স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ১০

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দুর্ঘটনায় ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ঢালু জায়গায় উল্টে পড়ে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি জানায়, আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর মাদ্রিদের দক্ষিণে তোলেদো প্রদেশের মোরো ও অর্গাজ পৌর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক সরকার কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্থানীয় টেলিভিশনকে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত একটি ট্রেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেন জড়িত। ইরিওর ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া রুটে চলাচল করে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রেলপথে চলাচলকারী সব ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়েছে।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইরিও পরিচালিত ট্রেনটিতে ১৪৬ জন যাত্রী ও একটি শিশু ছিল। অন্যদিকে রেনফের ট্রেনটিতে ছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রেনে ৫৪৪ জন যাত্রী ও একটি শিশু ছিল।
স্পেনের জরুরি সেবা বিভাগের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ দল, তিনটি হেলিকপ্টার এবং নিবিড় পরিচর্যার সুবিধাসম্পন্ন দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি রেললাইনের পাশে উল্টে পড়া বগি দেখা গেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ঘটনায় দেশটির কয়েকজন রাজনীতিক তাঁদের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করেছেন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের আদামুজ এলাকায় আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন। সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি দেশটির দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আদামুজ ও উর্দার দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।









