ইসলামে সন্তানের সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। কারণ নাম শুধু পরিচয়ের মাধ্যম নয়, বরং তার ব্যক্তিত্ব ও জীবনের ওপর এর এক গভীর প্রভাব থাকে। এ কারণে অভিভাবকের উচিত এমন নাম নির্বাচন করা, যা ইসলামি ভাবধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং যার অর্থ সুন্দর ও কল্যাণকর।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক সময় কিছু প্রচলিত নাম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, যেমন—‘বিসমিল্লাহ’ কি সন্তানের নাম হিসেবে রাখা যায়?
‘বিসমিল্লাহ’-এর অর্থ ও তাৎপর্য
‘বিসমিল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি।’ এটি কোনো সাধারণ শব্দ নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ও বরকতময় বাক্য। যেকোনো ভালো কাজ শুরু করার আগে এই বাক্যটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাহায্য ও রহমত কামনা করি। এর মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিই এবং নিজেদের কাজকে ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করে নিই। এই কারণেই এটি মুসলিমদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তবে এটি একটি বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কোনো ব্যক্তির পরিচয় বহনকারী শব্দ হিসেবে নয়।
নাম হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ’ রাখার বিধান
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ নাম রাখা উচিত কি না, এ বিষয়ে অধিকাংশ ইসলামবিষয়ক গবেষক একই মত পোষণ করেন। তাঁদের মতে, ‘বিসমিল্লাহ’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও বরকত লাভের জন্য ব্যবহৃত একটি বাক্য। তাই নাম হিসেবে এটি রাখা উচিত নয়।
তবে যদি কোনো কারণে কেউ এই নামটি রেখেও ফেলে, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। এ বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘নাম হিসেবে এটি রাখা উচিত না হলেও, যদি রেখেও ফেলা হয়, তাহলে তাতে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই।’
উত্তম নামের নির্দেশনা
সন্তানের জন্য নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের উচিত ইসলামের মৌলিক নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করা। নবীজি (সা.) আমাদের সবচেয়ে উত্তম নাম রাখতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ’ ও ‘আবদুর রহমান’। এ ছাড়া তিনি নবী-রাসুলদের নাম, সাহাবিদের নাম এবং এমন সব নাম রাখতে বলেছেন যার অর্থ সুন্দর ও ইতিবাচক।
সুতরাং, যদিও ‘বিসমিল্লাহ’ নাম রাখা নিষিদ্ধ নয়, তবু উত্তম হলো এমন নাম রাখা, যা আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং যার অর্থ সুন্দর ও সুস্পষ্ট। একটি নাম সারা জীবনের পরিচয় বহন করে, তাই এর নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

ইসলাম ধর্মের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অবশ্যপালনীয়। কোনো ব্যক্তির ওপর নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূর্ণ হতে হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১২ ঘণ্টা আগে
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্যাক্ট-চেক এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
২১ ঘণ্টা আগে
আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি মুসলিম উম্মাহকে তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের মহান আমল দান করেছেন। এ আমল রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ
১ দিন আগে