আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এ মামলায় আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে মানবিকতা অনেক বেশি জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে নথি দাখিল করেছে। কেন্দ্রের এই অঙ্গীকার নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই নারীকে অবিলম্বে চিকিৎসা সাহায্য দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছাকাছি থাকার অনুমতি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘এমন কিছু মামলা থাকে যেখানে আইনের কঠোরতাকে মানবিকতার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কিছু ক্ষেত্রে এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।’ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সোনালী খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবিরকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তাদের ওপর যথোপযুক্ত নজরদারি রাখা হবে।
তুষার মেহতা আরও জানান, যেহেতু সরকারি বাহিনীই এই বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের অবস্থান নথিভুক্ত করে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশ আবশ্যক। সেই অনুযায়ী, আদালত সরকারকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের লিখিত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সোনালীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালীর পক্ষে সঞ্জয় হেগড়ের অনুরোধ বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দেন যে, তিনি যাতে বীরভূম জেলায় যেতে এবং সাময়িকভাবে সেখানে থাকতে পারেন, যেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।
আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বীরভূমের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, প্রসব সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে। তাঁর আট বছরের সন্তানও যেহেতু সঙ্গে থাকবে, তাই সেই শিশুটিকেও সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই কাজগুলো একদিনের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।
আদালত আরও জানতে চান, সোনালীর বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। আদালত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘যদি তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক হন, তবে সেও ভারতীয় নাগরিক, আর তার ছেলেও তাই। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়া উচিত।’ এরপর আদালত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, আরও চারজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নেওয়া হয়।
বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৬ সেপ্টেম্বরের দুটি নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আপিলের মাধ্যমে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জুনে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ৬ ব্যক্তিকে (যার মধ্যে সোনালী, তাঁর নাবালক ছেলে ও স্বামী অন্তর্ভুক্ত) ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। হাইকোর্ট অন্য একটি পিটিশনেও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে আরেকজন নারী ও তার দুই নাবালক ছেলের বিষয় ছিল।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছিল, সোনালী বহিষ্কারের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন জানার পর যেন তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বেঞ্চ তখন মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আপনারা নির্দেশিকা নিয়ে বুধবার জানান।’ সেই সময় তুষার মেহতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিলে যে দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উত্তরে বেঞ্চ বলেছিল, ‘আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নজরদারি সাপেক্ষে যা যা দরকার, তা করা যেতে পারে।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর সন্তানের মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং কেন্দ্রের আইনি যুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাকি চারজন ব্যক্তির অবস্থা আগামী সপ্তাহে বিবেচনা করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এ মামলায় আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে মানবিকতা অনেক বেশি জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে নথি দাখিল করেছে। কেন্দ্রের এই অঙ্গীকার নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই নারীকে অবিলম্বে চিকিৎসা সাহায্য দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছাকাছি থাকার অনুমতি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘এমন কিছু মামলা থাকে যেখানে আইনের কঠোরতাকে মানবিকতার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কিছু ক্ষেত্রে এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।’ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সোনালী খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবিরকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তাদের ওপর যথোপযুক্ত নজরদারি রাখা হবে।
তুষার মেহতা আরও জানান, যেহেতু সরকারি বাহিনীই এই বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের অবস্থান নথিভুক্ত করে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশ আবশ্যক। সেই অনুযায়ী, আদালত সরকারকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের লিখিত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সোনালীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালীর পক্ষে সঞ্জয় হেগড়ের অনুরোধ বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দেন যে, তিনি যাতে বীরভূম জেলায় যেতে এবং সাময়িকভাবে সেখানে থাকতে পারেন, যেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।
আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বীরভূমের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, প্রসব সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে। তাঁর আট বছরের সন্তানও যেহেতু সঙ্গে থাকবে, তাই সেই শিশুটিকেও সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই কাজগুলো একদিনের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।
আদালত আরও জানতে চান, সোনালীর বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। আদালত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘যদি তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক হন, তবে সেও ভারতীয় নাগরিক, আর তার ছেলেও তাই। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়া উচিত।’ এরপর আদালত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, আরও চারজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নেওয়া হয়।
বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৬ সেপ্টেম্বরের দুটি নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আপিলের মাধ্যমে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জুনে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ৬ ব্যক্তিকে (যার মধ্যে সোনালী, তাঁর নাবালক ছেলে ও স্বামী অন্তর্ভুক্ত) ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। হাইকোর্ট অন্য একটি পিটিশনেও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে আরেকজন নারী ও তার দুই নাবালক ছেলের বিষয় ছিল।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছিল, সোনালী বহিষ্কারের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন জানার পর যেন তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বেঞ্চ তখন মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আপনারা নির্দেশিকা নিয়ে বুধবার জানান।’ সেই সময় তুষার মেহতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিলে যে দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উত্তরে বেঞ্চ বলেছিল, ‘আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নজরদারি সাপেক্ষে যা যা দরকার, তা করা যেতে পারে।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর সন্তানের মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং কেন্দ্রের আইনি যুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাকি চারজন ব্যক্তির অবস্থা আগামী সপ্তাহে বিবেচনা করা হবে।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এ মামলায় আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে মানবিকতা অনেক বেশি জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে নথি দাখিল করেছে। কেন্দ্রের এই অঙ্গীকার নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই নারীকে অবিলম্বে চিকিৎসা সাহায্য দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছাকাছি থাকার অনুমতি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘এমন কিছু মামলা থাকে যেখানে আইনের কঠোরতাকে মানবিকতার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কিছু ক্ষেত্রে এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।’ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সোনালী খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবিরকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তাদের ওপর যথোপযুক্ত নজরদারি রাখা হবে।
তুষার মেহতা আরও জানান, যেহেতু সরকারি বাহিনীই এই বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের অবস্থান নথিভুক্ত করে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশ আবশ্যক। সেই অনুযায়ী, আদালত সরকারকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের লিখিত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সোনালীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালীর পক্ষে সঞ্জয় হেগড়ের অনুরোধ বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দেন যে, তিনি যাতে বীরভূম জেলায় যেতে এবং সাময়িকভাবে সেখানে থাকতে পারেন, যেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।
আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বীরভূমের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, প্রসব সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে। তাঁর আট বছরের সন্তানও যেহেতু সঙ্গে থাকবে, তাই সেই শিশুটিকেও সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই কাজগুলো একদিনের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।
আদালত আরও জানতে চান, সোনালীর বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। আদালত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘যদি তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক হন, তবে সেও ভারতীয় নাগরিক, আর তার ছেলেও তাই। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়া উচিত।’ এরপর আদালত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, আরও চারজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নেওয়া হয়।
বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৬ সেপ্টেম্বরের দুটি নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আপিলের মাধ্যমে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জুনে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ৬ ব্যক্তিকে (যার মধ্যে সোনালী, তাঁর নাবালক ছেলে ও স্বামী অন্তর্ভুক্ত) ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। হাইকোর্ট অন্য একটি পিটিশনেও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে আরেকজন নারী ও তার দুই নাবালক ছেলের বিষয় ছিল।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছিল, সোনালী বহিষ্কারের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন জানার পর যেন তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বেঞ্চ তখন মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আপনারা নির্দেশিকা নিয়ে বুধবার জানান।’ সেই সময় তুষার মেহতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিলে যে দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উত্তরে বেঞ্চ বলেছিল, ‘আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নজরদারি সাপেক্ষে যা যা দরকার, তা করা যেতে পারে।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর সন্তানের মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং কেন্দ্রের আইনি যুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাকি চারজন ব্যক্তির অবস্থা আগামী সপ্তাহে বিবেচনা করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল, এ মামলায় আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে মানবিকতা অনেক বেশি জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে নথি দাখিল করেছে। কেন্দ্রের এই অঙ্গীকার নথিভুক্ত করে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেই নারীকে অবিলম্বে চিকিৎসা সাহায্য দিতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে তাঁর পরিবারের কাছাকাছি থাকার অনুমতি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘এমন কিছু মামলা থাকে যেখানে আইনের কঠোরতাকে মানবিকতার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কিছু ক্ষেত্রে এক অন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন।’ সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান যে, সোনালী খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবিরকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তাদের ওপর যথোপযুক্ত নজরদারি রাখা হবে।
তুষার মেহতা আরও জানান, যেহেতু সরকারি বাহিনীই এই বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের অবস্থান নথিভুক্ত করে একটি বিচার বিভাগীয় নির্দেশ আবশ্যক। সেই অনুযায়ী, আদালত সরকারকে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়ের লিখিত নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সোনালীকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সোনালীর পক্ষে সঞ্জয় হেগড়ের অনুরোধ বিবেচনা করে আদালত নির্দেশ দেন যে, তিনি যাতে বীরভূম জেলায় যেতে এবং সাময়িকভাবে সেখানে থাকতে পারেন, যেখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন।
আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বীরভূমের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, প্রসব সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাসহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বিনা মূল্যে প্রদান করতে হবে। তাঁর আট বছরের সন্তানও যেহেতু সঙ্গে থাকবে, তাই সেই শিশুটিকেও সব রকম সাহায্য দেওয়া হবে।’ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই কাজগুলো একদিনের মধ্যেই সেরে ফেলতে হবে।
আদালত আরও জানতে চান, সোনালীর বাবা ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা। আদালত সলিসিটার জেনারেলের কাছে জানতে চান, ‘যদি তাঁর বাবা ভারতীয় নাগরিক হন, তবে সেও ভারতীয় নাগরিক, আর তার ছেলেও তাই। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মেনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত হওয়া উচিত।’ এরপর আদালত ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে দেয় এবং কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, আরও চারজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি যারা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাদের বিষয়ে যেন প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা নেওয়া হয়।
বুধবারের এই ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৬ সেপ্টেম্বরের দুটি নির্দেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের আপিলের মাধ্যমে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জুনে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো ৬ ব্যক্তিকে (যার মধ্যে সোনালী, তাঁর নাবালক ছেলে ও স্বামী অন্তর্ভুক্ত) ফিরিয়ে এনে তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। হাইকোর্ট অন্য একটি পিটিশনেও একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে আরেকজন নারী ও তার দুই নাবালক ছেলের বিষয় ছিল।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে বলেছিল, সোনালী বহিষ্কারের সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন জানার পর যেন তাকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বেঞ্চ তখন মন্তব্য করেছিল, ‘আমরা বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আপনারা নির্দেশিকা নিয়ে বুধবার জানান।’ সেই সময় তুষার মেহতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নিলে যে দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উত্তরে বেঞ্চ বলেছিল, ‘আপনার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নজরদারি সাপেক্ষে যা যা দরকার, তা করা যেতে পারে।’
অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নির্দেশ শুধুমাত্র সোনালী ও তাঁর সন্তানের মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং কেন্দ্রের আইনি যুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাকি চারজন ব্যক্তির অবস্থা আগামী সপ্তাহে বিবেচনা করা হবে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে
৩২ মিনিট আগে
প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে
১ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ...
৪ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগ ছিলেন পর্যটক।
এনআইএর ১ হাজার ৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে হামলার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং মামলার পক্ষে থাকা প্রমাণের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পেহেলগাম হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে এলইটি-টিআরএফ সরাসরি জড়িত ছিল। হামলার মূল হ্যান্ডলার হিসেবে এলইটির শীর্ষ কমান্ডার সাজিদ জাটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে তিনজনের নাম রয়েছে, যাঁদের পাকিস্তানের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ও হামজা আফগানির। চলতি বছরের জুলাইয়ে শ্রীনগরের কাছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁরা নিহত হন।
এলইটি ও টিআরএফের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর (বিএনএস) অস্ত্র আইন (১৯৫৯) ও বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (১৯৬৭) বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এনআইএ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ ধারাও যুক্ত করেছে।
এ ছাড়া আরও দুজন এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন। পারভেজ আহমদ ও বশির আহমদকে গত ২২ জুন এনআইএ গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা তিন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
পারভেজ আহমদ ও বশির আহমদ জিজ্ঞাসাবাদে পেহেলগাম হামলায় জড়িত তিন সন্ত্রাসীর পরিচয় প্রকাশ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, তাঁরা পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কে এই সাজিদ জাট
সাজিদ জাট একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত। তাঁর পরিচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইফুল্লাহ, নুমি, নুমান, ল্যাংড়া, আলি সাজিদ, উসমান হাবিব ও শানি। ২০২২ সালের অক্টোবরে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) আওতায় তাঁকে ‘ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইন্ডিভিজুয়াল টেররিস্ট (Individual Terrorist) বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি কোনো বড় সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও একা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন। তাঁরা লোন উলফ নামেও পরিচিত। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় সহজে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর ধারণা, সাজিদ জাট পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত লস্করের সদর দপ্তর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি শুধু টিআরএফের অপারেশনাল প্রধানই নয়, কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসী নিয়োগ, অর্থায়ন ও অনুপ্রবেশের দায়িত্বেও রয়েছেন।
সাজিদ জাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০২৩ সালের ধাংরি গণহত্যা (যেখানে তিনি ছিলেন মূল ষড়যন্ত্রকারী), ২০২৪ সালের মে মাসে পুঞ্চে বিমানবাহিনীর কনভয়ে হামলা এবং ২০২৪ সালের জুনে রিয়াসি বাস হামলা।
এ ছাড়া হাইব্রিড সন্ত্রাসীদের লজিস্টিক ও অপারেশনাল সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর মতে, কাশ্মীরে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখ হলেন এই সাজিদ জাট।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাঁদের বেশির ভাগ ছিলেন পর্যটক।
এনআইএর ১ হাজার ৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে হামলার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং মামলার পক্ষে থাকা প্রমাণের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পেহেলগাম হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে এলইটি-টিআরএফ সরাসরি জড়িত ছিল। হামলার মূল হ্যান্ডলার হিসেবে এলইটির শীর্ষ কমান্ডার সাজিদ জাটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে তিনজনের নাম রয়েছে, যাঁদের পাকিস্তানের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ও হামজা আফগানির। চলতি বছরের জুলাইয়ে শ্রীনগরের কাছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁরা নিহত হন।
এলইটি ও টিআরএফের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর (বিএনএস) অস্ত্র আইন (১৯৫৯) ও বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (১৯৬৭) বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এনআইএ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ ধারাও যুক্ত করেছে।
এ ছাড়া আরও দুজন এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন। পারভেজ আহমদ ও বশির আহমদকে গত ২২ জুন এনআইএ গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা তিন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
পারভেজ আহমদ ও বশির আহমদ জিজ্ঞাসাবাদে পেহেলগাম হামলায় জড়িত তিন সন্ত্রাসীর পরিচয় প্রকাশ করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, তাঁরা পাকিস্তানের নাগরিক এবং লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কে এই সাজিদ জাট
সাজিদ জাট একাধিক ছদ্মনামে পরিচিত। তাঁর পরিচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইফুল্লাহ, নুমি, নুমান, ল্যাংড়া, আলি সাজিদ, উসমান হাবিব ও শানি। ২০২২ সালের অক্টোবরে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) আওতায় তাঁকে ‘ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ইন্ডিভিজুয়াল টেররিস্ট (Individual Terrorist) বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি কোনো বড় সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও একা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন। তাঁরা লোন উলফ নামেও পরিচিত। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় সহজে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর ধারণা, সাজিদ জাট পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত লস্করের সদর দপ্তর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি শুধু টিআরএফের অপারেশনাল প্রধানই নয়, কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসী নিয়োগ, অর্থায়ন ও অনুপ্রবেশের দায়িত্বেও রয়েছেন।
সাজিদ জাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০২৩ সালের ধাংরি গণহত্যা (যেখানে তিনি ছিলেন মূল ষড়যন্ত্রকারী), ২০২৪ সালের মে মাসে পুঞ্চে বিমানবাহিনীর কনভয়ে হামলা এবং ২০২৪ সালের জুনে রিয়াসি বাস হামলা।
এ ছাড়া হাইব্রিড সন্ত্রাসীদের লজিস্টিক ও অপারেশনাল সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর মতে, কাশ্মীরে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সবচেয়ে ভয়ংকর মুখ হলেন এই সাজিদ জাট।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায়
১২ দিন আগে
প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে
১ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ...
৪ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের নন্দা দেবী পর্বতের কাছে হারিয়ে যাওয়া ওই পারমাণবিক শক্তিচালিত যন্ত্রটি গঙ্গা নদীর জন্য নানান ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৬৫ সালে, চীনের সদ্য গড়ে ওঠা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) যৌথভাবে এক গোপন অভিযানে নামে। লক্ষ্য ছিল—ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত নন্দা দেবীর চূড়ায় একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত নজরদারিযন্ত্র বসানো।
ওই যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (আরটিজি)। এটি কয়েক কেজি প্লুটোনিয়াম দিয়ে চালিত হতো। এর মাধ্যমে স্থাপিত সেন্সরগুলো দিয়ে সীমান্তের ওপারে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়ে অভিযানে অংশ নেওয়া দল যন্ত্রটি পাহাড়ে রেখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরের মৌসুমে ফিরে গেলে দেখা যায়—আরটিজি ও এর প্লুটোনিয়াম-কোর আর সেখানে নেই। ধারণা করা হয়, তুষারধসের কারণে সেটি ভেসে গেছে অথবা গভীর হিমবাহের নিচে চাপা পড়েছে।
আরটিজি কী
আরটিজি বা রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর হলো এমন একটি যন্ত্র, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই পদার্থ ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়ার সময় তাপ তৈরি হয় আর সেই তাপ বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো চলমান যন্ত্রাংশ থাকে না। তাই আরটিজি দীর্ঘদিন কাজ করতে পারে। সাধারণত মহাকাশ অভিযান বা এমন দুর্গম এলাকায় এগুলো ব্যবহার করা হয়।
আরটিজি কোনো পারমাণবিক বোমা নয় এবং এটি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে না। তবে যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হারানো যন্ত্রটি এখন কোথায়
পরবর্তী কয়েক দশকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ওই যন্ত্রের সন্ধানে অভিযান চালালেও সফল হয়নি। দুই দেশের কেউই নিশ্চিত করে বলেনি, যন্ত্রটির পরিণতি কী হয়েছে।
কিছু কর্মকর্তা ও লেখকের মতে, ভারতীয় কোনো দল নীরবে যন্ত্রটি উদ্ধার করে থাকতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি এখনো নন্দা দেবী এলাকার অস্থির বরফ ও পাথরের স্তরের নিচে আটকে আছে।
১৯৭৮ সালে ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনের এক জরিপে স্থানীয় নদীগুলোতে কোনো প্লুটোনিয়াম দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে জরিপটি যন্ত্রটির অবস্থানও নির্দিষ্ট করতে পারেনি। ফলে বিষয়টি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
গঙ্গায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝুঁকি
নন্দা দেবীর হিমবাহ থেকে উৎপন্ন রিষিগঙ্গা ও ধৌলিগঙ্গা নদী মিলিত হয়ে অলকানন্দায় প্রবাহিত হয়। পরে অলকানন্দা ও ভাগীরথী একত্রে গঙ্গা নদীর জন্ম দেয়। এই নদীই নিচের দিকে কয়েক শ কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরটি অক্ষত অবস্থায় বরফের গভীরে চাপা পড়ে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এর আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ গলে বরফের পানির সঙ্গে মিশে নদীতে প্রবেশ করতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সম্ভাবনা কম, কিন্তু প্রভাব ভয়াবহ। উত্তরাখন্ডে প্রতিবছর বন্যা, তুষারধসের ঘটনা ঘটলে এই আশঙ্কা নতুন করে সামনে আসে।
নতুন করে উদ্বেগ কেন
হিমালয়ে হিমবাহ গলার গতি বেড়ে যাওয়া, ২০২১ সালের চামোলি বন্যার মতো দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় পুরোনো সামরিক ও পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়তি নজরদারির প্রেক্ষাপটে নন্দা দেবীর এই হারানো যন্ত্রটি আবার আলোচনায় এসেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা—তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ সরে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে আরটিজির অবশিষ্টাংশ উন্মুক্ত বা নড়াচড়া করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও নিউইয়র্ক টাইমস

প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের নন্দা দেবী পর্বতের কাছে হারিয়ে যাওয়া ওই পারমাণবিক শক্তিচালিত যন্ত্রটি গঙ্গা নদীর জন্য নানান ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৬৫ সালে, চীনের সদ্য গড়ে ওঠা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) যৌথভাবে এক গোপন অভিযানে নামে। লক্ষ্য ছিল—ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত নন্দা দেবীর চূড়ায় একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত নজরদারিযন্ত্র বসানো।
ওই যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (আরটিজি)। এটি কয়েক কেজি প্লুটোনিয়াম দিয়ে চালিত হতো। এর মাধ্যমে স্থাপিত সেন্সরগুলো দিয়ে সীমান্তের ওপারে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে পড়ে অভিযানে অংশ নেওয়া দল যন্ত্রটি পাহাড়ে রেখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরের মৌসুমে ফিরে গেলে দেখা যায়—আরটিজি ও এর প্লুটোনিয়াম-কোর আর সেখানে নেই। ধারণা করা হয়, তুষারধসের কারণে সেটি ভেসে গেছে অথবা গভীর হিমবাহের নিচে চাপা পড়েছে।
আরটিজি কী
আরটিজি বা রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর হলো এমন একটি যন্ত্র, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থের তাপ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ওই পদার্থ ধীরে ধীরে ক্ষয় হওয়ার সময় তাপ তৈরি হয় আর সেই তাপ বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো চলমান যন্ত্রাংশ থাকে না। তাই আরটিজি দীর্ঘদিন কাজ করতে পারে। সাধারণত মহাকাশ অভিযান বা এমন দুর্গম এলাকায় এগুলো ব্যবহার করা হয়।
আরটিজি কোনো পারমাণবিক বোমা নয় এবং এটি বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে না। তবে যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হারানো যন্ত্রটি এখন কোথায়
পরবর্তী কয়েক দশকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ওই যন্ত্রের সন্ধানে অভিযান চালালেও সফল হয়নি। দুই দেশের কেউই নিশ্চিত করে বলেনি, যন্ত্রটির পরিণতি কী হয়েছে।
কিছু কর্মকর্তা ও লেখকের মতে, ভারতীয় কোনো দল নীরবে যন্ত্রটি উদ্ধার করে থাকতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি এখনো নন্দা দেবী এলাকার অস্থির বরফ ও পাথরের স্তরের নিচে আটকে আছে।
১৯৭৮ সালে ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনের এক জরিপে স্থানীয় নদীগুলোতে কোনো প্লুটোনিয়াম দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে জরিপটি যন্ত্রটির অবস্থানও নির্দিষ্ট করতে পারেনি। ফলে বিষয়টি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
গঙ্গায় তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝুঁকি
নন্দা দেবীর হিমবাহ থেকে উৎপন্ন রিষিগঙ্গা ও ধৌলিগঙ্গা নদী মিলিত হয়ে অলকানন্দায় প্রবাহিত হয়। পরে অলকানন্দা ও ভাগীরথী একত্রে গঙ্গা নদীর জন্ম দেয়। এই নদীই নিচের দিকে কয়েক শ কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরটি অক্ষত অবস্থায় বরফের গভীরে চাপা পড়ে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তুলনামূলক কম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এর আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ গলে বরফের পানির সঙ্গে মিশে নদীতে প্রবেশ করতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সম্ভাবনা কম, কিন্তু প্রভাব ভয়াবহ। উত্তরাখন্ডে প্রতিবছর বন্যা, তুষারধসের ঘটনা ঘটলে এই আশঙ্কা নতুন করে সামনে আসে।
নতুন করে উদ্বেগ কেন
হিমালয়ে হিমবাহ গলার গতি বেড়ে যাওয়া, ২০২১ সালের চামোলি বন্যার মতো দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় পুরোনো সামরিক ও পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়তি নজরদারির প্রেক্ষাপটে নন্দা দেবীর এই হারানো যন্ত্রটি আবার আলোচনায় এসেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা—তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ সরে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে আরটিজির অবশিষ্টাংশ উন্মুক্ত বা নড়াচড়া করতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও নিউইয়র্ক টাইমস

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায়
১২ দিন আগে
জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে
৩২ মিনিট আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ...
