ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রীর স্বামী, থাকছেন আজকের বিক্ষোভেও

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছেন দেশটির খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরকলা প্রভাকর।
আজ শুক্রবার ‘পিপলস মার্চ টু রিস্টোর ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘পিপলস অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। কর্মসূচিতে যোগদানের বিষয়টি পরকলা নিজেই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, পরকলা প্রভাকর ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেত্রী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে গত ৭ অক্টোবর প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রভাকর এই পদক্ষেপকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক বৈধ নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা ভারতের নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের শামিল। তিনি চলমান এই প্রক্রিয়া বাতিল করে ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা পুনর্বহালের দাবি জানান।
আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার পাশাপাশি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরকলা প্রভাকরের শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস তাঁর স্ত্রীর চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। বিজয়ওয়াড়ার অন্ধ্র লয়োলা কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) থেকে স্নাতকোত্তর ও এমফিল করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস’ (এলএসই) থেকে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮০-র দশকের শুরুতে জেএনইউতে পড়ার সময়ই নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং ১৯৮৬ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রভাকর কখনো কোনো একক দলের আদর্শে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে বিজেপির অন্ধ্রপ্রদেশ ইউনিটের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে অভিনেতা চিরঞ্জীবীর ‘প্রজা রাজ্যম পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হলেও নীতিগত পার্থক্যের কারণে নির্বাচনের আগেই দল ছাড়েন।
পরবর্তীতে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন।
নির্মলা সীতারমন ২০১৯ সাল থেকে দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলালেও, প্রভাকর নিজস্ব স্বতন্ত্র মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সব সময়ই সোচ্চার। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ ‘দ্য ক্রুকড টিম্বার অব নিউ ইন্ডিয়া’-তে তিনি বর্তমান ভারত সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সংকট, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
যদিও তাঁর এসব সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রায়শই অর্থমন্ত্রীর স্বামী হিসেবে বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাকরের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতামত তাঁর নিজস্ব একাডেমিক গবেষণার ফসল এবং তা মোদী সরকার বা তাঁর স্ত্রীর অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আজকের এই প্রতিবাদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, ছাত্র প্রতিনিধি, কৃষক নেতা ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রভাকর এর আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে মিলে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে সিজেপি-এর আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।










