Ajker Patrika

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও মার্কিন সিনেটের কথায় ইরানে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ১৬
মস্কোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে লক্ষ্য করে ট্রাম্প ভারতের প্রতি সমালোচনা বাড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মস্কোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে লক্ষ্য করে ট্রাম্প ভারতের প্রতি সমালোচনা বাড়িয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থী এক আইনপ্রণেতার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী হস্তক্ষেপের তালিকায় থাকতে পারে ইরান। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

গত সোমবার দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু হস্তক্ষেপের’ কথা বিবেচনা করছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল বিশ্বাস করে, কিছুদিন আগে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণ করার ঘটনাটি সম্ভবত এটিই নির্দেশ করে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ঝুঁকির মাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ফক্স নিউজে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা বেসবল হ্যাট পরে উপস্থিত হওয়ার পর এই প্রতিবেদনটি সামনে আসে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা ও আশা করি, ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন আমরা ইরানকে আবার মহান করে তুলব।’

দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ হস্তক্ষেপের ঠিক আগে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে সরকার যদি কঠোর দমনপীড়ন চালিয়ে যায়, তবে ইরানিদের ‘উদ্ধার’ করতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটের কারণে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভারে দেশটির স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের কার্যত ধস নেমেছে।

ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরান যদি তাদের চিরচেনা প্রথা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং প্রস্তুত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ!’

ট্রাম্পের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক মাইক পম্পেও সপ্তাহান্তে মাদুরোর পতন এবং ইরানের মধ্যে তুলনা টেনেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘মাদুরো যখন নিউইয়র্কের পথে, ভেনেজুয়েলার জনগণের এখন স্বাধীনতার এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং মার্কিন জনগণ এখন এমন এক ব্যক্তির বিচার করতে পারবে, যে আমাদের মারার জন্য মাদক পাচার করত। আমি প্রার্থনা করি, ইরানি নেতারা, যারা মাদুরোকে সমর্থন দিয়ে আসছিল, তারাও যেন শিগগির মহান ইরানি জনগণের ক্ষতি করতে অক্ষম হয়ে পড়ে।’

ভেনেজুয়েলায় বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের এই মানসিকতা অনেক দেশকে আতঙ্কিত করেছে। মার্কিন এই নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কিউবা, কলম্বিয়া এবং মেক্সিকো তার পরবর্তী তালিকায় থাকতে পারে।

রোববার হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকায় ঢাকা অবস্থায় দেখা যায় এবং পাশে লেখা ছিল ‘শিগগির’।

মাদুরো চীন, রাশিয়া এবং ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে হাজিরা দেন, যেখানে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারকো-টেররিজম (মাদক-সন্ত্রাস), মাদক পাচার এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মাদুরো বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি অপরাধী নই। আমি একজন ভদ্র মানুষ, আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।’

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। ভেনেজুয়েলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এর আগে গত সপ্তাহের শনিবার ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে। একই সময়ে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদুরোর সুরক্ষায় নিয়োজিত ৩০ জনের বেশি কিউবান নিরাপত্তাকর্মী মার্কিন অভিযানে নিহত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলায় হামলার ঠিক আগের দিনগুলোতে নেতানিয়াহু ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। রোববার তিনি ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে প্রথম মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ’ইসরায়েল সরকার, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং আমার নিজস্ব নীতি—আমরা ইরানি জনগণের সংগ্রাম এবং তাদের মুক্তি, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। এটি বেশ সম্ভব যে আমরা এমন এক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যখন ইরানি জনগণ তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত