আলেন বারল্যু

ফরাসি পত্রিকায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত (রুশ অনুবাদ ২৪ ফেব্রুয়ারি) লা ফিগারোর প্রতিবেদক আলেন বারল্যু দানিয়েৎস্কের সেই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভর্তি করা হচ্ছিল সেনাবাহিনীতে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মানুষদের ডাকা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য।
রুশ সমর্থক দানিয়েৎস্ক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে মস্কো। আর সে কারণে এখানকার ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষেরা ফ্রন্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
‘কেন আমি আমাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছি? কারণ, এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই’, বললেন রুসলান, ২২ বছর বয়সী যুবক। তাঁর দিকে তাকালে মনে হবে একেবারে বাচ্চা একটা ছেলে। বোঝাই যাবে না সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজি ভাষার একজন শিক্ষক। রুসলানের চেহারায় সৈনিকের কোনো ছাপ নেই। কিন্তু এই না থাকা দমিয়ে দেয়নি রুসলানকে। তিনি সরাসরি এসেছেন সেনাবাহিনীকে স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়ার জন্য।
রুসলান একা এসেছেন। তাঁকে বিদায় দেওয়ার জন্য আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কেউ হাজির হননি। এখন তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অপেক্ষা করছেন। যে জায়গাটার কথা বলছি, সেটা দানিয়েৎস্ক শহরের ১৯ নম্বর স্কুল ভবন। ২০১৫ সালে রুসলান যখন আরও ছোট, তখন বসবাস করতেন কিয়েভস্কি রাইয়নে। সে সময় ইউক্রেন সেনাবাহিনীর চালানো হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল পুরো এলাকা। এখানকার বাড়িঘরগুলো এখনো সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
রুসলানের মতো স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা অনেক। কেউ তাঁর চেয়ে বয়সে বড়, কেউ ছোট। সবার কাছে ছোট একটা স্পোর্টস ব্যাগ, যাতে রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই ব্যাগ কাঁধে নিয়েই প্রত্যেকে অপেক্ষা করছেন কখন সেনা কর্মকর্তা তাঁদের স্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শামিল হতে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং এরপর একটি বাস তাঁদের নিয়ে যাবে ফ্রন্টে। বাসটি দাঁড়িয়ে আছে স্কুল ভবনের সামনেই।
যদিও এদের প্রায় কেউই গত বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না, তবু বলা যায়, বহুদিন আগে থেকেই এই স্বেচ্ছাসেবীরা জানেন যুদ্ধ কাকে বলে। আমরা যখন তাদের প্রশ্ন করছিলাম, 'আপনারা কি জানেন, আপনাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে?’
স্বেচ্ছাসেবীদের কেউই সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী ছিলেন না। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ ছিল না। তাঁরা শুধু বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা যে, আমরা ফিরে আসতে পারব।’
কিন্তু যার সঙ্গে কথা বলছিলাম, তাঁর মুখ ছিল বিবর্ণ। বোঝা যাচ্ছিল, এক ধরনের মানসিক চাপে আছেন তিনি। রুসলান ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানেই স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকদের তালিকা করা হয়েছে। যখন দানিয়েৎস্ক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়েছে, যখন তার স্বীকৃতি মিলেছে রাশিয়া থেকে, তখনই বোঝা গেছে—ফ্রন্টে যাওয়ার সময় উপস্থিত।’
বন্ধ হোক এই যুদ্ধ
গত শনিবার যখন দানিয়েস্ক আর লুগানস্ক থেকে ঘোষণা করা হলো, স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য দরকার, তখন দানিয়েৎস্কের নেতা দেনিস পুশিলিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবীদের নেওয়া হবে ধীরে ধীরে। তার পাশে বসে ছিলেন রাশিয়ার প্রতিনিধি।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে পঞ্চাশ শতাংশ কর্মীকে নাম লেখাতে হবে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী সবাই পড়বে এর মধ্যে। বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী আগের মতোই কাজ করে যাবেন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে। ইংরেজির শিক্ষক রুসলান শুধু স্বেচ্ছাসেবী নন, তিনি কারও সঙ্গে কথা না বলেই সরাসরি চলে এসেছেন সৈনিক হতে। কেউ তাঁকে চাপ দিয়ে বলবে, এখনো কেন স্বেচ্ছাসেবী হওনি—সে রকম সুযোগ কাউকে দিতে চাননি তিনি।
কার জন্য লড়াই করবেন রুসলান? কোন দেশের জন্য? কোন ভাষার জন্য? কোন সংস্কৃতির জন্য?
‘আমার কাছের মানুষদের জন্য, আমার প্রেমিকার জন্য, আমার দাদি-নানির জন্য, আমার দেশের মাটির জন্য লড়াই করব। এদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার...। কিন্তু সত্যি বলতে কি আপনার প্রশ্নটি খুবই জটিল।’
এ কথা বলে রুসলান ব্যাখ্যা করেন, যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখন দনবাসের একটা ছোট্ট শহরে বসবাস করতেন। বাড়িতে কথা বলতেন রুশ ভাষায়, স্কুলে পড়তে হতো ইউক্রাইনি ভাষায়। ‘আমি ইউক্রেনে বড় হয়েছি। আমার ভাষা ও সংস্কৃতি রুশ। ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিজেকে ইউক্রেনি হিসেবেই ভেবেছি। কিন্তু তারপর যখন ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আমাদের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে, তখন থেকেই আমার ভাবনা পরিবর্তিত হয়েছে।’
এ সময় আরও জনা ১৫ স্বেচ্ছাসেবী এই স্কুলের সামনে এসে উপস্থিত হন। তাঁদের সবাই যুবক। স্কুলে গিয়ে সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে স্বেচ্ছাসেবী হতে এসেছেন তাঁরা। এই যুবকদের সঙ্গে তাঁদের স্বজনেরাও এসেছেন। এসেছেন নারীরা। এসেছেন তাঁদের স্বামী কিংবা প্রেমিককে বিদায় জানাতে। এই নারীদের কেউ কেউ একটু আড়ালে গিয়ে উত্তেজনায় সিগারেট টানছেন। তাঁদের সবার চোখ কান্নার কারণে লাল হয়ে আছে। যে মেয়েটির কথা বলছি, তিনি এসেছেন তাঁর ৩৮ বছর বয়সী স্বামীর সঙ্গে। এয়ারপোর্ট থেকে খানিকটা দূরে ছিল তাঁদের বাসা। কিন্তু ইউক্রেনে বাহিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণের কারণে সেই বাসা ছেড়ে তাঁদের চলে আসতে হয়েছে অন্য এলাকায়। তাঁর স্বামী খনিশ্রমিক। বহুদিন ধরে বেতন পান না। তিনি যে আয় করেন, তা দিয়েই সংসার নির্বাহ করতে হয়। জানালেন, ‘আমার এই সদ্য পরিচিত নারী। বেতন হিসেবে তিনি পান সাকুল্যে ১০ হাজার ইউক্রেনি টাকা।
আশার আলো জাগানো বক্তৃতা
দানিয়েৎস্কের প্রশাসনিক অধিকর্তা আলেক্সেই কুলেজমিন সামরিক পোশাক পরে এখানে সমবেত মানুষদের সামনে চলে এসেছেন। চওড়া কাঁধের পুরুষ তিনি। সমবেত স্বেচ্ছাসেবীদের মন ভালো করে দেওয়ার জন্য তিনি কথা বলছিলেন। এই লোকেরা কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো ফ্রন্টে অবতীর্ণ হবেন যুদ্ধে। তিনি বলছেন, ‘আপনারা এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। এর মানে কিন্তু এই নয় যে, কালই আপনাদের আমরা ফ্রন্টে পাঠিয়ে দেব। আসলে আমরা এক হচ্ছি শুধু এই কারণে যে, শত্রুকে বুঝিয়ে দেব নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত।’
'আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। রুশ-মাতা আমাদের সাহায্য করার জন্য আসবে’, এই কথা বলে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করলেন।
এর পর তিনি গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে গেলেন। গাড়িগুলোর চতুর্দিকে নিশানা করে অস্ত্র রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবীদের কেউ কেউ উঠলেন গাড়িগুলোয়।
যোদ্ধাদের কাছে আহ্বান এসেছে যুদ্ধে যাওয়ার। বাস প্রস্তুত। স্বেচ্ছাসেবীরা বাসে উঠছেন ধীরে ধীরে। বাসগুলো রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজ ভেসে আসে দূর থেকে। গুলিবিনিময়ের শব্দে সচকিত হয়ে ওঠে সবাই। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ দানিয়েৎস্কের যুবকদের ডাকছে।
ফরাসি পত্রিকা লা ফিগারোয় প্রকাশিত নিবন্ধটি ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে রুশ পত্রিকা ইনসোমি। রুশ থেকে আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য লেখাটি অনুবাদ করেছেন জাহীদ রেজা নূর।

ফরাসি পত্রিকায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত (রুশ অনুবাদ ২৪ ফেব্রুয়ারি) লা ফিগারোর প্রতিবেদক আলেন বারল্যু দানিয়েৎস্কের সেই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভর্তি করা হচ্ছিল সেনাবাহিনীতে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মানুষদের ডাকা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য।
