
প্রিন্সেস ডায়ানার কালো ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ কেবল ফ্যাশনের প্রতীকই নয়; দৃঢ়তা ও শক্তির প্রতীক হিসেবেও চিরস্মরণীয়। পোশাকটি আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ, গত বৃহস্পতিবার প্যারিসের মিউজে গ্রেভাঁ জাদুঘরে ওয়েলসের প্রয়াত এই রাজকুমারীর নতুন মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়।
সেখানে তাঁকে দেখা গেছে সেই অফ শোল্ডার কালো পোশাকে; যেটি তিনি ১৯৯৪ সালে কেনসিংটন গার্ডেনসের সারপেন্টাইন গ্যালারির এক নৈশভোজে পরে সাড়া ফেলেছিলেন।
এই বিখ্যাত পোশাকের কাহিনি বুঝতে হলে একটু পেছনের দিকে তাকাতে হবে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের (বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস) দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা নিয়ে নানা গুজব ছড়ায়। তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বড় ছেলে ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রানি এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ২০২৩ সালের ৬ মে তিনি ব্রিটেনের রাজা হন।
১৯৯২ সাল নাগাদ চার্লস-ডায়ানার সম্পর্কের টানাপোড়েন সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে বছর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আইটিভির এক তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লস স্বীকার করেন, তিনি ডায়ানার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।
১৯৯৪ সালের ২৯ জুন আইটিভির সেই তথ্যচিত্রে প্রিন্স চার্লসের অবিশ্বস্ততার স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে আসে এবং পুরো বিশ্ব বিষয়টি জানতে পারে। সে দিনই লন্ডনের সারপেন্টাইন গ্যালারিতে ভ্যানিটি ফেয়ার গালায় বিখ্যাত ব্ল্যাক অফ শোল্ডার ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ পরে উপস্থিত হন ডায়ানা।
পিপল ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে নির্বাহী সম্পাদক মিশেল টাউবার বলেন, ‘মানুষ হিসেবে ভাবুন—যা তিনি (ডায়ানা) শুনলেন আর বিশ্বজুড়ে সবাই জানল—এটা তাঁর (ডায়ানা) জন্য কতটা কষ্টদায়ক ছিল। চার্লস কার্যত তাঁদের ব্যক্তিগত অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ করে দিলেন।’
যেখানে অন্য কেউ হলে ঘরে লুকিয়ে থাকত, ডায়ানা বেছে নেন ভিন্ন পথ। সেই রাতে ভ্যানিটি ফেয়ার আয়োজিত গালায় তাঁর উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন—তিনি যাবেনই।
পিপলের ডেপুটি স্টাইল ডিরেক্টর ব্রিটানি টেলারিকো বলেন, ‘ডায়ানা জানতেন সেদিন সবার চোখ তাঁর দিকেই থাকবে।’
তাই তিনি পোশাক দিয়েই নিজের বক্তব্য জানান। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের বিশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু তাঁর পোশাকই সব কথা বলে দেয়।
শোনা যায়, সেদিন তিনি ভ্যালেনটিনোর একটি পোশাক পরার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি বদলে নেন ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের এই কালো গাউনটি।
মজার বিষয়, স্ট্যামবোলিয়ান পরে বলেন, ‘তিন বছর ধরে পোশাকটি পরে ছিল, তিনি কখনো পরেননি। আমি খুব হতাশ হয়েছিলাম।’
ব্রডওয়ে মিউজিক্যাল ডায়ানার কস্টিউম ডিজাইনার উইলিয়াম আইভি লং বলেন, ‘তিনি সিদ্ধান্ত নেন, লড়াই করবেন আর সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এমন একটি পোশাক পরবেন; যেটিকে আগে তিনি একটু বেশি সাহসী ভেবে বাদ দিয়েছিলেন। সেই পোশাক পরেই তিনি জনসমক্ষে বেরিয়ে আসেন।’
১৯৯৭ সালে ডায়ানা তাঁর ৭৯টি গাউন নিলামে বিক্রি করেন, যার মধ্যে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টিও ছিল, জানিয়েছে ফোর্বস।
পোশাকটি ২৪ হাজার ১৫০ ডলারে স্কটল্যান্ডের ব্যবসায়ী গ্রায়েম ম্যাকেনজির কাছে বিক্রি হয়েছিল। গাউনগুলো বিক্রি করে তিনি মোট ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেন, যা এইডস ও ক্যানসারবিরোধী দাতব্য কাজে দান করা হয়।
২০২৩ সালে পোশাকটি আবার ‘সদবিসে’র নিলামে ওঠে নিউইয়র্কে। চারজন দরদাতা প্রতিযোগিতা করেন। শেষ পর্যন্ত এটি ৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ডলারে বিক্রি হয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে তাঁর প্রতিনিধি দল পাকিস্তান যাচ্ছে। এবং আজ সোমবার অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার এই আলোচনা হতে পারে বলে খবর ছিল। কিন্তু ইরান তাদের দুটি দাবিতে অনড়।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেছে। এই সংঘাত ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে। সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
২ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনার হাতুড়ি দিয়ে যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি ভাঙচুর করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ছবিটি ইতিমধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে টুইন সিটি বা যমজ শহর ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুই পক্ষের চরম উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে