Ajker Patrika

সহকর্মীকে ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সহকর্মীকে ধর্ষণ মামলায় তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ভারতের অনুসন্ধানী সাময়িকী তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপাল। ছবি: পিটিআই

ভারতের অনুসন্ধানী সাময়িকী তেহেলকার সাবেক সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ ২১ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীকে দেওয়া হবে।

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি নীলা গোখলে ও অমিত জামসানদেকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত তেজপালের আইনজীবীদের আবেদনের পর তাঁকে আত্মসমর্পণের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।

এর আগে একই দিন আদালত গোয়ার একটি দায়রা আদালতে ২০২১ সালে তেজপালের খালাসের রায় বাতিল করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ের ভিত্তি টেকসই ছিল না।

সাজা ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ভুক্তভোগী বারবার ‘না’ বলার পরও তেজপাল নির্যাতন চালিয়ে গেছেন এবং তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। তবে ঘটনাটি ১৩ বছর আগের এবং এরপর তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ ওঠেনি—এ বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।

তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (২) (এফ) ও ৩৭৬ (২) (কে) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি এবং বিবস্ত্র করার উদ্দেশে হামলার অভিযোগে ৩৫৪,৩৫৪এ ও ৩৫৪বি ধারায়ও দণ্ডিত করা হয়েছে। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে, ফলে তাঁকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার পর তেজপাল আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করে বলেন, তাঁর বয়স এখন ৬২ বছর, তিনি দুই মেয়ের বাবা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তবে রায়ের পর তিনি জানান, বোম্বে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

অন্যদিকে গোয়া সরকারের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, তেজপাল ভুক্তভোগীর ওপর কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন এবং তিনি কোনো অনুশোচনা দেখাননি। এমন অপরাধে কঠোর শাস্তি দিয়ে ‘না মানেই না’—এই বার্তা সমাজে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ার থিংকফেস্ট অনুষ্ঠানের সময় একটি হোটেলের লিফটে নিজের অধীনস্থ এক নারী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তেজপালের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়া পুলিশ ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা করে এবং একই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তিনি জামিন পান।

মামলার বিচার শুরু হয় ২০১৭ সালে। ২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার একটি আদালত তদন্তে ত্রুটি এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন না করার কারণ দেখিয়ে তাঁকে খালাস দেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে গোয়া সরকার। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতেই বোম্বে হাইকোর্ট খালাসের রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত ও দণ্ডিত করলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত