Ajker Patrika

২০ রুপি ঘুষের অভিযোগে ৩০ বছরের আইনি লড়াই, খালাস দুই সরকারি কর্মচারী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৪৪
২০ রুপি ঘুষের অভিযোগে ৩০ বছরের আইনি লড়াই, খালাস দুই সরকারি কর্মচারী
ছবি: এনডিটিভি

ভারতে মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শুরু হওয়া একটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৩০ বছর পর। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গুজরাটের দুই সরকারি কর্মচারীকে খালাস দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছেন, ঘুষ দাবি করার বিষয়টি প্রমাণিত না হলে শুধু অভিযুক্তের কাছ থেকে ২০ রুপি উদ্ধারের ভিত্তিতে দণ্ড বহাল রাখা যায় না।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ মামলাটির রায় দেন। খালাস পাওয়া দুজনের একজন ছিলেন ক্লার্ক এবং অন্যজন পিয়ন।

মামলার ঘটনা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির। শিক্ষাগত সুবিধা পাওয়ার জন্য আয় সনদ নিতে আনন্দ জেলার বেচারি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়েছিল এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ ওঠে, সনদ দেওয়ার বিনিময়ে ক্লার্ক ওই শিক্ষার্থীর কাছে ১২০ রুপি দাবি করেন। এর মধ্যে ১০০ রুপি নিজের জন্য এবং ২০ রুপি পিয়নের জন্য চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে শিক্ষার্থী দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে (এসিবি) অভিযোগ করেন। এরপর এসিবি ফাঁদ পাতে এবং চিহ্নিত ১২০ রুপির নোট দিয়ে শিক্ষার্থীকে অভিযুক্তদের কাছে পাঠায়। আয় সনদ পাওয়ার পর শিক্ষার্থী পিয়নকে ২০ রুপি দেন। অভিযান চালিয়ে ওই টাকা পিয়নের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে ক্লার্কের কাছে ১০০ রুপি পাওয়া যায়নি।

সুপ্রিম কোর্ট মামলার বিভিন্ন অসংগতিও তুলে ধরেন। আদালত জানতে পারেন, অন্য এক ঘটনায় শিক্ষার্থী দাবি করেছিলেন, প্রথমে ২০০ রুপি ঘুষ চাওয়া হয়েছিল এবং পরে ১২০ রুপিতে সমঝোতা হয়। কিন্তু বিচারিক আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এমন তথ্য ছিল না।

আদালতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এসিবি শিক্ষার্থীকে ঘুষ দাবি করা হলে পুরো ১২০ রুপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অথচ তিনি শুধু ২০ রুপি পিয়নকে দেন। ক্লার্ক তখন পিয়নের পাশেই ছিলেন, তবু কেন বাকি ১০০ রুপি দেওয়া হলো না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। জেরার সময় শিক্ষার্থী স্বীকার করেন, পিয়ন নিজে তার কাছে কোনো ঘুষ দাবি করেননি।

আদালত আরও লক্ষ্য করেন, আয় সনদ পাওয়ার পরেই ২০ রুপি দেওয়া হয়েছিল। পিয়নের দাবি ছিল, ঈদের আগের দিন হওয়ায় শিক্ষার্থী তাকে ২০ রুপি দিয়েছিলেন—এই ব্যাখ্যাকেও আদালত তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।

দুর্নীতি দমন আইনের ২০ ধারার আইনি অনুমানের প্রসঙ্গ তুলে আদালত বলেন, ঘুষের প্রাথমিক দাবি প্রমাণিত না হলে শুধু ২০ রুপি উদ্ধারের ঘটনা প্রসিকিউশনের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত করে না। ক্লার্কের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদনও আদালত অবৈধ বলে মনে করেন, কারণ অনুমোদনটি অননুমোদিত কর্মকর্তা দিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দুই সরকারি কর্মচারীকেই খালাস দিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত