
নির্বাচনী বিপর্যয়, বিতর্কিত নিয়োগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। মে মাসের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই মূলত তাঁর পদত্যাগের দাবি ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, নিজের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে স্টারমার এখন ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা’ বিবেচনা করছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ এক ক্যাবিনেট সহযোগী।
যদিও ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। স্টারমার নিজেও এ ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি। ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে পদত্যাগের খবর দিচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তো বটেই, তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে নিশ্চিত করেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করবেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কিয়ার স্টারমার। তিনি দুটি বিষয়ে বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি (উত্তর সাগরে তেল উন্মুক্ত করো)। আমি তাকে শুভকামনা জানাই।’
ট্রাম্পের এই কাণ্ড নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান। এই রক্ষণশীল টিভি তারকা এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ব্রেকিং: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করছেন...স্টারমার নিজে বলার আগেই ট্রাম্প এ খবর নিশ্চিত করেছেন। এটা হলো চূড়ান্ত অপমান।’
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবি ঘটে। ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর পদ হারায়। একই সঙ্গে ওয়েলসে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয় দলটিকে। স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনেও দলটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিপর্যয়কর ফলাফল করেছে। এই ভরাডুবির পর থেকেই মূলত স্টারমারের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
BREAKING: President Trump confirms Keir Starmer is resigning as Prime Minister... before Starmer has confirmed it himself. The final humiliation. pic.twitter.com/yz33xD4rPt
— Piers Morgan (@piersmorgan) June 21, 2026
তবে কেবল এই নির্বাচনই নয়, স্টারমারের বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল বেশ আগে থেকেই। বিশেষ করে গত বছর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তিনটি বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের (ইউ-টার্ন) কারণে তার নেতৃত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টারমারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচারবুদ্ধি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। প্রয়াত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে লর্ড ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর তাকে তড়িঘড়ি করে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ঘটনা স্টারমার প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।
এতদিন দলের ভেতরে নিজের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে কোনো চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে গত বৃহস্পতিবার মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের দুর্দান্ত জয় পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে।
উগ্র ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-কে পরাজিত করে বার্নহাম লেবার পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা বৃদ্ধি করেছেন, যা দলটির সাম্প্রতিক পরাজয়ের ধারাকে রুখে দিয়েছে। বার্নহামের এই জয় স্টারমারের নেতৃত্বের বিপরীতে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তাঁকে দাঁড় করিয়েছে।
মেকারফিল্ডের এই ফলাফলের পর স্টারমারের সুর নরম হতে শুরু করেছে। গতকাল রোববার তাঁর ক্যাবিনেট সহযোগী পিটার কাইল ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এখন সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা’ বিবেচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কাইলের এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে স্টারমার হয়তো নিজের অবস্থান ধরে রাখার ব্যাপারে আপস করতে অথবা দলের ভেতরে নেতৃত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার আগেই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে...
২৭ মিনিট আগে
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর নাটকীয় জয় পেয়েছেন কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এস্প্রিজেলা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত এবং সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের নীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
১ ঘণ্টা আগে
পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে ভারতীয় পণ্য ও মানুষ চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৭ থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সীমান্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এসব অবকাঠামো তৈরি করবে ভারতের ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ (এলপিএআই)।
৪ ঘণ্টা আগে