৪ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জন্য গঠিত তহবিলে অনুদানের পরিমাণ একদিনেই ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ দুই সন্তানের বাবা। ঘটনার সময় তিনি পার্ক করা একটি গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে পেছন দিক থেকে এক বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তার রাইফেল কেড়ে নিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন।
ধস্তাধস্তির ওই মুহূর্তটিতে দ্বিতীয় এক হামলাকারীর গুলিতে আহমেদ নিজেও আহত হন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, আহমেদ দুবার গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গুলি তাঁর হাত ও বাহুতে লেগেছে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ এবিসি নিউজকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার দিক দেখেছি একটি সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখেছি মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ—আহমেদ আল আহমেদ নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বিপদের দিকে ছুটে গেছেন এবং মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।’
আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ফাতেহ আল আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে একজন নায়ক। তিনি আগে পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার প্রবল মানসিকতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার বিবেকই তাকে সন্ত্রাসীর ওপর পাল্টা আঘাত করতে বাধ্য করেছে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স হাসপাতালে গিয়ে আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আহমেদ একজন বাস্তব জীবনের নায়ক।’
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা আহমেদের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাঁর বাম হাত প্লাস্টারে বাঁধা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘অত্যন্ত সাহসী মানুষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে আহমেদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো ও তাঁকে সহযোগিতার জন্য ‘গোফান্ডমি’-তে খোলা একটি স্বপ্রণোদিত তহবিলে একদিনেই ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। এই তহবিলে মার্কিন ধনকুবের বিল অ্যাকম্যান একাই ৯৯ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন।
হাসপাতালের বাইরে সাধারণ মানুষ ফুল নিয়ে এসে আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, এই সাহস শুধু বন্ডাই বিচের নয়—এটি সমগ্র মানবতার।
রোববার বিকেলে (১৪ ডিসেম্বর) একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হন। অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিল ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে। এটি প্রায় তিন দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জন্য গঠিত তহবিলে অনুদানের পরিমাণ একদিনেই ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।
৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ দুই সন্তানের বাবা। ঘটনার সময় তিনি পার্ক করা একটি গাড়ির আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সুযোগ বুঝে পেছন দিক থেকে এক বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তার রাইফেল কেড়ে নিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন।
ধস্তাধস্তির ওই মুহূর্তটিতে দ্বিতীয় এক হামলাকারীর গুলিতে আহমেদ নিজেও আহত হন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানান, আহমেদ দুবার গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গুলি তাঁর হাত ও বাহুতে লেগেছে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ এবিসি নিউজকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা মানবতার সবচেয়ে অন্ধকার দিক দেখেছি একটি সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখেছি মানবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ—আহমেদ আল আহমেদ নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বিপদের দিকে ছুটে গেছেন এবং মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।’
আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ফাতেহ আল আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে একজন নায়ক। তিনি আগে পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার প্রবল মানসিকতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার বিবেকই তাকে সন্ত্রাসীর ওপর পাল্টা আঘাত করতে বাধ্য করেছে।’
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স হাসপাতালে গিয়ে আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আহমেদ একজন বাস্তব জীবনের নায়ক।’
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা আহমেদের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাঁর বাম হাত প্লাস্টারে বাঁধা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘অত্যন্ত সাহসী মানুষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে আহমেদের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো ও তাঁকে সহযোগিতার জন্য ‘গোফান্ডমি’-তে খোলা একটি স্বপ্রণোদিত তহবিলে একদিনেই ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। এই তহবিলে মার্কিন ধনকুবের বিল অ্যাকম্যান একাই ৯৯ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন।
হাসপাতালের বাইরে সাধারণ মানুষ ফুল নিয়ে এসে আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, এই সাহস শুধু বন্ডাই বিচের নয়—এটি সমগ্র মানবতার।
রোববার বিকেলে (১৪ ডিসেম্বর) একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হন। অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিল ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর ২৪ বছর বয়সী ছেলে। এটি প্রায় তিন দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায়
১২ দিন আগে
জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে
৩২ মিনিট আগে
প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে
১ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ...
৪ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তার হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। এই সাহসী উদ্যোগের ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের একটি হনুক্কাহ অনুষ্ঠানে ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া দুজন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। এর মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং অন্যজন আহত অবস্থায় আটক রয়েছে।
প্রাণঘাতী ওই হামলার সংকটময় মুহূর্তটিতে শুধু একজন সাধারণ দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন না আহমেদ আল আহমেদ। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে এক হামলাকারীর সঙ্গে কুস্তি করতে এবং বন্দুক ছিনিয়ে নিতে দেখা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আমিরাত-ভিত্তিক ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, সিরিয়ার ইদলিব অঞ্চল থেকে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন আহমেদ। তিনি পেশায় একজন ফল বিক্রেতা এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর আহত হন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি যে কাজটি করেছেন, তার ফলেই বহু মানুষ আজ বেঁচে আছেন।’
আহমেদের বাবা-মা অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর শরীরেও অন্তত দুটি গুলির ক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পর তিনি সিডনির কোগারাহ এলাকার সেন্ট জর্জ হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
আহমেদের বাবা বলেন, ‘সে মানসিকভাবে ভালো আছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে, সে মানুষ বাঁচাতে পেরেছে।’
এই সাহসী ভূমিকার জন্য আহমেদ আল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসায় ভাসানো হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ভিডিওটিকে ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দৃশ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।
এমনকি নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিও আহমেদকে ঘৃণার বিরুদ্ধে সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ আহমেদের চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি তহবিল তৈরি করেছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ওই তহবিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ডলার জমা পড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আহমেদ আল আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়—হামলার মুহূর্তে ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিরস্ত্র অবস্থায় এগিয়ে গিয়ে এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তার হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। এই সাহসী উদ্যোগের ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের একটি হনুক্কাহ অনুষ্ঠানে ওই হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া দুজন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। এর মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং অন্যজন আহত অবস্থায় আটক রয়েছে।
প্রাণঘাতী ওই হামলার সংকটময় মুহূর্তটিতে শুধু একজন সাধারণ দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন না আহমেদ আল আহমেদ। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে এক হামলাকারীর সঙ্গে কুস্তি করতে এবং বন্দুক ছিনিয়ে নিতে দেখা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আমিরাত-ভিত্তিক ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, সিরিয়ার ইদলিব অঞ্চল থেকে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন আহমেদ। তিনি পেশায় একজন ফল বিক্রেতা এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর আহত হন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তিনি যে কাজটি করেছেন, তার ফলেই বহু মানুষ আজ বেঁচে আছেন।’
আহমেদের বাবা-মা অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর শরীরেও অন্তত দুটি গুলির ক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পর তিনি সিডনির কোগারাহ এলাকার সেন্ট জর্জ হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
আহমেদের বাবা বলেন, ‘সে মানসিকভাবে ভালো আছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে, সে মানুষ বাঁচাতে পেরেছে।’
এই সাহসী ভূমিকার জন্য আহমেদ আল আহমেদকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসায় ভাসানো হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ভিডিওটিকে ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে অবিশ্বাস্য দৃশ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।
এমনকি নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিও আহমেদকে ঘৃণার বিরুদ্ধে সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ আহমেদের চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি তহবিল তৈরি করেছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ওই তহবিলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ডলার জমা পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ভারতের কেন্দ্র সরকার বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তাঁর আট বছরের সন্তানসহ ফিরিয়ে আনতে সম্মতি জানিয়েছে। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি বছরের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট ভাষায়
১২ দিন আগে
জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রায় আট মাস পর চার্জশিট দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। চার্জশিটে পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ (এলইটি) দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের দুই সশস্ত্র সংগঠনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে
৩২ মিনিট আগে
প্রায় ৬০ বছর আগের ঘটনা, তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। চীনকে টেক্কা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা মিলে নামে এক গোপন অভিযানে। কিন্তু অভিযানে নেমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হারিয়ে যায় নজরদারির কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি যন্ত্র, যেটি আজও হিমালয় পর্বতের বরফের নিচে
১ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার সময় এক হামলাকারীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল-আহমেদ এখন ‘নায়ক’ বনে গেছেন। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতার ঢল নেমেছে।
৩ ঘণ্টা আগে