Ajker Patrika

প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৬: ৩৮
প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত
ভারতের অগ্নি–৫ ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: এএফপি

পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। এমনটি জানিয়েছে সমরাস্ত্র নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। অর্থাৎ এই ১২টি ওয়ারহেড যেকোনো সময় নিক্ষেপ করা যাবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা সিপ্রি তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে জানিয়েছে, ভারত বহু দশকের প্রচলিত নীতি থেকে সরে এসে এখন এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে অপারেশনালভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। এত দিন দেশটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ও তাদের ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা আলাদা সংরক্ষণাগারে রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছিল।

প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটাই প্রথমবার, যখন ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারকে কেবল মজুত নয়, বরং কার্যকরভাবে মোতায়েন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে যেকোনো সময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন উচ্চতর সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

সিপ্রি আরও জানিয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারে সামান্য বৃদ্ধি ঘটেছে। একই সঙ্গে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিতসংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক টহল (ডিটারেন্স প্যাট্রল) পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা আনুমানিক ১৯০টি ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এই অস্ত্রগুলো ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি পারমাণবিক ট্রায়াডের অংশ, যেখানে বিমান, ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সাবমেরিন (এসএসবিএন) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

সিপ্রির গতকাল সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে ভারত শান্তিকালীন সময়ে তার পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলো লঞ্চার থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করে। তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো, যেমন ক্যানিস্টারে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত শান্তিকালেও কিছু ওয়ারহেড তাদের লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ভারত এখনো ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে নিজে থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি অনুসরণ করে। এই নীতি অনুযায়ী ভারত প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। কেবল ভারতের ভূখণ্ডে বা ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক আক্রমণ হলে তার প্রতিশোধে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। দেশটি সীমিত কিন্তু কার্যকর পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখে, যার মূল লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করা, কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানো নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত