
সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এ মামলায় আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে মানবিকতা অনেক বেশি জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে নথি দাখিল করেছে। কেন্দ্রের এই অঙ্গীকার নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই নারীকে অবিলম্বে চিকিৎসা সাহায্য দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছাকাছি থাকার অনুমতি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘এমন কিছু মামলা থাকে যেখানে আইনের কঠোরতাকে মানবিকতার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কিছু ক্ষেত্রে এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।’ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সোনালী খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবিরকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তাদের ওপর যথোপযুক্ত নজরদারি রাখা হবে।
তুষার মেহতা আরও জানান, যেহেতু সরকারি বাহিনীই এই বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের অবস্থান নথিভুক্ত করে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশ আবশ্যক। সেই অনুযায়ী, আদালত সরকারকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের লিখিত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সোনালীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালীর পক্ষে সঞ্জয় হেগড়ের অনুরোধ বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দেন যে, তিনি যাতে বীরভূম জেলায় যেতে এবং সাময়িকভাবে সেখানে থাকতে পারেন, যেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।
আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বীরভূমের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, প্রসব সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে। তাঁর আট বছরের সন্তানও যেহেতু সঙ্গে থাকবে, তাই সেই শিশুটিকেও সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই কাজগুলো একদিনের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।
আদালত আরও জানতে চান, সোনালীর বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। আদালত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘যদি তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক হন, তবে সেও ভারতীয় নাগরিক, আর তার ছেলেও তাই। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়া উচিত।’ এরপর আদালত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, আরও চারজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নেওয়া হয়।
বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৬ সেপ্টেম্বরের দুটি নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আপিলের মাধ্যমে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জুনে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ৬ ব্যক্তিকে (যার মধ্যে সোনালী, তাঁর নাবালক ছেলে ও স্বামী অন্তর্ভুক্ত) ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। হাইকোর্ট অন্য একটি পিটিশনেও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে আরেকজন নারী ও তার দুই নাবালক ছেলের বিষয় ছিল।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছিল, সোনালী বহিষ্কারের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন জানার পর যেন তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বেঞ্চ তখন মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আপনারা নির্দেশিকা নিয়ে বুধবার জানান।’ সেই সময় তুষার মেহতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিলে যে দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উত্তরে বেঞ্চ বলেছিল, ‘আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নজরদারি সাপেক্ষে যা যা দরকার, তা করা যেতে পারে।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর সন্তানের মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং কেন্দ্রের আইনি যুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাকি চারজন ব্যক্তির অবস্থা আগামী সপ্তাহে বিবেচনা করা হবে।

আদেশ অনুযায়ী—তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না,২২ বছর বয়সী রাজকুমারীর বিষয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান চালাতে পারবেন না এবং তাঁর বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারবেন না।
১ ঘণ্টা আগে
এ ঘটনায় আহত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি...
৩ ঘণ্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত গত এক সপ্তাহে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসসহ এর সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো...
৪ ঘণ্টা আগে