রুশ সমর্থক দানিয়েৎস্ক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে মস্কো। আর সে কারণে এখানকার ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষেরা ফ্রন্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
‘কেন আমি আমাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে যাচ্ছি? কারণ, এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই’, বললেন রুসলান, ২২ বছর বয়সী যুবক। তাঁর দিকে তাকালে মনে হবে একেবারে বাচ্চা একটা ছেলে। বোঝাই যাবে না সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ইংরেজি ভাষার একজন শিক্ষক। রুসলানের চেহারায় সৈনিকের কোনো ছাপ নেই। কিন্তু এই না থাকা দমিয়ে দেয়নি রুসলানকে। তিনি সরাসরি এসেছেন সেনাবাহিনীকে স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়ার জন্য।
রুসলান একা এসেছেন। তাঁকে বিদায় দেওয়ার জন্য আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী কেউ হাজির হননি। এখন তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার অপেক্ষা করছেন। যে জায়গাটার কথা বলছি, সেটা দানিয়েৎস্ক শহরের ১৯ নম্বর স্কুল ভবন। ২০১৫ সালে রুসলান যখন আরও ছোট, তখন বসবাস করতেন কিয়েভস্কি রাইয়নে। সে সময় ইউক্রেন সেনাবাহিনীর চালানো হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল পুরো এলাকা। এখানকার বাড়িঘরগুলো এখনো সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
রুসলানের মতো স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা অনেক। কেউ তাঁর চেয়ে বয়সে বড়, কেউ ছোট। সবার কাছে ছোট একটা স্পোর্টস ব্যাগ, যাতে রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই ব্যাগ কাঁধে নিয়েই প্রত্যেকে অপেক্ষা করছেন কখন সেনা কর্মকর্তা তাঁদের স্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শামিল হতে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং এরপর একটি বাস তাঁদের নিয়ে যাবে ফ্রন্টে। বাসটি দাঁড়িয়ে আছে স্কুল ভবনের সামনেই।
যদিও এদের প্রায় কেউই গত বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন না, তবু বলা যায়, বহুদিন আগে থেকেই এই স্বেচ্ছাসেবীরা জানেন যুদ্ধ কাকে বলে। আমরা যখন তাদের প্রশ্ন করছিলাম, 'আপনারা কি জানেন, আপনাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে?’
স্বেচ্ছাসেবীদের কেউই সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী ছিলেন না। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ ছিল না। তাঁরা শুধু বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বার্তা যে, আমরা ফিরে আসতে পারব।’
কিন্তু যার সঙ্গে কথা বলছিলাম, তাঁর মুখ ছিল বিবর্ণ। বোঝা যাচ্ছিল, এক ধরনের মানসিক চাপে আছেন তিনি। রুসলান ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানেই স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকদের তালিকা করা হয়েছে। যখন দানিয়েৎস্ক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়েছে, যখন তার স্বীকৃতি মিলেছে রাশিয়া থেকে, তখনই বোঝা গেছে—ফ্রন্টে যাওয়ার সময় উপস্থিত।’
বন্ধ হোক এই যুদ্ধ
গত শনিবার যখন দানিয়েস্ক আর লুগানস্ক থেকে ঘোষণা করা হলো, স্বেচ্ছাসেবী সৈন্য দরকার, তখন দানিয়েৎস্কের নেতা দেনিস পুশিলিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবীদের নেওয়া হবে ধীরে ধীরে। তার পাশে বসে ছিলেন রাশিয়ার প্রতিনিধি।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে পঞ্চাশ শতাংশ কর্মীকে নাম লেখাতে হবে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী সবাই পড়বে এর মধ্যে। বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী আগের মতোই কাজ করে যাবেন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে। ইংরেজির শিক্ষক রুসলান শুধু স্বেচ্ছাসেবী নন, তিনি কারও সঙ্গে কথা না বলেই সরাসরি চলে এসেছেন সৈনিক হতে। কেউ তাঁকে চাপ দিয়ে বলবে, এখনো কেন স্বেচ্ছাসেবী হওনি—সে রকম সুযোগ কাউকে দিতে চাননি তিনি।
কার জন্য লড়াই করবেন রুসলান? কোন দেশের জন্য? কোন ভাষার জন্য? কোন সংস্কৃতির জন্য?
‘আমার কাছের মানুষদের জন্য, আমার প্রেমিকার জন্য, আমার দাদি-নানির জন্য, আমার দেশের মাটির জন্য লড়াই করব। এদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমার...। কিন্তু সত্যি বলতে কি আপনার প্রশ্নটি খুবই জটিল।’
এ কথা বলে রুসলান ব্যাখ্যা করেন, যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখন দনবাসের একটা ছোট্ট শহরে বসবাস করতেন। বাড়িতে কথা বলতেন রুশ ভাষায়, স্কুলে পড়তে হতো ইউক্রাইনি ভাষায়। ‘আমি ইউক্রেনে বড় হয়েছি। আমার ভাষা ও সংস্কৃতি রুশ। ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিজেকে ইউক্রেনি হিসেবেই ভেবেছি। কিন্তু তারপর যখন ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আমাদের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে, তখন থেকেই আমার ভাবনা পরিবর্তিত হয়েছে।’
এ সময় আরও জনা ১৫ স্বেচ্ছাসেবী এই স্কুলের সামনে এসে উপস্থিত হন। তাঁদের সবাই যুবক। স্কুলে গিয়ে সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে স্বেচ্ছাসেবী হতে এসেছেন তাঁরা। এই যুবকদের সঙ্গে তাঁদের স্বজনেরাও এসেছেন। এসেছেন নারীরা। এসেছেন তাঁদের স্বামী কিংবা প্রেমিককে বিদায় জানাতে। এই নারীদের কেউ কেউ একটু আড়ালে গিয়ে উত্তেজনায় সিগারেট টানছেন। তাঁদের সবার চোখ কান্নার কারণে লাল হয়ে আছে। যে মেয়েটির কথা বলছি, তিনি এসেছেন তাঁর ৩৮ বছর বয়সী স্বামীর সঙ্গে। এয়ারপোর্ট থেকে খানিকটা দূরে ছিল তাঁদের বাসা। কিন্তু ইউক্রেনে বাহিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণের কারণে সেই বাসা ছেড়ে তাঁদের চলে আসতে হয়েছে অন্য এলাকায়। তাঁর স্বামী খনিশ্রমিক। বহুদিন ধরে বেতন পান না। তিনি যে আয় করেন, তা দিয়েই সংসার নির্বাহ করতে হয়। জানালেন, ‘আমার এই সদ্য পরিচিত নারী। বেতন হিসেবে তিনি পান সাকুল্যে ১০ হাজার ইউক্রেনি টাকা।
আশার আলো জাগানো বক্তৃতা
দানিয়েৎস্কের প্রশাসনিক অধিকর্তা আলেক্সেই কুলেজমিন সামরিক পোশাক পরে এখানে সমবেত মানুষদের সামনে চলে এসেছেন। চওড়া কাঁধের পুরুষ তিনি। সমবেত স্বেচ্ছাসেবীদের মন ভালো করে দেওয়ার জন্য তিনি কথা বলছিলেন। এই লোকেরা কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো ফ্রন্টে অবতীর্ণ হবেন যুদ্ধে। তিনি বলছেন, ‘আপনারা এখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। এর মানে কিন্তু এই নয় যে, কালই আপনাদের আমরা ফ্রন্টে পাঠিয়ে দেব। আসলে আমরা এক হচ্ছি শুধু এই কারণে যে, শত্রুকে বুঝিয়ে দেব নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত।’
'আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। রুশ-মাতা আমাদের সাহায্য করার জন্য আসবে’, এই কথা বলে তিনি তাঁর ভাষণ শেষ করলেন।
এর পর তিনি গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে গেলেন। গাড়িগুলোর চতুর্দিকে নিশানা করে অস্ত্র রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবীদের কেউ কেউ উঠলেন গাড়িগুলোয়।
যোদ্ধাদের কাছে আহ্বান এসেছে যুদ্ধে যাওয়ার। বাস প্রস্তুত। স্বেচ্ছাসেবীরা বাসে উঠছেন ধীরে ধীরে। বাসগুলো রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজ ভেসে আসে দূর থেকে। গুলিবিনিময়ের শব্দে সচকিত হয়ে ওঠে সবাই। অর্থাৎ, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই যুদ্ধ দানিয়েৎস্কের যুবকদের ডাকছে।
ফরাসি পত্রিকা লা ফিগারোয় প্রকাশিত নিবন্ধটি ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে রুশ পত্রিকা ইনসোমি। রুশ থেকে আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য লেখাটি অনুবাদ করেছেন জাহীদ রেজা নূর।

ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার আর সাধারণ নাগরিক অধিকার নয়, বরং সরকারের দেওয়া ‘বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে গণ্য হবে। ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাঁদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে বা যাঁরা সরকারি যাচাই
৪ ঘণ্টা আগে
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ায় ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্কের খড়্গ চালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কসহ উত্তর ইউরোপ ও পশ্চিম ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
৪ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কয়েক মাস আগেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযানের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তি।
৭ ঘণ্টা আগে
আল-জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সেরদার জানান, খামেনির বক্তব্যে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন তথ্য উঠে এসেছে। সেটা হলো, প্রাণহানির সংখ্যা। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম খামেনি নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন। তিনি বলেছেন, সহিংস বিক্ষোভকারীরা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।’
৭ ঘণ্টা আগে