মানবজীবনে আত্মীয়তার বন্ধন অমূল্য এক সম্পর্ক। জীবনের প্রতিকূলতায় আত্মীয়রা প্রেরণা এবং শক্তির উৎস হয়ে থাকে। এ সম্পর্ক আমাদের মধ্যে ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং আস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখার বিকল্প নেই।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিনটি গুণ এমন রয়েছে—যার ভেতরে গুণগুলো থাকবে, পরকালে তার হিসাব-নিকাশ সহজ হবে এবং আল্লাহ নিজ দয়ায় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, গুণগুলো কেমন?’
রাসুল (সা.) বলেন, ‘গুণগুলো হলো, এক. যে তোমাকে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে দান করো। দুই. যে তোমার প্রতি জুলুম করে, তুমি তাকে ক্ষমা করো। তিন. যে তোমার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে চায়, তুমি তার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো।’ সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘এই গুণগুলো থাকলে আমি কী পাব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন ‘বিচার দিবসে হিসাব সহজ করা হবে এবং আল্লাহ তাআলা নিজ দয়ায় তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসতাদরাকে হাকেম: ৩৯১২)
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখলে মন ভালো থাকে, আর্থিক সচ্ছলতা আসে এবং আয়ু বাড়ে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যাকে এ বিষয়টি আনন্দিত করে যে—তার রিজিক (জীবিকায়) সচ্ছলতা দেওয়া হোক এবং তার অবদান আলোচিত হোক (দীর্ঘায়ু দেওয়া হোক) সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে। (সহিহ্ বুখারি: ৫৯৮৫, সহিহ্ মুসলিম: ৬২৯২)
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া, সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, সামর্থ্য অনুযায়ী বিপদাপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা। বর্তমান সমাজে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার বিষয়টি খুব অবহেলিত। ব্যক্তিজীবনে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলা অনেক ব্যক্তিও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় তেমন গুরুত্বারোপ করে না। এটাকে অনেকটা ঐচ্ছিক বিষয় মনে করে থাকে। অথচ ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং তা রক্ষা না করা গুনাহ।

কোরবানি একদিকে আত্মত্যাগের মহাকাব্য, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই ইবাদতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন সব লোকজ রীতি, যা কখনো বিস্ময় জাগায়, কখনো আবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কোথাও কোরবানির পশুকে সন্তানস্নেহে নাম দেওয়া হয়, কোথাও আবার মেহেদি পরিয়ে সাজানো হয়...
১৫ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কোরবানি কোনো পরিবারের ওপর ওয়াজিব হয় না, বরং এটি ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ, পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য (নারী বা পুরুষ), যাঁর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাঁকে আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে।
১৫ ঘণ্টা আগে
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে এ দিনটি। এর মূল ভিত্তি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম...
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে