Ajker Patrika

নির্ভরশীলতায় চীনে প্রথমবারের মতো শিশুদের ছাড়িয়ে গেছেন প্রবীণেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নির্ভরশীলতায় চীনে প্রথমবারের মতো শিশুদের ছাড়িয়ে গেছেন প্রবীণেরা
ছবি: বিবিসি

চীনে প্রথমবারের মতো শিশুদের তুলনায় প্রবীণ মানুষের ভরণপোষণের দায়িত্ব বেশি পড়েছে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং জন্মহার কমে যাওয়ার কারণে চীনের জনমিতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশটির অর্থনীতি, পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পারিবারিক ব্যয়ের ওপর।

সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় নির্ভরশীল প্রবীণ মানুষের অনুপাত বেড়ে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিশুদের তুলনায় প্রবীণদের নির্ভরশীলতার হার ছাড়িয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ প্রবীণ। অন্যদিকে, ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।

চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সংখ্যাগত পার্থক্য এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে দেশটি ক্রমবর্ধমান বার্ধক্যপ্রবণ সমাজে প্রবেশ করছে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক প্রবণতার অংশ, সাময়িক কোনো ঘটনা নয়।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক স্টুয়ার্ট গিটেল-বাস্টেনের মতে, এই পরিবর্তন প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এর ফলে পরিবার ও শিক্ষাখাতে সরকারি ব্যয়ের তুলনায় পেনশন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় বাড়তে পারে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মু ঝেং বলেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর ছিল বিতর্কিত এক সন্তান নীতি। দেশটির সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ নীতির ফলে প্রায় ৪০ কোটি জন্ম প্রতিরোধ করা হয়েছিল। তবে এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিবার গঠনে বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও জন্মহার বাড়াতে পারেনি বেইজিং। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার প্রসার ও নারী-পুরুষের পরিবর্তিত সামাজিক ভূমিকা জন্মহার কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

প্রবীণদের সহায়তায়ও ব্যয় বাড়াচ্ছে চীন সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি প্রবীণ নাগরিক বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ভরশীলতার অনুপাত দিয়ে প্রবীণদের বাস্তব অবদান পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় না। অনেক প্রবীণ সুস্থ, আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং পরিবারের জন্য সহায়ক। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির বিষয়টিও এই পরিসংখ্যানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত