
অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই খবরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু। তাঁর দাবি, সীমান্তের ওই অংশ এখনো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয় এবং চীন সেখানে কিছু এলাকায় অবকাঠামো ও ক্যাম্প তৈরি করলেও ভারতের কোনো গ্রাম দখল করেনি। ভুল ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কিরেন রিজ্জু অরুণাচল প্রদেশে চীনের সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশের যে দাবি উঠেছে, তা ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘চীন ভারতের ৬০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে দাবি করা ভুল।’
অরুণাচলের আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠার মধ্যেই রিজ্জুর এই মন্তব্য সামনে এল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চীনা সেনারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) অতিক্রম করে তাসিং সার্কেলের কয়েকটি এলাকায় ঢুকে পড়েছে। রিজ্জু বলেন, অরুণাচলে ভারত ও চীনের মধ্যে খুব দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের অনেক অংশই পুরোপুরি ও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি নতুন নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ভারত ও তিব্বতের মধ্যকার সীমান্ত কখনোই নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।’
তবে কিছু এলাকায় চীনের তৎপরতা বেড়েছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলেও জানান রিজ্জু। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকেও ভুল ভিডিও ও দাবি ছড়ানো হচ্ছে, যা ঠিক নয়।’ এ ধরনের ভুল তথ্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল কমিয়ে দিতে পারে এবং দেশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
রিজ্জুর মতে, মূল সমস্যার একটি বড় অংশ হলো সীমান্ত এলাকায় চীনের আগেই সড়ক নির্মাণ শুরু করা। তিনি বলেন, ‘সেই সময় ভারতে কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সংসদে বলেছিলেন, সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ না করাই ভারতের নীতি ছিল। অন্যদিকে চীন সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ চালিয়ে গেছে।’
রিজ্জু বলেন, ২০১৪ সালের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এরপর ভারত সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার এমন অনেক দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণ করেছে, যেখানে ১৯৪৭ সালের পর থেকে কোনো ধরনের উন্নয়ন হয়নি।
রিজ্জুর মতে, এই দীর্ঘ বিলম্বের সুযোগ নিয়েছিল চীন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন একটি সড়ক নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছি, তখন চীন সেই সড়ক নির্মাণে সফল হয়েছে। চীনা সেনারা উচ্চভূমির এলাকাগুলো দখল করে সেখানে সীমান্ত অবকাঠামো তৈরি করেছে। এখন আমরা নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে তার জবাব দিচ্ছি।’
তবে তিনি দাবি করেন, এমন নয় যে চীন ভারতের কোনো গ্রাম দখল করে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘তারা কিছু নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে ক্যাম্প স্থাপন করেছে, কারণ ওই এলাকায় সীমান্ত এখনো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হয়নি।’ রিজ্জু বলেন, ভারতীয় সীমান্তের গ্রামবাসীরা মনে করেন, তাঁদের ভূখণ্ড আরও দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। একইভাবে চীনের দিকের বাসিন্দারাও দাবি করেন, তাঁদের ভূখণ্ড এখানকার অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ভারত সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বা আইটিবিপির টহল জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ভারত সতর্ক করে বলেছিল, চীনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির অবস্থা দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলবে।
চলতি মাসের শুরুতে ভারত অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের সরকারি মানচিত্রে ব্যবহৃত স্বীকৃত নাম প্রকাশ করেছিল। চীনের পক্ষ থেকে এসব স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টার পাল্টা জবাব হিসেবেই ভারত এই পদক্ষেপ নেয়। চীন ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল। তবে ভারত আবারও স্পষ্ট করে জানায়, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মলদোভায় বিধ্বস্ত হওয়া ‘গেরান’ নামে রাশিয়ার একটি জেটচালিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত দ্রুতগতির এই কামিকাজে ড্রোনের প্রযুক্তিগত রহস্য উদ্ঘাটন করে তা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় খুঁজছেন তারা।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) রাজধানী হিসেবে পরিচিত শহর বেঙ্গালুরুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দেশের অন্য প্রধান মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে পেছনে ফেলে এই শহরের বাড়িভাড়ার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেখানকার কর্মজীবী বাসিন্দারা।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) আবাসনে এক শিক্ষার্থীকে মাদক প্রয়োগ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা মোকাবিলায়
৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটিতে ১৮২ জন যাত্রী ছিলেন। উড়োজাহাজটি হঠাৎ ভয়াবহভাবে নিচে নেমে আসার পর সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ককপিটে ছুটে গিয়েছিলেন ইউনিফর্ম পরা দুই ক্রু সদস্য। ঘটনার তিন দিন পর গতকাল শনিবার পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
৪ ঘণ্টা আগে