Ajker Patrika

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দেওয়া সরকারি চাকরি বাতিল করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দেওয়া সরকারি চাকরি বাতিল করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট
চলতি মাসের শুরুতে পদদলিত হয়ে নিহতদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে ৩২ জনকে সরকারি চাকরি দেয় বিজয়ের সরকার। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের সেপ্টেম্বরে তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল টিভিকের সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনা পর চলতি মাসের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি (৩২ জনকে) দেন বিজয়। তবে তাঁর এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রায়ে দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

আদালত জানিয়েছে, এটি ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (সমতার অধিকার) এবং ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা) লঙ্ঘন।

আজ সোমবার দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একই রকম দাবি তোলার সুযোগ করে দেবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডিএমকে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিজয়ের জনসভায় এই পদদলনের ঘটনা ঘটেছিল। এতে শিশুসহ মোট ৪১ জন মারা যান।

পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, বিজয়ের দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সমাবেশস্থলে নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ভিড় জমে যায় এবং পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকাসহ বেশ কিছু ত্রুটি ছিল। ফলশ্রুতিতে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে টিভিকে এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে।

এরপর গত বছরের অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের ওপর জোর দিয়ে মামলাটির তদন্ত রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের (এসটিআই) হাত থেকে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সিবিআই জনসভার ভিড় ব্যবস্থাপনা, বিজয়ের আসার সময়সূচি এবং দলীয় আয়োজক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবসহ নানা দিক খতিয়ে দেখছে।

চাকরি প্রদান ও রাজনৈতিক বিতর্ক

চলতি মাসের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পদদলনে নিহত পরিবারগুলোর বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে ৩২ জনের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন বিজয়। শোকাহত পরিবারগুলোকে আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এমন ত্রাণ ও পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দল এআইএডিএমকে। দলের সিনিয়র নেতা আর বি উদয়কুমার একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ পরিবারের লাখ লাখ যুবকের জীবিকার ওপর আঘাত, যাঁরা সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করে আছেন।

আর বি উদয়কুমার অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের নিয়মকানুন ও আইনগত প্রক্রিয়া না মেনে রাজনৈতিক কারণে এসব চাকরি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ুতে সব ধরনের সরকারি চাকরির নিয়োগ অবশ্যই তামিলনাড়ু পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থে নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত