দ্রুত বিয়ে হওয়ার ৫ আমল ও দোয়া

বিয়ে মহান আল্লাহর সুমহান নিয়ামত এবং নবীজি (সা.)-এর পবিত্র সুন্নত। সঠিক সময়ে সচ্চরিত্র ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী লাভ করা প্রত্যেক মুমিনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা। তবে অনেক সময় উপযুক্ত বয়স বা প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় বিয়েতে বিলম্ব ঘটে, যা তরুণ-তরুণী ও অভিভাবক উভয়কেই দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু বিশেষ জিকির, দোয়া ও আমলের বর্ণনা রয়েছে, যা নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত চর্চা করলে আল্লাহ তাআলা বিয়েসংক্রান্ত যাবতীয় বাধা দূর করে অতি দ্রুত উত্তম ও বরকতময় বিবাহের ফয়সালা করে দেন।
নিচে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী পাওয়ার বিশেষ কিছু আমল ও দোয়া তুলে ধরা হলো:
১. সার্বক্ষণিক ইস্তিগফার পাঠ করা
সব সময় মুখে ও অন্তরে ইস্তিগফারের আমল জারি রাখা। যেমন—‘আসতাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা। কেননা, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ‘মুস্তাজাবুদ্দাওয়াহ’ বানিয়ে দেন। অর্থাৎ, তিনি যা দোয়া করবেন—তা-ই কবুল হবে। এ ছাড়া তাঁর জীবনের সব জটিলতা আল্লাহ তাআলা সহজ করে দেন।
اَسْتَغْفِرُ الله–اَسْتَغْفِرُ الله
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ।
অথবা বড় ইস্তিগফার পাঠ করা:
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বজগতের ধারক-ধারক এবং আমি তাঁরই দিকে তওবা করছি।’
২. সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত
যাঁদের বিয়ের কথাবার্তা বা প্রস্তাব আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয় না, ওলামায়ে কেরাম তাঁদের জন্য সুরা ইয়াসিনের একটি বিশেষ আমল উল্লেখ করেন:
নিয়ম: প্রতিদিন সকালে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে উদিত হয়, তখন পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা। তিলাওয়াতের সময় সুরা ইয়াসিনে থাকা সাতটি ‘মুবিন’ শব্দের জায়গায় পৌঁছালে শাহাদাত আঙুল দিয়ে পেছনের দিকে (অর্থাৎ, উদীয়মান সূর্যের দিকে) ইশারা করা।
৩. সুরা কাসাসের বিশেষ আয়াত ও সুরা দুহা পাঠ
হজরত মুসা (আ.) যখন একাকিত্ব, অসহায়ত্ব ও বিষণ্নতা অনুভব করছিলেন, তখন তিনি এই বিশেষ দোয়া পাঠ করেছিলেন। ওলামায়ে কেরাম বিয়েপ্রত্যাশী নারী-পুরুষদের এই আমল নিয়মিত করার পরামর্শ দেন:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন; আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস: ২৪)
ছেলেদের আমল:
কোনো ছেলে যদি এই দোয়া প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করেন, তবে আল্লাহ তাআলা অতি দ্রুত তাঁর জন্য উত্তম দ্বীনদার স্ত্রীর ব্যবস্থা করে দেন।
মেয়েদের আমল:
মেয়েরা যদি প্রতিদিন নিয়মিত সুরা দুহা ১১ বার তিলাওয়াত করেন, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁদের জন্য সর্বোত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করে দেন।
৪. সুরা তাওবার বিশেষ আয়াত তিলাওয়াত
প্রতিদিন প্রতি ফরজ নামাজের পর বিয়েপ্রত্যাশী নারী-পুরুষের জন্য সুরা তাওবার এই আয়াত পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর:
فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম। (সুরা তাওবা: ১২৯)
৫. চোখজুড়ানো জীবনসঙ্গী ও নেক সন্তানের দোয়া
উত্তম জীবনসঙ্গী ও নেককার সন্তান লাভের জন্য আল্লাহ তাআলার শেখানো কোরআনি দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা উচিত:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিও ওয়াজআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফুরকান: ৭৪)
দৃঢ় ইমান, হালাল উপার্জনের চেষ্টা ও সুন্নাহসম্মত উপায়ে আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যমে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সহজ হয়ে যায়। উপরিউক্ত কোরআনি দোয়া ও আমলগুলোর পাশাপাশি পাপমুক্ত জীবন যাপন করলে আল্লাহ তাআলা দ্রুতই উত্তম দ্বীনদার জীবনসঙ্গী দান করবেন, ইনশা আল্লাহ।











