Ajker Patrika

কোন আইনে অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল মোদি সরকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ০৯
কোন আইনে অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল মোদি সরকার
ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ -এর ৭ ও ২৯ নম্বর ধারা উল্লেখ করে তাঁকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

অভিনেতা ইমরান খান বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা আমির খান এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মনসুর খানের ভাগনে। এ ছাড়া তিনি বলিউডের আরেক প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির হুসাইনের নাতি।

গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ইমরান খানকে সাময়িকভাবে আটক করে। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা কিরীট সোমাইয়ার করা অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়।

সোমাইয়ার অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন ইমরান খান। সাংবাদিকদের সোমাইয়া বলেন, ‘ভারতে এমন অনেক ইমরান খান রয়েছেন যারা এখানে বাস করেন এবং দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করেন। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।’

ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ৭ ও ২৯ ধারা কী?

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দেওয়া নোটিশে উল্লিখিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ -এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যেকোনো বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে, ২৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে—আইনের শর্তাদি ভঙ্গ করলে, আইনভিত্তিক নির্দেশ অমান্য করলে বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিকূল প্রতিবেদন থাকলে সরকার সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার বা অপসারণ করতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘ইমরান খান বিদেশি নাগরিক, তিনি ভারতের নাগরিক নন। সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, ভারতের মাটিতে বিদেশি নাগরিকদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

তবে সরকারের পাঠানো এই নোটিশ এবং অভিযোগই চূড়ান্তভাবে ইমরান খান কোনো অপরাধ করেছেন কিনা তা প্রমাণ করে না বলে আইনি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ওসিআই কার্ড কী?

ইমরান খান ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক হিসেবে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ডের অধিকারী। এটি মূলত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের দেওয়া এক ধরনের সুবিধাজনক ভিসা ব্যবস্থা, যা আজীবন ভারতে একাধিকবার প্রবেশের অধিকার দেয়। তবে ‘ওসিআই’ কার্ডধারী ব্যক্তিরা ভারতের নাগরিকত্ব বা পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করেন না।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিতরাজ কৌশল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওসিআই কার্ডকে মূলত ভারতের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্ক হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত, নাগরিকত্ব হিসেবে নয়। এটি আজীবন প্রবেশাধিকারের ভিসা দেয়। তবে ভারতের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ওসিআই কার্ডধারীদের ভোটাধিকার বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো রাজনৈতিক অধিকার দেওয়া হয় না।’

ওসিআই কার্ডধারীরা কি বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন?

আইনজীবী কৌশলের মতে, ভারতীয় আইনে সরাসরি ওসিআই কার্ডধারীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিতে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। তবে ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের অধিকার’ কেবল ভারতের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য।

তিনি জানান, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষার অধিকার) ভারতের মাটিতে থাকা সব ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য, তা সে নাগরিক হোক বা বিদেশি। তবে মূল ঝুঁকিটি ইমিগ্রেশন আইনের দিক থেকে তৈরি হয়।

আইনবিদদের একাংশ বলছেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দেশের আইন ভাঙলে বা জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ করলে তার ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা সম্ভব, তবে তা কেবল শুনানির পরেই করা যেতে পারে। অন্যদিকে, ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে সরকারের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ বা দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

কোন আইনে অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল মোদি সরকার