Ajker Patrika

সন্তানের সামনে ফরাসি নারী পর্যটককে ধর্ষণ—দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল পাকিস্তানে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সন্তানের সামনে ফরাসি নারী পর্যটককে ধর্ষণ—দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল পাকিস্তানে
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাদাকাত আলীকে লাহোরের একটি স্থানীয় আদালত থেকে বের করে আনার সময় পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ছবি: এএফপি

২০২০ সালে এক ফরাসি নারী পর্যটককে তাঁর সন্তানদের সামনে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন পাকিস্তানের লাহোর হাইকোর্ট।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন আবিদ আলী ও শাদাকাত আলী। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে লাহোর-শিয়ালকোট মোটরওয়েতে এই আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী ওই নারী পর্যটকের গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি গভীর রাতে মহাসড়কে আটকা পড়েন। সাহায্যের জন্য ফোন করার সময় দুই অভিযুক্ত সেখানে এসে গাড়ির জানালা ভেঙে তাঁকে এবং তাঁর সন্তানদের পাশের একটি মাঠে নিয়ে যায়। এরপর তারা ওই নারীকে যৌন নির্যাতন করে।

২০২১ সালের মার্চে একটি নিম্ন আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তারা লাহোর হাইকোর্টে আপিল করে শাস্তি লঘুর আবেদন জানায়। তবে বুধবার বিচারপতি সৈয়দ শাহবাজ আলী রিজভি ও তারিক মাহমুদ বাজওয়া তাদের আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, ‘২০২০ সালে লাহোরে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ফরাসি নারীর ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির আপিল লাহোর হাইকোর্ট খারিজ করেছেন এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।’

ঘটনাটি পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে সে সময়।

ঘটনার পর এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে রাতে একা গাড়ি চালানোর জন্য সমালোচনা করেছিলেন বলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ে। পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছিলেন, একজন পুরুষের সঙ্গ ছাড়া রাতে বের হওয়া উচিত হয়নি। লাহোরের তৎকালীন পুলিশ প্রধানও বলেছিলেন, পাকিস্তানে কেউ তাদের ‘বোন বা মেয়েদের এত রাতে একা ভ্রমণ করতে দেবে না’ এবং ওই নারী সম্ভবত পাকিস্তানকে নিজের দেশের মতো নিরাপদ ভেবেছিলেন।

ঘটনার পর পাকিস্তান নতুন ধর্ষণবিরোধী আইন প্রণয়ন করে। আইনে যৌন সহিংসতার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ধারাবাহিক ধর্ষকদের ক্ষেত্রে রাসায়নিক খোজাকরণ (কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন) করার বিধানও রাখা হয়।

কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির যৌন আকাঙ্ক্ষা বা লিবিডো কমিয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই উদ্যোগকে সমর্থন করলেও মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ এর কার্যকারিতা ও অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত