আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সোনালি খাতুন এক অন্য রকম জীবন পেতে পারতেন, হয়তো মান্টোর ‘টোবা টেক সিং’-এর মতো একজন হতে পারতেন, যার নিজের বলে কোনো দেশ নেই। ভারতের পুলিশ তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে, আর এখন বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি। যেকোনো সময় সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁকে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানেন না, তাঁর অনাগত সন্তানের পরিচয় কী হবে। ২৬ বছর বয়সী এই নারীর আধার কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে। কিন্তু এই সব সরকারি দলিলপত্র তাঁকে দিল্লির ‘অবৈধ অভিবাসী’র তকমা থেকে রক্ষা করতে পারেনি। সেখানে সম্প্রতি তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের আঁধারে পুশইন করার পর গত বৃহস্পতিবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ পরিচয়পত্রগুলো দেখেই সোনালিকে গ্রেপ্তার করে।
সোনালি, স্বামী দানিশ শেখ এবং ছোট ছেলে সাবির এখন সেই ছয়জন ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের দলে যোগ দিয়েছেন, যাদের শিকড় পশ্চিমবঙ্গে। তা সত্ত্বেও ভারতের বিজেপি সরকার তাঁদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না। তাঁরা এখন বাংলাদেশে কারাবন্দী। এই দলে আরও আছেন সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৬) ও ইমাম দেওয়ান (৬)।
অসহায় এই দলটি দিল্লির রোহিনীতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাঁদের কর্মস্থল। কোনোমতে দিন কাটানোর মতো উপার্জন করতেন তাঁরা। গত ২৬ জুন ‘পরিচয় যাচাই অভিযান’-এর সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে পাঠায় বিএসএফ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের এসপি মো. রেজাউল করিম শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘এই ছয়জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘোরাফেরা করতে দেখে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা আমাদের জানান, তাঁরা ভারতীয় এবং কুড়িগ্রাম সীমান্ত (আসামে) দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন। তাঁরা ঢাকার রাস্তায় কিছুদিন ঘোরাফেরা করে এখানে এসে পৌঁছান। শুক্রবারের আদালতের শুনানিতে তাঁদের কোনো আইনজীবী ছিল না।’
কোনো আইনজীবী তাঁদের পক্ষে না দাঁড়ালে, সোনালিদের আগামী সেপ্টেম্বরে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে। রেজাউল করিম বলেন, তাঁদের ছয়জনের বিরুদ্ধেই ১৯৫২ সালের ‘কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোনালির বাবা ভাদু শেখ, কলকাতা হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেছেন। অর্থাৎ বিনা নোটিশে আটকদের শিগগিরই আদালতে উপস্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ভাদু শেখ বলেন, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে কারাগারে সন্তান প্রসব করতে হতে পারে—এই চিন্তাটাই তাঁর কাছে বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব। আমরা হাইকোর্টে মামলা করেছি, এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারি!’
প্রতিবেশী আরিফ শেখ জানান, সবাই মিলে চাঁদা তুলে বাংলাদেশে তাঁদের জন্য একজন আইনজীবী ঠিক করার চেষ্টা করছেন, যাতে তারা জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।
ভাদু এবং অন্য আবেদনকারী আমির খান, যিনি সুইটি খাতুনের মামাতো ভাই, তাঁদের আবেদনে বলেছেন, যা ঘটেছে তা ‘আইনের সঙ্গে প্রতারণা’। হাইকোর্টে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে।
বাংলাভাষী অভিবাসীদের ওপর ভারতে কথিত হয়রানি এবং সোনালির ‘পুশইন’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট শুনানির জন্য তালিকায় রয়েছে মামলাটি।
পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সোনালি এবং বাকিদের ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছি। আমরা পরিবারকে আইনি সহায়তাও দিচ্ছি।’
এদিকে, গত ১৩ আগস্ট মালদার ২২ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক আমির শেখ রহস্যজনকভাবে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। গত ২৫ জুন তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আমির ২৫ জুন থেকে বাংলাদেশে আটকে ছিলেন, এরপর তাঁর বাবা জিয়েম শেখ হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেন। তিনি জানান, রাজস্থান পুলিশ তাঁর ছেলেকে ‘ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি’ বলে গ্রেপ্তার করেছিল। আমিরের ফিরে আসার কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফ আদালতকে জানায়, তিনি বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে ‘অসাবধানতাবশত’ বাংলাদেশে চলে গিয়েছিলেন।

সোনালি খাতুন এক অন্য রকম জীবন পেতে পারতেন, হয়তো মান্টোর ‘টোবা টেক সিং’-এর মতো একজন হতে পারতেন, যার নিজের বলে কোনো দেশ নেই। ভারতের পুলিশ তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে, আর এখন বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি। যেকোনো সময় সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁকে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানেন না, তাঁর অনাগত সন্তানের পরিচয় কী হবে। ২৬ বছর বয়সী এই নারীর আধার কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে। কিন্তু এই সব সরকারি দলিলপত্র তাঁকে দিল্লির ‘অবৈধ অভিবাসী’র তকমা থেকে রক্ষা করতে পারেনি। সেখানে সম্প্রতি তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের আঁধারে পুশইন করার পর গত বৃহস্পতিবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ পরিচয়পত্রগুলো দেখেই সোনালিকে গ্রেপ্তার করে।
সোনালি, স্বামী দানিশ শেখ এবং ছোট ছেলে সাবির এখন সেই ছয়জন ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের দলে যোগ দিয়েছেন, যাদের শিকড় পশ্চিমবঙ্গে। তা সত্ত্বেও ভারতের বিজেপি সরকার তাঁদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না। তাঁরা এখন বাংলাদেশে কারাবন্দী। এই দলে আরও আছেন সুইটি বিবি এবং তাঁর দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৬) ও ইমাম দেওয়ান (৬)।
অসহায় এই দলটি দিল্লির রোহিনীতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাঁদের কর্মস্থল। কোনোমতে দিন কাটানোর মতো উপার্জন করতেন তাঁরা। গত ২৬ জুন ‘পরিচয় যাচাই অভিযান’-এর সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসাম হয়ে বাংলাদেশে পাঠায় বিএসএফ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের এসপি মো. রেজাউল করিম শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘এই ছয়জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘোরাফেরা করতে দেখে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা আমাদের জানান, তাঁরা ভারতীয় এবং কুড়িগ্রাম সীমান্ত (আসামে) দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন। তাঁরা ঢাকার রাস্তায় কিছুদিন ঘোরাফেরা করে এখানে এসে পৌঁছান। শুক্রবারের আদালতের শুনানিতে তাঁদের কোনো আইনজীবী ছিল না।’
কোনো আইনজীবী তাঁদের পক্ষে না দাঁড়ালে, সোনালিদের আগামী সেপ্টেম্বরে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে। রেজাউল করিম বলেন, তাঁদের ছয়জনের বিরুদ্ধেই ১৯৫২ সালের ‘কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোনালির বাবা ভাদু শেখ, কলকাতা হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেছেন। অর্থাৎ বিনা নোটিশে আটকদের শিগগিরই আদালতে উপস্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ভাদু শেখ বলেন, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে কারাগারে সন্তান প্রসব করতে হতে পারে—এই চিন্তাটাই তাঁর কাছে বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব। আমরা হাইকোর্টে মামলা করেছি, এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারি!’
প্রতিবেশী আরিফ শেখ জানান, সবাই মিলে চাঁদা তুলে বাংলাদেশে তাঁদের জন্য একজন আইনজীবী ঠিক করার চেষ্টা করছেন, যাতে তারা জামিনে মুক্তি পেতে পারেন।
ভাদু এবং অন্য আবেদনকারী আমির খান, যিনি সুইটি খাতুনের মামাতো ভাই, তাঁদের আবেদনে বলেছেন, যা ঘটেছে তা ‘আইনের সঙ্গে প্রতারণা’। হাইকোর্টে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে।
বাংলাভাষী অভিবাসীদের ওপর ভারতে কথিত হয়রানি এবং সোনালির ‘পুশইন’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট শুনানির জন্য তালিকায় রয়েছে মামলাটি।
পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সোনালি এবং বাকিদের ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছি। আমরা পরিবারকে আইনি সহায়তাও দিচ্ছি।’
এদিকে, গত ১৩ আগস্ট মালদার ২২ বছর বয়সী অভিবাসী শ্রমিক আমির শেখ রহস্যজনকভাবে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। গত ২৫ জুন তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আমির ২৫ জুন থেকে বাংলাদেশে আটকে ছিলেন, এরপর তাঁর বাবা জিয়েম শেখ হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস মামলা করেন। তিনি জানান, রাজস্থান পুলিশ তাঁর ছেলেকে ‘ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি’ বলে গ্রেপ্তার করেছিল। আমিরের ফিরে আসার কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফ আদালতকে জানায়, তিনি বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে ‘অসাবধানতাবশত’ বাংলাদেশে চলে গিয়েছিলেন।

চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনার দেশ (নরওয়ে) আমাকে আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল দেয়নি, তাই আমি আর শান্তির তোয়াক্কা করি না। এখন আমি তা-ই করব, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।’
৩৮ মিনিট আগে
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।’
১ ঘণ্টা আগে
চলতি মাসের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চার পাতার একটি ফরম বিতরণ করা হয়। এর শিরোনাম ছিল—‘মসজিদের প্রোফাইলিং’। কিন্তু ভারত সরকারের এই উদ্যোগ কাশ্মীরের মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে একধরনের উদ্বেগ।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এবার নজিরবিহীন বিতর্কের সৃষ্টি হলো। খোদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র (নাতির ছেলে) চন্দ্র বসুকে নাগরিকত্বের প্রমাণ যাচাইয়ের জন্য ‘এসআইআর’ শুনানিতে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নোটিস পাওয়া মাত্রই তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই বিজেপি নেতা।
৪ ঘণ্টা আগে