মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন একজন বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা, এডটেক প্ল্যাটফর্ম নির্মাতা ও যুব সংগঠক। ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে শুরু করেন ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান ওয়েবকিহ (WEBKIH)। পরে শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য তৈরি করেন আইইএলটিএস মক ল্যাব। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ২০২৫ সালে গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৬ সালে পূর্ণ অর্থায়নে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ (আইএফওয়াই) এবং ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সাকিবুল হাসান।

জুবায়েরের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথটি পরিকল্পিত ছিল না। ঢাকা কলেজে ইংরেজি পড়ার সময় ওয়েবসাইট তৈরির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই থেকে ২০১৯ সালে শুরু করেন ওয়েবকিহ। কাজ করতে গিয়ে ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রোডাক্ট তৈরির বিভিন্ন দিক শেখেন। পরে শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য তৈরি করেন আইইএলটিএস মক ল্যাব। পাশাপাশি লিও ক্লাব অব ঢাকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ৬০টি সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ২০২৫ সালের গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে অংশ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন যুব ও অর্থনৈতিক আয়োজন সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন জুবায়ের। সেখান থেকে ২০২৬ সালের আইএফওয়াই ও ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর কাছে এগুলো ছিল শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও যুব নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কাজের সঙ্গে দুটি আয়োজনের বিষয়বস্তুরও মিল রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৪-এ ১৮ দিন রাশিয়ায় থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার ফলে সংস্কৃতিগত পার্থক্য বোঝার সুযোগ পেয়েছেন। গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়েও নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁর মতে, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সম্মানের মাধ্যমেও দেশের পরিচয় তুলে ধরা যায়।
মূলধনের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ টিম তৈরি, মানুষের আস্থা অর্জন এবং কম খরচে মানসম্মত সেবা দেওয়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় একজনকেই ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং ও কাস্টমার সাপোর্টের মতো একাধিক কাজ সামলাতে হয়। আইইএলটিএস মক ল্যাবের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী তৈরি করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম উন্নত করা এবং ব্যবসাটিকে টেকসই করা চ্যালেঞ্জ ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে সীমিত সম্পদে কাজ করা, দ্রুত শেখা ও সমস্যা মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে।
জুবায়েরের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে এখনো দূরত্ব রয়েছে। অনেকের সনদ থাকলেও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ও দলগত কাজের দক্ষতা কম। অনেক তরুণের কাছেও ভালো মেন্টর বা সুযোগ সহজে পৌঁছায় না। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণের অভাব নেই। প্রয়োজন তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে সঠিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
জুবায়েরের মতে, প্রথমে একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জন করা দরকার। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের জ্ঞান, গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং নিয়মিত শেখার অভ্যাস থাকা দরকার। শুধু সনদের পেছনে না ছুটে নিজের কাজের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সনদ যোগ্যতার কথা বলে, আর পোর্টফোলিও দেখায় বাস্তবে কী করা যায়।
জুবায়েরের পরামর্শ, আবেদন করার আগে নিজের কাজের একটি রেকর্ড তৈরি করুন। স্বেচ্ছাসেবা, গবেষণা, সামাজিক উদ্যোগ, কোনো প্রকল্প দিয়ে শুরু করা যায়। এসব কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। নিয়মিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগের খোঁজ রাখতে হবে। সিভি, সনদ, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখলে আবেদন করা সহজ হয়। আবেদনের সময় নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় না পাওয়ার কথাও বলেন। একটি আবেদন ব্যর্থ হলেও পরের আবেদন আরও ভালো করার সুযোগ থাকে।
শুরু করার জন্য নিখুঁত ইংরেজি, অনেক টাকা বা বড় পরিচিতি কোনোটিই অপরিহার্য নয় বলে মনে করেন জুবায়ের। তাঁর পরামর্শ, একটি দক্ষতা দিয়ে শুরু করতে হবে। ছোট কোনো দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হবে। ইন্টারনেটকে শেখার কাজে ব্যবহার করা, নিজের সমাজের জন্য কিছু করা এবং কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, সুযোগের অপেক্ষা না করে সুযোগের জন্য আবেদন করা উচিত। ধীরে এগোলেও সমস্যা নেই। ছোট ছোট কাজই একসময় পরিচয় তৈরি করে।

অনেকের ধারণা, বিদেশে পড়াশোনা মানেই নতুন একটি দেশে গিয়ে ডিগ্রি অর্জন করা। আসলে তা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ। উন্নত শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারেও...
১ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের চাকরির বাজার। আগামী কয়েক বছরে কিছু প্রচলিত পেশার চাহিদা কমলেও প্রযুক্তি, ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা ও সবুজ অর্থনীতিকেন্দ্রিক বেশ কিছু চাকরির চাহিদা বাড়বে।
১ ঘণ্টা আগে
অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই) জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ট্রেইনি টেরিটরি ম্যানেজার’ পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ফিল্ড অফিসার’ পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
২১ ঘণ্টা আগে