
২৪৯ বছর আগে, দরিদ্র ইউরোপীয় ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিশুদের বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। আজ সেই সড়ক কলকাতার একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার অংশ। এখানে রয়েছে অসংখ্য হোটেল ও দোকান, যেগুলোতে প্রতিবেশী বাংলাদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বেশি। তবে একই এলাকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এমন অনেক ভবন ও স্থাপনা, যেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল বুধবার যে হোটেলে আগুন লেগে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, সেটি ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে অবস্থিত। সড়কটির সরকারি নাম এখন মির্জা গালিব স্ট্রিট। উত্তরে এটি এসএন ব্যানার্জি রোড এবং দক্ষিণে পার্ক স্ট্রিটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই সড়ক, পাশের কিড স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং কাছের নিউ মার্কেট এলাকার কিছু অংশকে একসঙ্গে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলা হয়।
এখানে শাড়ি, শেরওয়ানি ও সালোয়ার-কামিজের দোকান, বাঙালি খাবারের রেস্তোরাঁ, হোটেল ও গেস্ট হাউস, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটর, মানি এক্সচেঞ্জ এবং সস্তা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করা ফুটপাতের দোকান রয়েছে। এসব ব্যবসা বাংলাদেশের ক্রেতা ও পর্যটকদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান বলেন, ‘পুরো এলাকায় প্রায় ১ হাজার হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউস রয়েছে।’ এর সঙ্গে দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যোগ করলে এই এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ আরও অনেক বড়। এখানকার ব্যবসার ওপর নির্ভর করে দশ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবিকা।
তবে সবসময় এমন ছিল না। ১৯১৫ সালে প্রকাশিত ‘ক্যালকাটা স্ট্রিট ডিরেক্টরি’—যা পিএম বাগচি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড প্রকাশ করেছিল, সেখানে বলা হয়েছে—পরে যে জায়গাটি ফ্রি স্কুল স্ট্রিট নামে পরিচিত হয়, সেটি একসময় ছিল একটি ‘বাঁশ বাগান।’ ডিরেক্টরিতে লেখা হয়েছে, ‘বার্চিয়ার সাহেব ১৭৩১ সালে সাহেবদের সন্তানদের জন্য ওই এলাকায় একটি স্কুল চালু করেন।’
রিচার্ড বার্চিয়ার ছিলেন এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও ধর্মযাজক। পরে তিনি বোম্বের গভর্নরও হন। ইউরোপীয় ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিশুদের শিক্ষিত করার জন্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নেওয়া প্রথম দিককার উদ্যোগগুলোর একটি ছিল এই স্কুল। তবে শেষ পর্যন্ত স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রি স্কুল সোসাইটি ১৭৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দরিদ্র ইউরোপীয় অনাথ এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করাই ছিল এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। সেই সংগঠনের নাম থেকেই সড়কটির নাম হয় ফ্রি স্কুল স্ট্রিট।
আড়াই শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে এসে সড়কটির চেহারা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ১৯৬৯ সালে সড়কটির নাম বদলে মির্জা গালিব স্ট্রিট রাখা হয়। এই সড়কেই রয়েছে কলকাতার ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের সদর দপ্তর এবং খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর। একই সঙ্গে সড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য হোটেল, গেস্ট হাউস, খাবারের দোকান ও মুদ্রা বিনিময়ের প্রতিষ্ঠান।
বুধবার দুপুরে আগুন লাগা ভবনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক মফিজুল ইসলাম মিলন। ব্যবসায়ী মিলন নিয়মিত কলকাতায় আসেন। নিউমার্কেট এলাকায় তিনি ২৫ বারেরও বেশি বিভিন্ন হোটেলে থেকেছেন। এবার তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা ভিসায় কলকাতায় এসেছেন। তাঁরা থাকছেন বাগুইআটির একটি ভাড়া বাসায়।
মিলন বলেন, ‘আগুন লাগার খবর যখন পাই, তখন আমি মধ্য কলকাতায় ছিলাম। শুনেছিলাম সেখানে কয়েকজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাই তাদের মধ্যে পরিচিত কেউ আছেন কি না, দেখতে দৌড়ে এখানে চলে আসি।’ তিনি জানান, এলাকার অনেক হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, সে বিষয়ে তিনি জানেন।
তবে মিলনের ভাষায়, ‘হোটেলগুলো সস্তা। বিশেষ করে চিকিৎসার ভিসায় আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেককে কয়েক সপ্তাহ, অনেক সময় এক মাসেরও বেশি কলকাতায় থাকতে হয়। তাদের অনেককেই কম খরচের হোটেল খুঁজতে হয়।’
এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, শিখা ইনে ঘটে যাওয়া আগুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পুরো এলাকাতেই এমন বহু ভবন রয়েছে, যেগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের সঙ্গে সদর স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে এমনই একটি ভবন রয়েছে। ‘G+2’ বা নিচতলাসহ মোট তিনতলা ভবনটির দুটি সরু প্রবেশপথের পাশে অন্তত ছয়টি লজ ও গেস্ট হাউসের সাইনবোর্ড দেখা গেছে। সেখানে আলাদা কোনো জরুরি বহির্গমন পথের চিহ্ন ছিল না।
ভবনের ভেতরে ওপরের তলাগুলোতে যাওয়ার জন্য রয়েছে একটি সরু সিঁড়ি। প্রতিটি তলায় রয়েছে কয়েকটি করে গেস্ট হাউস। এখানে কক্ষের ভাড়া শুরু হয় প্রতি রাত ৬০০ রুপি থেকে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং সংযুক্ত বাথরুমসহ একটি কক্ষের ভাড়া প্রতিদিন ১ হাজার রুপি।
নিচতলার দোকানগুলোর সামনে একটি জট পাকানো মিটার বক্স এবং স্তূপ করে রাখা বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও কাপড়ের জিনিসপত্র আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। মেট্রো সংবাদপত্রের প্রতিবেদক সেখানে যে একমাত্র অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামটি দেখতে পেয়েছেন, সেটি ছিল একটি হোসপাইপ। একটি গেস্ট হাউসের কাউন্টারে বসে থাকা এক ব্যক্তি জানান, ভবনের সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ওই হোসপাইপটি রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সিএআর) পশ্চিমাঞ্চলের একটি ছোট গ্রামে ভূমিধসের কারণে একটি ছোট আকারের সোনার খনিতে ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। গতকাল বুধবার স্থানীয় কর্মকর্তা ও ত্রাণকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জামবায়ে গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
১ মিনিট আগে
অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই খবরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু। তাঁর দাবি, সীমান্তের ওই অংশ এখনো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয় এবং চীন সেখানে কিছু এলাকায় অবকাঠামো...
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এর পর নতুন করে সতর্কতা জোরালো হয়েছে যে, দেশটি একটি বড় ধরনের রাজস্ব ও ঋণ সংকটের দিকে এগোচ্ছে। কারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও ঋণের সুদ পরিশোধের...
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করলে তাদের ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ছয় মাসের কাছাকাছি সময়ে পৌঁছানোর মধ্যেই ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দিলেন।
১ ঘণ্টা আগে