প্রতিবছরই ভ্যালেন্টাইন ডে-তে চকলেট দেওয়ার একটি রীতি ছিল জাপানের কর্মস্থলগুলোতে। ‘গিরি-চোকো’ বা ‘বাধ্যতামূলক চকলেট’ দেওয়ার এই রীতি একসময় জাপানের অফিস সংস্কৃতির অংশ ছিল।
পশ্চিমা বিশ্বে ভালোবাসার এই দিনটিতে যেখানে সাধারণত পুরুষেরা নারীদের ফুল দেন, সেখানে জাপানের নারীরা তাঁদের পুরুষ সহকর্মী ও বস সহ অন্য পুরুষদের চকলেট উপহার দিতেন। ‘বাধ্যতামূলক’ শব্দটি একটু অতিরঞ্জিত শোনালেও এটি দেশটির একটি সাধারণ কর্মস্থলীয় ঐতিহ্য হয়ে উঠেছিল।
ব্লুমবার্গের এক দশক পুরোনো একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী—এই অভ্যাস এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, এটি চকলেট প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য বাড়াতে সহায়তা করেছিল।
কিন্তু কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল ধারা এই ঐতিহ্যের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। নিপ্পন লাইফ ইনস্যুরেন্সের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই বছর ভ্যালেন্টাইনের জন্য চকলেট দেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের মধ্যে সহকর্মীদের জন্য চকলেট কিনেছেন মাত্র ১৩ শতাংশ নারী।
আরেকটি সমীক্ষা বলছে, ২০১৯ সালে যেখানে ১৪ শতাংশ নারী সহকর্মীদের চকলেট উপহার দিতেন, সেখানে ২০২৩ সালে এই হার কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ শতাংশে।
শুক্রবার জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানে ফেব্রুয়ারির সেটসুবুন উৎসবে এহোমাকি সুশি খাওয়া বা ক্রিসমাসে কেনটাকি ফ্রাইড চিকেন খাওয়ার ঋতু-ভিত্তিক প্রচলনের মতো ‘গিরি-চোকো’ সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে চকলেটের বিক্রি বাড়াতে চালু হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসটি জাপানে চকলেট বিক্রির একটি প্রধান সময় হয়ে উঠেছিল।
তবে এই রীতির প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছিল। জাপানের কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত লিঙ্গবোধ এই রীতিকে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ বলে মনে করতে শুরু করে।
২০১৮ সালে বেলজিয়ান চকলেট প্রস্তুতকারী কোম্পানি গডাইভা জাপানের নিক্কেই পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। বিজ্ঞাপনে তারা জাপানকে গিরি-চকো রীতি বন্ধ করার আহ্বান জানায় এই যুক্তিতে যে, এটি নারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
এই রীতিতে শেষ ধাক্কাটি লাগে করোনা মহামারির সময়। কারণ সেই সময়টিতে কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের উপস্থিতি অনেক কমে গিয়েছিল। এভাবে সে সময় ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে অফিসে না থাকার একটি সুবিধাজনক অজুহাত তৈরি হয়েছিল।
তবে পুরুষদের জন্য বিষয়টি একেবারে সহজ ছিল না। ঐতিহ্য অনুসারে তাঁরা ‘হোয়াইট ডে’ অর্থাৎ ১৪ মার্চে নারীদের চকলেটের প্রতিদান দিতে বাধ্য ছিলেন। এই রীতিটি চালু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে। এই দিনটিতে পুরুষেরা সাধারণত মিষ্টান্ন বিতরণ করেন।
তবে আজকাল জাপানিরা এই ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আসছে। শুধু অফিস নয়, চকলেট উপহারের ক্ষেত্রটি বরং আরও প্রসারিত হয়েছে। যেমন—জাপানিরা এখন বন্ধুবান্ধবকে দেন ‘টোমো-চোকো’, ‘কাজোকু-চোকো’ পরিবারের জন্য এবং সর্বোপরি ‘জিবুন-চোকো’ অর্থাৎ নিজের জন্য চকলেট কেনারও প্রচলন বাড়ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে চকলেট শিল্পের বিক্রি সংকুচিত না হয়ে বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে চকলেট খাওয়ার পরিমাণও এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।
অন্যান্য শিল্পও এই পরিবর্তন থেকে শিক্ষা নিচ্ছে। ফুলের ব্যবসায়ীরা পুরুষদের মধ্যে ভালোবাসা প্রকাশের প্রবণতা বাড়ানোর জন্য প্রচারণা চালিয়েছে। এর ফলে ২০১৩ সালে যেখানে মাত্র ১.৭ শতাংশ পুরুষ ভ্যালেন্টাইনসে ফুল দিতেন, সেখানে ২০২৩ সালে এই হার বেড়ে ১৪ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে।
তাহলে কে বলেছে, রোমান্স মরে গেছে?

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার এক মাস পার হলেও হাজার হাজার পরিবার আজও বাস্তুচ্যুত। অন্যদিকে নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়টি সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয়জন, ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে....
১ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তাবিত ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য।
২ ঘণ্টা আগে
বদলাচ্ছে বিশ্বের আবহাওয়া। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সামলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের সমাধান খুঁজতে বেইজিংয়ে সম্প্রতি হয়ে গেল ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রিফুড ইনোভেশন কনফারেন্স’। বিশ্বের ৩০টির বেশি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অন্তত ৩০০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ...
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আয়োজনকে ঘিরে নানান আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি দল বিজেপি এটিকে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করলেও, বিরোধীরা এর সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন...
৪ ঘণ্টা আগে