Ajker Patrika

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
জুরিখ থেকে একটি হেলিকপ্টারে দাভোসে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক আসরে যোগ দিতে আজ বুধবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই সফর ঘিরে আগে থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিশেষত গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে ট্রাম্পের দাবি ও এর বিরোধিতা করায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দাভোসের অর্থনৈতিক আলোচনাকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ওয়াশিংটন থেকে উড্ডয়নের মাত্র ৩০ মিনিট পর প্রেসিডেন্টের এয়ারফোর্স ওয়ানে সামান্য বৈদ্যুতিক বিভ্রাট ধরা পড়ে। নিরাপত্তার খাতিরে বিমানটি মাঝপথ থেকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে যায়। এরপর প্রেসিডেন্ট অন্য একটি বিমানে করে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। এই বিঘ্নের ফলে স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় নির্ধারিত তাঁর বিশেষ ভাষণটি কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দাভোসে পা রাখার আগেই ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসতে হবে—সেটি আলোচনার মাধ্যমে হোক বা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে। তাঁর এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইতিমধ্যে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের পৌঁছানোর এক দিন আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দাভোসে এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনো অযৌক্তিক শুল্ক বা চাপ ইউরোপ মেনে নেবে না।

দাভোস আয়োজকদের তথ্যমতে, এ বছর ১৩০টি দেশের ৩ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দাভোসে তিনি ইউরোপীয় ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন। বিশেষ করে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাভোস সফর কেবল অর্থনৈতিক আলোচনা নয়, বরং একটি বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষণ ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত