Ajker Patrika

খামেনির মৃত্যুতে আইআরজিসির শোক, ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯: ০৫
খামেনির মৃত্যুতে আইআরজিসির শোক, ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা
আইআরজিসির কমান্ডারদের সঙ্গে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: এএফপি

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা। এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি। তারা ঘোষণা দিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগুলোতে ‘ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করা হবে শিগগির।

ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ‘আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করছি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মানবতার সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে খামেনির শাহাদাত এই মহান নেতার বৈধতা এবং তাঁর একনিষ্ঠ সেবার স্বীকৃতিরই একটি চিহ্ন।’

এতে আরও যোগ করা হয়, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত...তাদের রেহাই দেবে না।’ বিবৃতি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইআরজিসি ‘দৃঢ় অবস্থানে’ থাকবে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই অভিযান ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই’ শুরু হবে এবং এর লক্ষ্যবস্তু হবে অঞ্চলের ‘দখলকৃত এলাকা এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো।’

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তিনি তাঁর ‘নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে মারা গেছেন।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আজ রোববার ভোরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কথাও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তিনি খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল ইরানি জনগণের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের জন্য ন্যায়বিচার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। খামেনি ও তাঁর রক্তপিপাসু বাহিনীর হাতে নিহত বা পঙ্গু হওয়া অসংখ্য আমেরিকান এবং বিশ্ববাসীর জন্য আজ সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’

ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়াতে পারেননি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য শীর্ষ নেতারা পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। ইরানি জনগণের জন্য এখন তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যই আর যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন না এবং তাঁরা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) প্রার্থনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত রাতেই বলেছিলাম—এখন চাইলে তারা দায়মুক্তি পাবে, কিন্তু দেরি করলে কপালে মৃত্যু আছে!’

ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, খামেনির মৃত্যুর পাশাপাশি মাত্র এক দিনের অভিযানেই ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা ধ্বংস বা ‘বিলীন’ হয়ে গেছে। তবে এখানেই থামছে না অভিযান। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে এই বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি, খামেনি আর বেঁচে নেই। তিনি শুধু বলেন, যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ক্রমেই আভাস স্পষ্ট হচ্ছে যে ইরানের ‘স্বৈরশাসক’ আর নেই।

বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ তথ্য দাবি করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের তরফ থেকে এ ব্যাপারে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য আসেনি।

অবশ্য এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, খামেনি কী অবস্থায় আছেন, তা স্পষ্ট করে বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত