনের এয়ারকুলার পাওয়া যায়। আপনার ঘরের আয়তন বুঝে এয়ারকুলার কিনুন। প্রয়োজনের বাইরে কুলার না কেনাই ভালো। 

  • পারসোনাল কুলার: সাধারণত বাড়িতে এই এয়ারকুলার ব্যবহার করা হয়। এটি টেনে সহজেই ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। ছোট ঘরের জন্য বিশেষভাবে এই কুলার ডিজাইন করা হয়। এগুলো ১৫০ থেকে ৩০০ বর্গফুট আয়তনের ঘরে ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসতাপমাত্রায় ভালো কাজ করে।
  • টাওয়ার কুলার: একটু বড় জায়গা ঠান্ডা করার জন্য এ ধরনের এয়ারকুলার ব্যবহার করা হয়। মাঝারি মাপের ঘরের জন্য আদর্শ এই এয়ারকুলার।
  • উইন্ডো কুলার: হাই পারফরম্যান্স কুলার। এই কুলারের বডি ঘরের বাইরে থাকে।
  • ডেসার্ট কুলার: তাপমাত্রা খুব বেশি ও আর্দ্রতা খুব কম হলে এ ধরনের এয়ারকুলার ব্যবহার করা হয়। এগুলো ৩০০ থেকে ৬০০ বর্গফুট আয়তনের ঘরে ৩৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালো কাজ করে।

আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য পার্সোনাল এয়ারকুলার ভালো কাজ করবে। বাতাস ভালোভাবে ঠান্ডা করতে সঠিক জায়গায় এয়ারকুলার রাখতে হবে। কেনার আগে ঘরের আয়তন, উচ্চতা, বাইরের তাপমাত্রা এবং পরিবেশের আর্দ্রতা–এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখুন।

কেনার আগে জেনে নিন

  • পানি ধারণের ক্ষমতা: কুলার কেনার সময় এর পানি ধারণক্ষমতা জেনে নেওয়া খুব জরুরি। বড় ঘরের জন্য অন্তত ৩০-৪০ লিটার পানি ধারণক্ষমতার এয়ারকুলার কিনতে হবে। ছোট ঘরের জন্য ২০ লিটার পানি ধারণক্ষমতা যথেষ্ট।
  • ধুলো-ময়লা পরিষ্কার: এয়ারকুলার সাধারণত ধুলো-ময়লা জমেই নষ্ট হয় বেশি। এ জন্য মাসে একবার করে এর ফ্যান খুলে নিয়ে ভালোমতো সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ভালো হয়। সেই সঙ্গে নরম সুতি কাপড় দিয়ে এর ভেতরটাও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  • সংরক্ষণ: যে সময়ে এয়ারকুলার দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হবে না, তখন এর পাওয়ার সাপ্লাই সুইচ অফ করে প্লাগ খুলে রেখে দেওয়াটা ভালো। তা ছাড়া বজ্রপাতের সময়েও এ কাজ করুন।
  • পানি থেকে দূরে: এয়ারকুলারের ভেতরে নিয়মিত পানি দিতে হয়, তার মানে এই নয় যে এটাতে পানি পড়লে এর কোনো ক্ষতি হবে না। তাই পানি থেকে দূরে রাখতে হবে আপনার এয়ারকুলারটি। 
  • আধুনিক ফিচার: আইস চেম্বার, রিমোট কন্ট্রোল, মশা নিরোধক ফিল্টার, ডাস্ট ফিল্টারের মতো এয়ারকুলারে কী কী সুবিধা আছে তা দেখে কিনুন।
  • অটো রিফিল ফাংশন: পছন্দের এয়ারকুলারটিতে অটো রিফিল ফাংশন আছে কি না, দেখে নিন। অটো রিফিল ফিচার কুলারের পানির ট্যাংককে শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। এর ফলে মোটরের ক্ষতি হবে না।

কাদের ও কোথায় পাবেন
দেশে ভিশন, গ্রি, জাপান ইলেকট্রনিকস, ওয়ালটন, ইলেকট্রা ইত্যাদি ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার আছে। ব্র্যান্ডগুলোর শোরুমে অথবা অনলাইন থেকেও কেনা যাবে এগুলো। এ ছাড়া প্রায় সব মার্কেট ও শপিং মলেও ব্র্যান্ডেড বা নন-ব্র্যান্ডেড এয়ারকুলার কিনতে পাওয়া যায়।

দরদাম 
দেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এয়ারকুলারের দামে পার্থক্য আছে। ব্র্যান্ডভেদে ৬ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকায় কেনা যাবে এয়ারকুলার।

মডেল: তামান্না 
মেকআপ: শোভন মেকওভার 
ছবি: হাসান রাজা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা কাল, বেতন বাড়ছে কত

মিরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

আমরা ‘না’ ভোট দেব দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে: জি এম কাদের

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি নেতাদের নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত