Ajker Patrika

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিষদ জাতিসংঘের জন্য কতটা হুমকি, জানালেন রুশ বিশেষজ্ঞ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিষদ জাতিসংঘের জন্য কতটা হুমকি, জানালেন রুশ বিশেষজ্ঞ

গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ জাতিসংঘের অস্তিত্বের জন্য কোনো অস্তিত্বগত হুমকি নয়। তবে এটি জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও কার্যকারিতা খর্ব করতে পারে বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল একাডেমি অব ন্যাশনাল ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাই গাপোনেনকো।

রুশ সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশকে বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে এই বোর্ড সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবে। উল্লেখ্য, এই শান্তি পরিকল্পনাটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে মিসর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সম্মত হয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং মস্কো বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী নিকোলাই গাপোনেনকো বলেন, বোর্ড অব পিস গঠনের ফলে জাতিসংঘ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, কারণ জাতিসংঘ এখনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক ভিত্তি। তবে এই উদ্যোগ জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও কার্যকারিতার ওপর গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এই বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের এই নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের পেছনে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। প্রথমত, এটি একটি কৌশলগত বয়ান, যার মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, যিনি জাতিসংঘের ‘ব্যর্থ আমলাতন্ত্র’কে সমাধান দিতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এই উদ্যোগ জাতিসংঘকে সংস্কার বা নীতিগত পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি দৃঢ় ও উদ্ভাবনী নেতা হিসেবে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করে।

এ ছাড়া, বোর্ড অব পিস সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিসরে আলোচনা চালানোর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, যেখানে উদ্যোক্তাদের দৃষ্টিতে অনাকাঙ্ক্ষিত পক্ষগুলোকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।

গাপোনেনকো সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের প্রধান ও একচেটিয়া ফোরাম হিসেবে ভূমিকা দুর্বল করতে পারে। তিনি কয়েকটি ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন। সেগুলো হলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার খণ্ডিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট গঠনের সম্ভাবনা, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক বা খাপছাড়া চুক্তির বিস্তার এবং জাতিসংঘ সনদ এড়িয়ে বিকল্প কাঠামো তৈরি হলে আন্তর্জাতিক আইনের ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়া।

যদিও বোর্ড অব পিস জাতিসংঘকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না, তবুও এর আবির্ভাব বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার একটি বিস্তৃত সংকটের প্রতিফলন ও তীব্রতা বৃদ্ধি করছে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব রাজনীতিতে সর্বজনীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঐতিহ্যগত কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কী ব্যাখ্যা দিল আইসিসি

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে শেষ হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট

প্যারোলে মুক্তি মেলেনি ছাত্রলীগ নেতার, কারাফটকে দেখলেন মৃত স্ত্রী-সন্তানের মুখ

৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারায় ৪ বছরের কন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করল বাবা

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিল আইসিসি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত