
চীনের উত্তর-পশ্চিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শিনজিয়াং। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন প্রায় ৩০ কোটি পর্যটক। এতে আয় হয়েছে প্রায় ৩৬০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। কিন্তু অনেকে মনে করেন, এই সাফল্যের আড়ালে রয়ে গেছে এমন এক শিনজিয়াং, যার বাস্তব চিত্র সাধারণ পর্যটকেরা দেখতে পান না।
এই বিষয়ে এক প্রতিবেদনে রোববার (২ নভেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, একসময় শিনজিয়াং ছিল অশান্ত এলাকা। বেইজিংয়ের শাসনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলমানদের আন্দোলন, সহিংসতা এবং পরবর্তীকালে বন্দিশিবিরে ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে আটক রাখার অভিযোগ—ওই অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক মহলে কুখ্যাত করে তুলেছিল। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা একে মানবতাবিরোধী অপরাধ বললেও, চীন বরাবরই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে প্রবেশাধিকার দিতে অনীহা দেখিয়েছে।
বর্তমানে শিনজিয়াংকে সাজানো হচ্ছে এক নতুন পর্যটন স্বর্গ হিসেবে। চীন সরকার কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সেখানকার অবকাঠামো, রাস্তা ও হোটেল নির্মাণে। বিখ্যাত হিলটন ও ম্যারিয়টসহ ২০০টির বেশি আন্তর্জাতিক হোটেল ইতিমধ্যেই সেখানে কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নাটক, টেলিভিশন সিরিজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিনজিয়াংকে ‘স্বর্গের বাগান’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের নাগরিক সান শেংইয়া ২০২৪ সালের মে মাসে শিনজিয়াং ঘুরে এসে বলেছেন, ‘এ যেন একসঙ্গে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও মঙ্গোলিয়া।’ তবে তিনি লক্ষ্য করেছেন সর্বত্র পুলিশ চৌকি, নিরাপত্তা ক্যামেরা ও বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত হোটেল। এসব যেন কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত।
অন্যদিকে, কিছু পর্যটক বলেছেন শিনজিয়াং গিয়ে তাঁরা উইঘুর সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাননি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাবার্তার সুযোগ সেখানে সীমিত। এমনকি সেখানকার অনেক মসজিদে প্রবেশও নিষিদ্ধ। ফলে অনেকে মনে করেন, এখানে দেখানো সংস্কৃতি ‘পর্যটকবান্ধব নতুন এক সংস্করণ’, যেখানে বাস্তব উইঘুর জীবনের সংগ্রাম অনুপস্থিত।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শিনজিয়াংয়ের শত শত গ্রাম ও এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব নামের অনেকগুলোই ছিল ইসলাম বা উইঘুর ইতিহাস সংশ্লিষ্ট। অনেক মসজিদ ধ্বংস বা অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এসব কিছুর পরও শিনজিয়াংয়ের পর্যটন বাণিজ্য ফুলেফেঁপে উঠছে। চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবো ও রেডননোটে ভেসে বেড়াচ্ছে এই অঞ্চলের স্বপ্নময় হ্রদ, মরুভূমি, তুষারঢাকা পর্বত ও সোনালি বনভূমির ছবি। তবে সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর এখন একেবারেই অনুপস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উইঘুর বংশোদ্ভূত কর্মী ইরাদে কাশগারি বলেন, ‘চীন আমাদের সংস্কৃতিকে পর্যটন সামগ্রী বানিয়ে ফেলেছে। তারা দুনিয়াকে দেখাতে চায় আমরা শুধু রঙিন পোশাক পরে নাচ-গান করা মানুষ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি চাই মানুষ সেখানে যাক, সৌন্দর্য দেখুক, কিন্তু বাস্তব সমস্যাও বুঝুক। কারণ, আমার মতো অনেকে হয়তো আর কোনো দিন নিজের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারবে না।’
শিনজিয়াং তাই যেন আজ দ্বিমুখী এক প্রতিচ্ছবি। চীনের কাছে এটি এক সফল পর্যটন প্রকল্প, কিন্তু বহু উইঘুরের কাছে এটি হারানো ঘর, হারানো স্বাধীনতার প্রতীক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের তিন ঘণ্টাব্যাপী ‘খুব ভালো’ বৈঠক হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের সঙ্গে খুব ভালো, খুবই ফলপ্রসূ একটি বৈঠক হয়েছে।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার
২৬ মিনিট আগে
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো একা নিরাপত্তা নিশ্চিত বা বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিশ্ব নজিরবিহীন নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।
১০ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
১১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে