Ajker Patrika

পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে চায় ইসরায়েল, ট্রাম্পের না

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে চায় ইসরায়েল, ট্রাম্পের না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউস আবারও জানিয়েছে, তারা পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বা দখলভুক্ত করার বিরোধী। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা যে সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে তারা পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াতে চায়। এই এলাকাগুলোই ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রের অংশ হবে বলে তারা আশা করে। সেই প্রেক্ষাপটেই হোয়াইট হাউস এই বিবৃতি দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার নামে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে নন।’ এই মন্তব্যটি সাংবাদিকদের পাঠানো হয়। তাঁরা ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা থাকলে ইসরায়েল নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে এটি এই প্রশাসনের আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তবে বিবৃতিতে ইসরায়েলের অনুমোদিত পদক্ষেপগুলোর সরাসরি নিন্দা করা হয়নি। এমনকি সেগুলো নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্যও নেই। অথচ এসব পদক্ষেপ অসলো চুক্তির লঙ্ঘন। কারণ, এর মাধ্যমে পশ্চিম তীরের যেসব এলাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা, সেখানে জেরুজালেমের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তবে বিবৃতিতে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে কোনো উদ্বেগ জানিয়েছে কি না। এর আগেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইসরায়েলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের অস্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে। তখনো তারা শুধু স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু ইসরায়েল যখন সে পথে এগোতে শুরু করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জানায়, এতে গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার আগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, এতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল বা সংযুক্ত করতে ‘অনুমতি দেবেন না।’ তবু পরের মাসে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট প্রতীকী দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে তখন দেশটিতে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ছিলেন সবচেয়ে বেশি বিরক্ত।

এরপরও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে। নজরদারি সংস্থাগুলো বলছে, এসব পদক্ষেপ কার্যত দখল বা সংযুক্তিকরণেরই সমান। তবে জেরুজালেম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয়নি।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান নেতানিয়াহু। তখন ট্রাম্পের সহযোগীরা পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান। তারা বিশেষভাবে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর রাজস্বের কয়েক বিলিয়ন ডলার আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। ওই অর্থ আটকে রাখার ফলে রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রায় ধসে পড়ার মুখে। তখন এক মার্কিন কর্মকর্তা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে এ তথ্য জানান।

সে সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন, পশ্চিম তীর নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর মতভেদ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। বরং তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ‘সঠিক কাজটিই করবেন।’

এই দুই নেতা আবারও বুধবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তবে বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ইরান। তবু গাজার প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়লে গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিসিবির চাওয়া পূরণ করল আইসিসি

সভায় অংশ নিচ্ছেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিএনপি নেতা বিপ্লব, গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ

জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম-শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র বিতর্কিত প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ায়

নির্বাচনের ৩ দিন যান চলাচলে বিধিনিষেধ, ভোট দিতে যাবেন কীভাবে

বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করল যুক্তরাষ্ট্র, তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্কের প্রতিশ্রুতি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত