Ajker Patrika

দেলসি রদ্রিগেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৪৮
দেলসি রদ্রিগেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইট বুধবার হালনাগাদ করে জানানো হয়, রদ্রিগেজের নাম ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড ন্যাশনালস লিস্ট’ বা বিশেষ তালিকাভুক্ত নাগরিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও জোরালো হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন ট্রাম্প।

বুধবার দেওয়া এক পোস্টে রদ্রিগেজ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত আরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

রদ্রিগেজ লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই অগ্রগতি ও দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশের ওপর আরোপিত বাকি সক্রিয় নিষেধাজ্ঞাগুলোও প্রত্যাহারে ভূমিকা রাখবে।’

এর আগে ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (ওএফএসি)-এর অধীনে রদ্রিগেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হয় এবং মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়।

সে সময় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, রদ্রিগেজ সরকারি নেতাদের এমন একটি গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন, যাঁরা ‘ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ধ্বংসে জড়িত’ এবং ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের ক্ষতি করে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করছেন’।

নিষেধাজ্ঞার আরোপের সময় রদ্রিগেজ দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো অপহৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে এই অভিযানে আটক করা হয়। বর্তমানে মাদক পাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে এই মার্কিন অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রদ্রিগেজ নিজেও মাদুরো ও ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

তবে মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন রদ্রিগেজ। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের খনিগুলো বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করতে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন তিনি।

একইভাবে খনি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে গত মার্চে আরেকটি বিলের প্রাথমিক ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এসব সংস্কারের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করার অঙ্গীকার করেছেন। এমনকি মাদুরোর অপহরণের পর তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, রদ্রিগেজ তাঁর দাবি না মানলে দ্বিতীয় দফায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

গত ৪ জানুয়ারি ‘দ্য আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ট্রাম্প বলেন, ‘সে (রদ্রিগেজ) যদি সঠিক কাজ না করে, তবে তাকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে, যা সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বেশি।’

অন্যদিকে, রদ্রিগেজ মাদুরোকে অপহরণের বিষয়ে সীমিত সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সাত বছর বন্ধ থাকার পর গত সোমবার থেকে কারাকাসে তাদের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

এদিকে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলেও দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে ইরান ও কিউবার ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর মডেল হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মাদুরোকে সরালেও ভেনেজুয়েলা সরকারের কাঠামো অনেকটা আগের মতোই অপরিবর্তিত রেখেছেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত