
মিউনিখ নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৬-এ সতর্ক করে বলা হয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিশ্ব এখন এক ধরনের ‘ধ্বংসাত্মক’ রাজনীতির যুগে প্রবেশ করেছে। এমন পরিস্থিতি গত আট দশক ধরে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নজিরবিহীন চাপে ফেলছে।
প্রতিবেদনটির মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও জোটভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা এখন ভাঙনের মুখে। বলা হয়েছে, ‘নির্মাণ শুরুর ৮০ বছরেরও বেশি সময় পর, এই ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের পথে।’
ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান নিয়মকানুন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। প্রতিবেদনে তাঁকে সরাসরি ‘ডেমোলিশন ম্যান’ বা ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সিএনএন জানিয়েছে, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের আগেই এই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়—ট্রাম্পের নীতি ও কৌশল দীর্ঘদিনের মিত্রতা, আন্তর্জাতিক নীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিকে দুর্বল করছে। নীতিনির্ভর সহযোগিতার বদলে তিনি লেনদেনভিত্তিক সমঝোতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
এর আগে গত বছর একই সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের বিস্মিত করেছিল। তিনি ইউরোপে সেন্সরশিপ ও অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে দাবি করেছিলেন, ইউরোপের আসল হুমকি ‘ভেতর থেকেই’ আসছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে তাঁর সহকারীর দেওয়া ওই বক্তব্য পরবর্তী এক বছরের অস্থিরতার ধারাবাহিকতা মাত্র। এই সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ, ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের সামরিক হুমকি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের প্রশ্নে তুলনামূলক নরম অবস্থান দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনটিতে সংযুক্ত জনমত জরিপে দেখা গেছে—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় ও হতাশা বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আয় বৈষম্য, সামাজিক অগ্রগতির সুযোগ কমে যাওয়া এবং জীবনমান স্থবির বা নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা মানুষকে আচ্ছন্ন করছে। ফ্রান্সে ৬০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৫৩ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৫১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, বর্তমান সরকারি নীতির ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও খারাপ অবস্থায় পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।
বিভিন্ন দেশে পরিচালিত ওই জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ উত্তরদাতাই মনে করেন, তাঁদের হতাশার বড় একটি কারণ ট্রাম্পের নীতি। যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার অর্ধেকের বেশি মানুষ বলেছেন, ট্রাম্পের নীতি বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না।
শুক্রবার থেকে রোববার (১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত জার্মানির মিউনিখ শহরে নিরাপত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৫০ টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প নিজে উপস্থিত থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কংগ্রেসের ৫০ জনের বেশি সদস্য সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে...
৪১ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক ‘ধাক্কা’ খাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আজ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
১ ঘণ্টা আগে
ইকুয়েডরের বন্দরনগরী মান্তা বিশ্বজুড়ে ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানকার মানুষ প্রশান্ত মহাসাগরের সমৃদ্ধ জলরাশিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, সীমিত কর্মসংস্থান এবং বিপুল অর্থের হাতছানিতে মান্তার কিছু জেলে এখন জড়িয়ে পড়ছেন কোকেন পাচারের সঙ্গে।
১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও কঠোর নির্গমন নীতির প্রভাবে ইউরোপের গাড়ির বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রথমবারের মতো পেট্রলচালিত গাড়ির বিক্রিকে ছাড়িয়ে গেছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)।
২ ঘণ্টা আগে