
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বার্ষিক বাজেট পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের মেয়াদ আগামী শরৎকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হলো। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ২৭ হাজার কোটি ডলারের এ বাজেট পাস হয়।
ইসরায়েলের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই বাজেটে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার করা হয়েছে, যার ফলে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটে কাটছাঁট করতে হয়েছে।
এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও গাজায় টানা দুই বছরের যুদ্ধের প্রভাবে দেশ যখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে, তখন অতি-অর্থোডক্স (কট্টরপন্থি) ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই বাজেটকে ‘রাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘পেটুক ও ফাঁকিবাজদের এই সরকার রাতের আঁধারে ডাকাতি করেছে।’
আরেক পোস্টে বেনেট উল্লেখ করেন, বাজেটে গৃহীত কৃচ্ছ্রসাধন নীতির ফলে গড়ে প্রতিটি ইসরায়েলি পরিবারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার শেকেল (৩১৫৯ ডলার) ব্যয়ভার বহন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫ শতাংশের বেশি সম্পত্তি কর বৃদ্ধি এবং শিশু ভাতা স্থগিত করার মতো বিষয়গুলো।
তবে বিরোধী দলগুলোর ক্ষোভের মূল কারণ শেষ মুহূর্তে যুক্ত করা একটি সংশোধনী, যার মাধ্যমে অতি-অর্থোডক্স স্কুলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলে অধিকাংশ ইহুদির জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও অতি-অর্থোডক্স তরুণরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে যখন অতিরিক্ত সৈন্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, তখন তাদের এই অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
তবে অতি-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ বাজেটের প্রশংসা করে বলেছেন, এটি সকল ইসরায়েলি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করবে।
নেতানিয়াহু সরকারের চার বছর মেয়াদী শাসনের এখন শেষ কয়েক মাস চলছে এবং আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক। ইসরায়েলি সরকারগুলো সাধারণত তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারে না। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেলেও, এই বাজেট পাসের ফলে তিনি মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
পার্লামেন্ট সচিবালয়ের তথ্যমতে, ৬২-৫৫ ভোটে বাজেটটি পাস হয়। অধিবেশন চলাকালে ইরান থেকে জেরুজালেমের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্ক সংকেত বা সাইরেন তিনবার বাধা সৃষ্টি করে। নিরাপত্তার খাতিরে মূল কক্ষের বদলে বোমা নিরোধক আশ্রয়ের নিকটবর্তী একটি অডিটরিয়ামে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে, ইসরায়েলিরা যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও নেতানিয়াহু বা তাঁর রাজনৈতিক জোট এর থেকে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে না। ইরান থেকে প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে এবং পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।
নির্বাচন শরৎকাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য একটি কৌশল হতে পারে, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি কিছুটা ফিকে হলে তিনি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারেন। তবে ওই সময়টি হবে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ৭ অক্টোবরের হামলার বর্ষপূর্তির কাছাকাছি।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে। এর ফলে আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী ‘পাসওভার’ উৎসবের শুরুতেও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে আরও চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এদিকে, ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
২৭ মিনিট আগে
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এক ভয়াবহ ও নেপথ্য দিক উন্মোচিত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে একটি স্পোর্টস হল এবং একটি স্কুলে আমেরিকার নবনির্মিত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ বা ‘প্রিজম’ (PrSM) আঘাত হেনেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন বাহিনী ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্পাহানে শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে এই হামলার প্রতিবাদে ইরানি জনতা রাজপথে নেমে এসেছে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
রঙিন মেকআপ, লাল নাক আর বাহারি পোশাক—সাধারণত যাঁদের দেখলে শিশুদের মুখে হাসি ফোটে, গতকাল সোমবার বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের রাস্তায় তাঁদের দেখা গেল এক ভিন্ন রূপে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এবং জীবিকা হারানোর শঙ্কায় রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করলেন দেশটির শত শত পেশাদার ক্লাউন বা জোকার বা ভাঁড়।
২ ঘণ্টা আগে