Ajker Patrika

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ উদ্দেশ্য, তেহরান মানলেই যুদ্ধ শেষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯: ২২
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ উদ্দেশ্য, তেহরান মানলেই যুদ্ধ শেষ

ইরানে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চালানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোটাদাগে তিনটি উদ্দেশ্য আছে। এমনটি মনে করেন সাবেক মার্কিন জেনারেল মার্ক কিমিট। তাঁর মতে, ইরান এসব উদ্দেশ্য পূরণের মার্কিন দাবি মেনে নিলেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল মার্ক কিমিট বলেছেন, বাইরে কিছু ‘বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা’থাকলেও ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। এই উদ্দেশ্যগুলো হলো—দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক (তথা সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো) নির্মূল করা।

তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে—ডেমোক্র্যাটসহ অন্যদের এই আশঙ্কাকে তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। এর পেছনে তিনি একাধিক কারণ তুলে ধরেন। কিমিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) স্পষ্ট করেছেন যে তিনি তথাকথিত ফরএভার ওয়ার বা অন্তহীন যুদ্ধে জড়াতে চান না; যেসব যুদ্ধে ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে সেনারা আটকে পড়ে।’

কিমিট আরও বলেন, ‘কারণ, তখন মিশনের লক্ষ্য সামরিক অভিযান থেকে সরে গিয়ে জাতি গঠন, স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা বা এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় কাজে মোড় নেয়। তাই আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুধু ওই তিনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই মনোনিবেশ করে এবং এর বাইরে না যায়, তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে। এটি একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ। কারণ, এটি তখনই শেষ হবে, যখন ইরানিরা বুঝতে পারবে যে তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা প্রয়োজন।’

এই অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আরও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে, তবে শর্ত হলো—তেহরানকে আগেভাগেই ওয়াশিংটনের ওই তিনটি দাবি মেনে নিতে হবে।’

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল। কিন্তু এর শেষ কখন এবং কীভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইরানই। এক বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের সূচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে তেহরানের হাতেই।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আব্বাস আরাগচি লেখেন, গত দুই দশকে ঠিক পূর্বে আফগানিস্তান, পশ্চিমে ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরাজয় নিয়ে তারা পর্যাপ্ত সময় ধরে পড়াশোনা করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই ইরান বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে।

আব্বাস আরাগচি আরও বলেন, রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়ে ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলা যাবে না।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বিকেন্দ্রীভূত মোজাইক ডিফেন্স Decentralized Mosaic Defense বা খণ্ড খণ্ড বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কাঠামোর কারণে ইরানই নির্ধারণ করবে কখন এবং কীভাবে এই যুদ্ধের ইতি টানা হবে।

উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান, ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল। সেই প্রক্রিয়া চলাকালেই গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ইরানের ওপর হামলা শুরু করে বলে দাবি তেহরানের।

গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দফার আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। কিন্তু পরে শুরু হওয়া তীব্র সামরিক অভিযানে সেই অগ্রগতি আড়ালে পড়ে যায়।

ইসরায়েল-মার্কিন আগ্রাসনে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এর জবাবে ইরান অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ শুরু করেছে। এই অভিযানের আওতায় অঞ্চলের ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত